যুবলীগ নেতা পেলেন যুবদলের আহবায়কের পদ

0 ১৩

নাম সোহেল সামাদ। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘ বছর যাবত উপজেলা যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ছিল চরম সখ্যতা। দলীয় কোনো পদ পদবি না থাকলেও এলাকার লোকজন চেনেন তাকে যুবলীগ নেতা হিসেবে।

বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচন এবং নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছিলেন সক্রিয়। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার অসংখ্য ছবি এখন ফেসবুকে ভাইরাল। সম্প্রতি তিনি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের মুরাদনগর উপজেলা শাখার আহবায়কের পদ পেয়েছেন।

এ নিয়ে চলছে এলাকায় ব্যপক সমালোচনা। আলোচিত সমালোচিত এই নেতার বেশ কিছু ছবি ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হঠাৎ দল বদল করে কীভাবে রাতারাতি এত বড় নেতা হওয়া যায় এটার দৃষ্টান্ত খোদ সোহেল সামাদ। তিনি মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পীর কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় যুবদল। গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা যুবদল এ কমিটি অনুমোদনের কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্যবিশিষ্ট মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে মো. সোহেল সামাদকে আহবায়ক, মাসুদ রানাকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং সৈয়দ হাসান আহাম্মদকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে দলের ভেতরে বাহিরে কারও আপত্তি না থাকলেও আহবায়ক সোহেল সামাদকে নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। রাতারাতি ভোল পাল্টে তিনি কীভাবে বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠনের এত বড় পদ পেলেন এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা জানান, সোহেল সামাদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকা অবস্থায় তার ইন্ধনে অনেক নেতাকর্মী পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে এত বড় পদ দিয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।

এ বিষয়ে সোহেল সামাদ বলেন, আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি। আমি যুবদলের আহবায়ক পদ পাওয়ার কারণে দলের বিদ্রোহী একটি গ্রুপ এসব ছবিই ফেসবুকে ভাইরাল করছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠন এবং অনুমোদন করার কথা। কিন্তু মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি কীভাবে অনুমোদন পেল আমরা তা জানি না।

উৎসঃ   jugantor
Comments
Loading...