রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য সাম্প্রদায়িক হামলা: নুর

0 ১৪

সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, এই সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায়। রামুর ঘটনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনা, ভোলা, যশোরের অভয়নগর, শাল্লা সহ বিভিন্ন জায়গায় যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটেছে, এগুলো সব ক্ষমতাসীন সরকারের শাসনামলে ঘটেছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন,পদ্মা সেতুর ওপার থেকে ভিনদেশী পাগল উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য এই পার্শ্ববর্তী দেশের এজেন্টরা এই দেশে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে কিনা প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত আমরা দেখিনি। একটা ঘটনারও তদন্ত হয় নাই। এর মধ্য দিয়ে কিন্তু আমরা ধারণা করতে পারি এইগুলো সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য ঘটাচ্ছে। মন্দিরে কুরআন অবমাননার যে কল্পিত ঘটনা, এই ঘটনাটি আমাদের কাছে মনে হয়েছে সাজানো এবং পরিকল্পিত। এই ঘটনার সাথে কোন হিন্দু মুসলিম জড়িত নয়, এই ঘটনার সাথে দুর্বৃত্তরা জড়িত। সেই দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার ঘটনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ঘটনাগুলো পত্র-পত্রিকা এবং ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে আপনারা জানতে পেরেছেন কুমিল্লাতে যখন চার ঘন্টা হামলা ভাংচুর চলেছে, ১১ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত হামলাকারীরা যখন মঈ, হাতুড়ি, হেলমেট লাঠিসোটা নিয়ে মন্দির ভাঙচুর করেছে, প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, সেসময়ে তারা পুলিশ ফায়ার সার্ভিস সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলো, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বারবার সহযোগিতা চাইলেও কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি।

নুরুল হক নুর বলেন, আজকে রংপুর আগুনে জ্বলেছে আপনারা দেখেছেন। গাইবান্ধার সেই সাঁওতাল পল্লীর ঘটনা ঘটনায় আমরা দেখেছি পুলিশ কিভাবে সেখানে আগুন দিয়েছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, একদল অন্য দলের ওপর দায় চাপানোর এই গতানুগতিক বক্তব্য নয়, অতি দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে শাহবাগে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা বিক্ষোভ করেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা তাদের প্রতি সংহতি জানাই। আমরাও আজকে এই প্রোগ্রাম থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সাম্প্রদায়িক হামলা, দাঙ্গা’র সাথে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে যারা জড়িত তাদের বিচারের দাবি করছি। যে সমস্ত মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে সরকারি খরচে সে সমস্ত মন্দির পুনঃনির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে নামেমাত্র তিন হাজার, পাঁচ হাজার টাকা নামেমাত্র সহযোগিতা নয়, যারা যতটুকু পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ সহযোগিতা তাদেরকে যেন করা হয। শুধু লোক দেখানোর তদন্ত কমিটি, ঘটনাস্থল পরির্দশন, এর মধ্যেই যেন এই ঘটনার সীমাবদ্ধতা না থাকে, এর মধ্যে যেন এটা শেষ না হয়ে যায়।

নুর বলেন, আমরা আরেকটি ঘটনায় উদ্বিগ্ন হই যখন আমাদের দেশের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং তার দোসররা বাংলাদেশকে আক্রমণ করার জন্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়। সেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলকেই বলতে চাই বাংলাদেশ একটা অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল ধর্ম, মত-পথের মানুষ তাদের ধর্মের স্বাধীনতা থেকে সমস্ত অধিকার ভোগ করবে, এটি সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই ফয়সালা হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আজকে এদেশের যারা অধিকার বঞ্চিত, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সংখ্যাগুরু মানুষকে পাশে দাঁড়াতে হবে, কথা বলতে হবে। তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের দাঁড়াতে হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন সময়ে যে অঘটন ঘটিয়ে থাকে এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে।

সরকারের সমালোচনা করে নুর বলেন, সরকারকে ছেড়ে দিলে হবে না। সরকার এই ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে চায় না, বিচার করতে চায়না। কারন তাহলে তাদের থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। আপনারা দেখেছেন নাসিরনগরে মন্দির ভাংচুরে জড়িত তিনজনকে স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা কি বুঝতে পারি? এই সরকার এই অপশক্তিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একটা ঘটনার বিচার হচ্ছে না, তদন্ত হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য ঠিকই নোয়াখালীতে তিন হাজার মানুষকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দিয়েছে। চাঁদপুরে আড়াই হাজার মানুষকে অজ্ঞাত নামা মানুষকে আসামি করে মামলা দিয়েছে, ঢাকার কাকরাইল-পল্টনে চার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় এই শান্তিপ্রিয় মানুষকে উসকে দিতে তারা মিছিলে গুলি চালাচ্ছে। মিছিলে গুলি চালিয়ে তারা মানুষ হত্যা করে, আসামি করে মামলা দিয়েছে, মসজিদে উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে উস্কে দিচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত এমপি মন্ত্রী যারাই হোক না কেন, সরকারি দল বিরোধী দল যাই হোক না কেন, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মশাল মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এসময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে এ সমাবেশ শেষে সন্ধার দিকে সাম্প্রদায়িক হামলা, তান্ডব, লুটপাটের প্রতিবাদে ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্বে মশাল মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় মদদে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল ৮ টি ছাত্র সংগঠন। এসময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করেন তারা।

উৎসঃ   দ্যা ডেইলি স্টার
Comments
Loading...