শাপলা চত্বরেই ‘আটকা’ হেফাজত

0 ৬১

সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সরকার কঠোর অবস্থানে গেলেও ২০১৩ সালের মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ৮ বছর আগের ওই ঘটনায় করা মামলাগুলো সক্রিয় করে তদন্ত করছে পুলিশের বিভিন্ন শাখা।

সম্প্রতি হেফাজতের যেসব নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে, তাদের অনেকেরই শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলায় নাম রয়েছে। হেফাজতের অন্য শীর্ষ নেতারাও ওই মামলাগুলোতে অভিযুক্ত আছে। তারাও আটক হওয়ার পথে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক চাপে পড়েছে হেফাজত ইসলাম।

সূত্রে জানা গেছে, উপায় না পেয়ে এখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম।

সূত্র আরও জানায়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকাসহ ৭ জেলায় মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলাগুলোতে তিন হাজার ৪১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল। এরমধ্যে ২২টি মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এই মামলাগুলোর মধ্যে বাগেরহাটে করা একটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আর স্থবির অবস্থায় ছিল ৬১টি মামলা। এসব মামলাগুলোই এখন সক্রিয় করে নিষ্পত্তি করার জোর দেয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তদন্তের জন্য যেসব তথ্যপ্রমাণ ও আলামত দরকার তার সবই রয়েছে। মামলা পুরোনো হলেও তদন্তকাজ চলমান ছিল। এখন যেহেতু তদন্ত নিষ্পত্তির নির্দেশনা এসেছে, তাই তদন্ত শেষ করার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। এজাহারে থাকা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে তিন দিন ধরে হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। এসব ঘটনায় শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৪৫০ জনকে। এরমধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। যারা ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মামলায় নাম রয়েছে। এই তালিকায় হেফাজতের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর নামও রয়েছে। এছাড়া ওই মামলাগুলোতে যারা অভিযুক্ত আছেন তাদের সবার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে চাপে পড়ে যাওয়ায় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করছে দলটি। একইসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সঙ্গে বৈঠকও করেছেন হেফাজতের শীর্ষনেতারা।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই আমিরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আল্লামা শাহ আহমেদ শফী। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটায় হেফাজত। শাপলা চত্বরে অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে এক ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তারা। সে সময় শাপলা চত্বর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মী তাণ্ডব চালায়। তখন তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পরে তাদের সাথে সরকারের সুসম্পর্ক হয়। কিন্তু বরাবরই সরকারের সাথে এই সুসম্পর্কের বিরোধী ছিলেন হেফাজতের তৎকালীন মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী। এজন্য তাকে হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালকের পদ থেকে বাদ দিয়েছিলেন আল্লামা শফী। তবে তার মৃত্যুর পর বাবুনগরী আবার মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস পদে বহাল হন।

ব্রেকিংনিউজ

Comments
Loading...