করোনাসহ বিপদকালীন সময়ে আল্লাহর কাছে কী চাইবো? প্রিয় নবীর নির্দেশনা

0 ১২২

।।কাওসার আইয়ুব।।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন من لم يسال الله يغضب عليه- যে আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ তার উপর নাখোশ হন। (তিরমিযি ৩৩৭৩)

আমরা প্রতিদিন কত সমস্যায় পড়ি। কত অভাবে ভুগি। মানসিক অস্থিরতায় নিপতিত হয়। তখন আমরা সব কাজ করতে রাজি হয়ে যাই। মানুষের কাছে ধর্ণা দিতে আমাদের মনে বাধে না। মাখলুকের কাছে হাত পাততে আমাদের গায়ে লাগে না।

কিন্তু যিনি আমাদের রব, যার থেকে সকল সমস্যার সমাধান আসে; তার দরবারে ভিখারি হওয়ার তাওফিক আমাদের হয় না। আমরা মানুষের কাছে গিয়ে নিজেকে ছোট করতে পারি। কিন্তু মালিকের সামনে কাকুতি-মিনতি করতে আমাদের সময় হয় না। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, মানুষের কাছে চাইলে তারা নাখুশ হোন আর আল্লাহর কাছে না চাইলে আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হোন।

মানুষের কাছে যেকোনো সময় চাওয়া তো দূরের কথা, যে কোন সময় দেখা-সাক্ষাতও করা যায় না। মন মেজাজ খারাপ থাকলে, অসময়ে দেখা করতে গেলে তারা বরং রেগে যায়। অথচ আল্লাহ তাআলার কাছে যখন ইচ্ছা চাওয়া যায়। যখন ইচ্ছা হাত পাতা যায়।

তাঁর করোনার দরবার সব সময় খোলা। শেষ রাতে যখন সবার দরজা বন্ধ হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলার রহমতের বিশেষ দরজা খুলে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাতে জেগে আল্লাহরকাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। আর যদি ওই ব্যক্তি ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে তবে সে নামাজও কবুল করা হয়।’ (বুখারি, মিশকাত) কত মহান আমাদের রব। কত মহান আমাদের প্রভু رضيت بالله ربا- হে আল্লাহ রব হিসেবে আমরা তোমার উপর সন্তুষ্ট।

হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে রাসূল সা. নসিহত করেন, তোমার কোন কিছু চাওয়ার দরকার হলে আল্লাহর কাছে চাও, তোমার যদি সাহায্যের দরকার হয় আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। জেনে রেখো যদি গোটা জাতিও তোমার কোন উপকার করার জন্য একত্রিত হয় তবে ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন আর গোটা জাতি যদি তোমার কোন ক্ষতি করার জন্য সমবেত হয়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। (তিরমিজী)

তাই আমরা আমাদের হৃদয়ের সকল আকুতি মিনতি রবের দরবারে নিবেদন করব।

কিন্তু আমরা অনেকেই আল্লাহর কাছে চাইতে জানি না। কী চাইব বুঝতে পারি না। মুসিবতে পড়লে আল্লাহর দ্বারস্থ হই। আর যখন আনন্দ-বিনোদনে দিন কাটে আল্লাহর কথা আমরা ভুলে যাই।

তিরমিজি শরীফের বর্ণিত আছে اسال الله العفو والعافيه والمعافاه- অর্থ, তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লা বলেন- এ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতীতে নাফরমানীর জন্য ক্ষমা, বর্তমানের জন নিরাপত্তা, এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্থতার প্রার্থনা করতে বলেছেন।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. বলতেন, তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি নিরাপত্তা চাও। কেননা বিপদের আশংকা সর্বদা যাকে তাড়িয়ে বেড়ায় তার দোয়া করার প্রয়োজন দুর্দশাগ্রস্ত লোকের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

আজকে যে মুসিবতের শিকার হয়েছে সে কান্না করছে। অথচ কিছুদিন পূর্বেও সে সুস্থ ও শান্তিতে দিন অতিবাহিত করছিল। ভবিষ্যতের জন্য উৎপেতে বসে আছে সমূহ বিপদ। আজ হয়তো সেই পরম সুখে ও সমৃদ্ধিতে দিন কাটাচ্ছি। কিন্তু বিপদ আসতে বেশি সময় লাগেনা , তা সর্বদা আল্লাহ স্বরণ হোক আমাদের আদর্শ।

সুনানুল কুবরা গ্রন্থে ইমাম নাসায়ীর রহি. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই পৃথিবীতে মানুষকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম কোন নিয়ামত দেয়া হয়নি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো।

আমরা অনেক সময় প্রিয় মানুষের জন্য দোয়া করি, হে আল্লাহ দুঃখ কষ্ট যা দেয়ার দুনিয়াতে দিয়ে দাও। অথচ সহিহ মুসলিমে এসেছে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে এক সাহাবির অসুস্থতার খবর পেয়ে দেখতে গেলেন। সে সাহাবি এত দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে তাকে পাখির ছানার মতো দেখাচ্ছে। নবিজী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে কোন কিছুর জন্য দোয়া করছিলে? সে বলল হ্যাঁ! আমি দোয়া করতাম, হে আল্লাহ আখেরাতে আমাকে যে শাস্তি দিবেন তা দুনিয়াতেই দিয়ে দেন।

নবিজী বলেন- তুমি তাঁর আজাব সয্য করতে পারবে না। তোমার সামর্থ্য তা নেই। কেন এমন দুয়া করলে না ربنا اتنا في الدنيا حسنه وفي الاخره حسنه وقنا عذاب النار (উচ্ছারন রব্বানা আতিনা ফিদদুনয়া হাসানা ও ফিল আখিরতি হাসানা ও কিনা আজাবান্নার)- অর্থ, হে আল্লাহ আমাকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন আখেরাতের কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুক।

রাসুলের হাদিস ভান্ডারে ছড়িয়ে আছে এমন শত শত দোয়া আমরা এই দোয়া যথারীতি পড়ব। সময়ে সময়ে যে দোয়া গুলোর কথা আছে সেগুলো আদায় করার চেষ্টা করব। এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে الدعاء مخ العباده অর্থ দোয়াই ইবাদতের মূল। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

-কেএল

ourislam

Comments
Loading...