ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস পেয়ে এমপি হচ্ছেন শহিদ কমিশনার

0 ১৯

4038_Shahid-Commisionarবিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন পুরান ঢাকার ত্রাস বলে খ্যাত ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস পাওয়া সাইদুর রহমান ওরফে শহিদ কমিশনার। ঢাকা-৬ সংসদীয় আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে তিনি নির্বাচন করছেন।
ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নমিনেশন নিয়েছিলেন মিজানুর রহমান খান দিপু। আর জাতীয় পার্টি থেকে নিয়েছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ। আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তে মিজানুর রহমান খান দিপুকে নমিনেশন প্রত্যাহার করে সেখানে কাজী ফিরোজ রশীদকে দেয়া হয়। কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিলে ওই আসনে থাকা একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ কমিশনার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। শহিদ কমিশনার তার পক্ষে কাজ করার জন্য সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানা এলাকার সব স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ভোজসভার দাওয়াত করেছেন। আগামীকাল শুক্রবার তার বাড়িতে কয়েক শ’ শিক্ষককে দাওয়াত করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এই এলাকার শিক্ষকসমাজ এখন খুবই বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন। কারণ শহিদ কমিশনার বারবার লোক পাঠিয়ে তার দাওয়াত কবুল করতে বলেছেন। তারা জানান, সেখানে উপস্থিত না হলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদ কমিশনার যেকোনো ধরনের ক্ষতিও করতে পারেন। শিক্ষকেরা এও আশঙ্কা করেছেন, শহিদের কথা রক্ষা না করলে তিনি নির্বাচিত হলে তখন সবাইকে খেসারত দিতে হবে।
ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে মুক্তির পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন শহিদ কমিশনার। বিরোধী দলের ডাকা হরতাল কর্মসূচি শুরু হলে তিনি আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে প্রকাশ্যে ফিরেন। নিরক্ষর শহিদ নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এ জন্য তার পক্ষে বিশাল ক্যাডারবাহিনী এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, শহিদ কমিশনার নির্বাচন করছেন এ অজুহাতে এলাকায় নতুন করে শুরু করছেন চাঁদাবাজি। ঠাণ্ডা মাথার কিলার ও ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত শহিদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়।
অ্যাডভোকেট হাবিব মণ্ডল হত্যায় নি¤œ আদালতে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশও হয়। ১০ বছর জেল খাটার পর উচ্চ আদালত থেকে তিনি খালাস পান। তার বিরুদ্ধে সেন্টু ও শাহাদাত হত্যা মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে থেমে আছে। ঢালকানগরের সেলিম, ভাট্টিখানার মাহবুব, সূত্রাপুরের নাসির, মিল ব্যারাকের বুংগা বাবু, ফরিদাবাদের আনু, পিন্টু, পিন্টুর ভাই সেন্টু, পোস্তগোলার শাহাদাৎ কমিশনার, সুমন, মিল ব্যারাকের মাইকেল, ফরিদাবাদ আলমগঞ্জের বাদল এবং কেবি রোডের সেলিম হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আলোচিত শহিদ কমিশনার। এসব হত্যা মামলার বেশ কয়েকটিতে তিনি জেল খেটেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহিদ লোকজনকে ডেকে আনেন আলোচনার কথা বলে। আর ওই সব লোক ফিরে যায় লাশ হয়ে। সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর এলাকার অপরাধ জগতের এক সময়ের সম্রাট ছিলেন। অভিযোগ আছে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে তিনি ব্যবহার করেছেন কালা জাহাঙ্গীর আর ডাকাত শহিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে। অনেক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও ভয়ে কেউ সাক্ষী দিতে পারেননি। তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। গেন্ডারিয়ায় কবরস্থানের জায়গা দখল করে প্লট বানিয়ে নাম দিয়েছেন শহিদনগর। অভিযোগ রয়েছে, গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনের বিপরীতে অন্যের জমি আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দখল করেন শহিদ কমিশনার। সেখানে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন মার্কেটও। ডিআইটি প্লট বাসিন্দারা জানান, ডিআইটি প্লটের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা পুকুরটি তিনি দখলের জন্য নিজের নামে সাইনবোর্ড টানিয়েছেন। এসব ব্যাপারে শহিদ কমিশনারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এম এস

Comments
Loading...