বাংলাদেশের পথশিশুদের ১৮ লাখ টাকা দিচ্ছে ৯ বছরের হান্না

0 ৩৫

লক্ষ্য ছিল ১৭ লাখ। সেটি ছাড়িয়ে ১৮ লাখের বেশিতে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছরের বালিকা হান্না মিয়া ৪০ কিলোমিটার পথ হেঁটে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে দেশের পথশিশুদের জন্য।

রমজানের সময় ঢাকার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও দেখে হান্নার মন কাঁদে নিজ দেশের শিশুদের জন্য। অভুক্ত শিশুরা কীভাবে নেশায় আসক্ত হচ্ছে, ভিডিওতে সেটি দেখতে পায় হান্না।

হান্না তখন ১ লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে। কিন্তু ইংল্যান্ডের রোজেনডেলের সাধারণ মানুষ তাকে অবাক করে আরও বেশি অর্থ জোগাড় করে দেয়। তখন সে পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১৭ লাখ টাকা।

রবিবার খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, হান্নার সেই লক্ষ্যও ছাড়িয়ে গেছে।

হান্নার গোটা পরিবারই দাতব্য কাজে নিয়োজিত। তার দাদা মোহাম্মদ আসলাম মিয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানা সময়ে ব্রিটেনে প্রশংসিত হয়েছেন।

হান্না তহবিল সংগ্রহের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেছে। সেখানে জাতিসংঘের উদ্ধৃতি দিয়ে সে জানিয়েছে, বাংলাদেশে ৬ লাখের মতো পথশিশু আছে।

হান্নার বড় বোন আমেনাও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। মিষ্টি বিক্রি করে প্রায় ৭৩ হাজার টাকা সে দিয়েছে বোনকে।

হান্নার বাবা জুয়েল মিয়া ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবল অঙ্গনে অবদান রাখার জন্য পাঁচ বছর আগে সম্মানিত হন। মেয়ের সঙ্গে তিনিও তহবিল সংগ্রহের কাজে নেমেছেন।

জুয়েল জানিয়েছেন, তার বাবা আসলাম মিয়া ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে যান। প্রথমে ওঠেন ম্যানচেস্টার থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তরের এলাকা হাসলিংডেনে। সেখানে তিনিই প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন।

আসলাম মিয়া গত বছর যুক্তরাজ্যের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন স্যার টম মুরকে একটি চিঠি লিখে বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ভগ্ন শরীরেও হাঁটাহাঁটি করে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন এই টম মুর। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এনএইচএসের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের এপ্রিলে মুর তার শততম জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিদিন বাড়ির বাগানে ১০০ পাক করে হাঁটতেন।

এভাবে দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে ৪ কোটি ডলার করোনা তহবিলে দান করেন। ওই তহবিলে আসলাম মিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষেরাও অর্থ দেন।

Comments
Loading...