৮০০ বছর পুরানো বখতিয়ার খলজির মসজিদ আগাছায় ঢাকা!

0 ১৭৩

৮০০ বছর আগের প্রাচীন নিদর্শন রংপুরের মাহিগঞ্জ তিন গম্বুজ বখতিয়ার মসজিদটি আগাছায় ঢাকা পড়ে আছে। দ্রত এই ঐতিহাসিক নির্দেশনাকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে অধীনে নেওয়া না হলে হারিয়ে যাবে বখতিয়ার খলজির আমলে নির্মিত এই স্মৃতিচিহ্ন।

মসজিদ প্রসঙ্গে রংপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী জুননুন বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ওখানে একটি স্মৃতিফলক লাগিয়েছিলাম। ১২০০ শতকে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি চীন অভিযানে যাওয়ার সময় রংপুরে আস্তানা গেড়েছিলেন। তখন এটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদটি সংস্কারে ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় কিছু লোকের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।’

ইতিহাস লেখক জোবায়ের আলী জুয়েল বলেন, ‘বখতিয়ার খলজি ১২০৫ সালে যুদ্ধছাড়াই তৎকালিন বাংলার রাজধানী গৌড় জয়ের পর সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন। ক্রমে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন উত্তর-পূর্বে রংপুর শহরের মাহিগঞ্জে এবং পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া তীর পর্যন্ত। রংপুরে মাহিগঞ্জে তিনি একটি ছাউনি শহরও প্রতিষ্ঠা করেন। ১২০৪ সালে বঙ্গ বিজয়ের দু’বছর পর বখতিয়ার খলজি তিব্বত অভিযানকালে ঘোড়াঘাট থেকে কামরূপ যাওয়ার জন্য যাত্রাপথে রংপুরের ঘাঘট নদীর পশ্চিম পাড়ে যাত্রা বিরতি করেন। তখনকার আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। রংপুর সদরে বখতিয়ারপুর নামে একটি গ্রামও রয়েছে।

মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৩২ ফুট লম্বা, প্রস্থে ১৩ ফুট। মাটি থেকে কার্ণিশের উচ্চতা দশ ফুট। পুবদিকের দেয়ালে রয়েছে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার খিলান বিশিষ্ট প্রবেশপথ। উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালের প্রবেশ পথগুলোও প্রায় একই রকম। উত্তরের প্রবেশপথটি ছাড়া অন্য পথগুলো ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ির কাস্টেডিয়ান এসএম হাসনাত বিন ইসলাম বলেন, ‘খুব দ্রত তিনি মসজিদটি পরিদর্শন করবেন এবং এটি যাতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আনা হয় সেই চেষ্টা করবেন।’

বিডি প্রতিদিন

Comments
Loading...