বাণিজ্য মেলায় অপরিচ্ছন্ন ও অপর্যাপ্ত শৌচাগার

0

পূর্বাচলে নবনির্মিত বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কমপ্লেক্স দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করলেও প্রয়োজনের সময় এর টয়লেট ব্যবহার রীতিমতো বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিচ্ছন্ন এসব টয়লেটের মেঝেতে পানি জমে স্যাঁতসেতে হয়ে গেছে। দুর্গন্ধযুক্ত এসব টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়ে। নাকমুখ চেপে।

গতকাল সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে মেলার স্থায়ী কমপ্লেক্স বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের ভেতরে টয়লেটে গিয়ে দেখা যায়, বেসিনে সাবান, টিস্যু নেই। মেঝেতে পানি পড়ে স্যাতস্যাতে হয়ে গেছে।

পাশেই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অলস সময় পার করছেন। মেলা প্রাঙ্গণের বাইরের টয়লেটগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শতাধিক পরিচ্ছন্নকর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেলায় আসা উত্তরা এলাকার বাসিন্দা সাজিদ হোসেন বলেন, মেলার টয়লেটগুলো ব্যবহারে অনুপযোগী। ভেতরে ঢুকতে হয় প্যান্টের কাপড় উঁচু করে ধরে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলায় আসতে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। সেইসঙ্গে প্রচন্ড ধুলা। তিনি ধূলা কমাতে বাণিজ্য মেলার এ সময়ে রাস্তায় পানি ছিটানোর দাবি জানান।

photo1641050767 (2)

নারায়ণগঞ্জের বরুণা এলাকা থেকে স্বপরিবারে  মেলায় আসা রিপন সরকারও একই দাবি জানিয়ে বলেন, মেলায় যাতায়াতের সময় ধূলায় কাপড়চোপড় একদম নষ্ট হয়ে যায়। পানি ছিটালে ধূলা কিছুটা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, মেলার আজ চারদিন হলেও এখনো মেলা জমেনি। এ নিয়ে আরএফএল’র স্টলের বিক্রেতা আজম বলেন, ছুটির দিনে বাণিজ্যমেলা ভালো জমে। আশা করছি, আগামি শুক্রবার থেকে মেলা জমবে। এছাড়া মেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখনো সেভাবে পণ্যে ডিসকাউন্ট দেয়া শুরু করেনি। বিভিন্ন পণ্যে ছাড় পেলে ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে বলে তিনি মনে করেন। করোনা মহামারি আবার ইউরোপসহ অন্যান্য কিছু দেশে নতুন রূপে ছড়িয়ে পরায় এবারের বাণিজ্য মেলায় দেশের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও কিছুটা কম।

photo1641050767 (1)    

এছাড়া দেশে গত কয়েকদিনে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা বাড়লেও মেলায় মাস্ক ব্যবহারে তেমন সচেতনতা দেখা যায়নি। মাস্ক না পড়ার এ বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মাসব্যাপী মেলায় এবার দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ-সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমেলা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে খোলা থাকছে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলার প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকা ও শিশুদের ২০ টাকা। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভার থেকে মেলা প্রাঙ্গণে যাতায়াতের জন্য ৩০টি বিআরটিসির বাস চলবে। ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। ইপিবি জানিয়েছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

Comments
Loading...