হাতকড়া পরা বাবার গলা জড়িয়ে থাকা শিশুর ছবি ভাইরাল

0 ৫০

তিন বছরের দুই শিশুর মারামারি মামলায় বাবাকে জড়িয়ে মামলা করায় সেই মামলায় বাবা আদালতে হাজির হলে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত। সোমবার সকালে বাবাকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিন বছরের সেই শিশু বাবার গলা জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরে।

জানা যায়, হামিম ও আলিফের বাসা পাশাপাশি হওয়ায় তারা সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকে ও খেলাধুলা করে। পারিবারিক ভাবেও তাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এক মাস আগে বাড়ির উঠানে বসে খেলছিল হামিম ও আলিফ। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। হামিমের চোখে আঘাত আহত হয়। আলিফের পরিবার হামিমকে চিকিৎসাও করায়।

ঘটনার এক মাস পর হামিমের মা মাইসুরা বাদী হয়ে আলিফের বাবা বাহাদুর খানসহ চারজনকে আসামি করে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় সোমবার আলিফের বাবা বাহাদুর খান হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত চত্বর থেকে বাহাদুরকে যখন হাতকড়া পরিয়ে বরগুনা কারাগারে নেয় তখন সেই ছোট শিশু আলিফ বাবার গলা জড়িয়ে কান্না শুরু করে। আলিফের কান্নায় সেদিন বাবাও কান্না করে। বাবা ছেলের কান্নায় আমতলীর আকাশ ভারী হয়ে উঠে।

চারপাশে দাঁড়ানো অনেকের চোখে কান্নার অশ্রু ঝড়তে থাকে। আলিফের বাবা সবার উদ্দেশ্যে বলতে থাকে দুই শিশু সামান্য মারামারি করছে। অথচ হামিমের মা আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিল। সেই মামলায় আমার জেল হাজতে যেতে হল।

আলিফের চাচা জুয়েল বলেন, সামান্য বিষয় তারা আদালত পর্যন্ত এসেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমরা হামিমের চিকিৎসা করিয়েছি। ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলাম। তবুও তারা মামলা উঠিয়ে নেয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

অ্যাডভোকেট সুজন বলেন, বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি। শিশুরা ঝগড়া করবে আবার মিলে মিশে যাবে। শিশুদের বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিবাদ ছড়িয়ে পড়বে এটা কাম্য নয়। শিশুরা তাহলে তাদের কাছে শিখবে কী।

আমতলী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন ফরহাদ বলেন, বিষয়টি শুরু থেকেই আমি জানি। ওরা দুজনই শিশু। খেলার ছলে এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে এ ঘটনা মামলা পর্যন্ত যাওয়া ঠিক হয়নি। আমিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য কয়েকজন হামিমের পরিবারকে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল মামলা তুলে নিবে।

হামিমের মায়ের মামলার আইনজীবী মো. আরিফুল হাসান আরিফ যুগান্তরকে বলেন, হামিমের একটি চোখে মারাত্মক জখম হয়েছে। আদালতে মামলা করলে ম্যাজিস্ট্রেট এজাহার নেওয়ার জন্য আমতলী থানাকে নির্দেশ দেয়। আমরা শালিস বৈঠকে বসছিলাম। বাহাদুরকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছি। বাহাদুর মানেনি। হামিমের মা বাহাদুরের বিরুদ্ধে কেন মামলা করেছে তা জানি না।

এ বিষয়ে কথা বলতে হামিমের পরিবারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

jugantor

Comments
Loading...