অবরোধে সতর্ক থাকবেন যেসব এলাকায়

0 ১৬

DSঢাকা: টানা অবরোধ শেষ হতে না হতেই শনিবার সকাল ৬টা থেকেই শুরু হচ্ছে বিরোধী জোটের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি। কর্মসূচি সফল করার নামে মিছিলের পাশাপাশি যানবাহন ও স্থাপনায় নাশকতা চালানো হচ্ছে। তবে গত কয়েক দফা কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীতে এসব নাশকতার ঘটনা নির্দিষ্ট কিছু স্পটে সব সময় ঘটছে। রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষকে আগে থেকেই সতর্ক করে দিতে পুলিশের সহায়তায় এমন কিছু স্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এ লেখায়।

সাম্প্রতিক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি শুধু গাড়ি ভাঙচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। থামানো গাড়িতে আগুন দিয়ে, কখনও চলন্ত গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষকে দগ্ধ করার ঘটনা এখন হরহামেশা ঘটছে। এছাড়াও জনমনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে ককটেল, পটকা, হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এমন সহিংস কর্মসূচিতে ককটেল কিংবা গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় প্রাণহানিও বাড়ছে।

বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল, অবরোধে সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মধ্যেই এধরনের কাজ করে বেশি। পাহারায় থাকলেও দুর্বৃত্তদের কৌশলের কাছে হার মানছে পুলিশ। সার্বক্ষণিক পাহারা দিয়েও ককটেল বিস্ফোরণ, বোমাবাজি ও যানবাহনে আগুনের দেয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।

ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার একজন  কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলামেইলকে বলেন, ‘রাজধানীর ৪৯টি থানা এলাকার এমন কোনো স্থান নেই যেসব স্থানে সহিংসতা, নাশকতা হচ্ছে না। হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজধানীর সবস্থানে কোনো না কোনো ধরনের নাশকতা ঘটছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেশি থাকায় এখন নাশকতাকারীরা এখন চোরাগোপ্তা নাশকতা চালাচ্ছে। আর এসব কারণে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে।’

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভোর ও সন্ধ্যার পর নাশকতার ঘটনা ঘটে বেশি। নাশকতাকারীরা এখন তাদের কৌশল পাল্টেছে। ৩ থেকে ৪ জন কখনও কখনও ২ জন মিলে হাতে পেট্রোল বোমা বা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিচ্ছে। এছাড়া ককটেল নিক্ষেপ করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক  কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন নাশকতা করার  জন্য রাজনৈনিত দলের কর্মীদের প্রয়োজন হয় না। বোমা নিক্ষেপ বা আগুন দেয়ার জন্য এখন ভাড়ায় লোক পাওয়া যায়। এসব ভাড়াটে বোমাবাজ ও আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃতদের নিয়ন্ত্রণ করে কিছু ‘বড় ভাই’।. ওইসব বড় ভাইদের নিয়ন্ত্রণে কিছু টোকাই পেট্রোল বোমা, ও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার কাজে জড়িত। এছাড়া একটি রাজনৈতিক দলের একটি ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন ধরনের নাশকতা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, অবরোধ বা হরতাল সময়ে সাধারণ মানুষের চলাফেরার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।  হরতাল বা অবরোধের সময় যানবাহনের জানালা বন্ধ রাখা ভালো, ফলে দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে বা পেট্রোল নিক্ষেপ করলে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও রাস্তায় চলাফেরার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। ছোট বাচ্চাদের রাস্তা, মাঠ বা যেকোনো স্থানে বল, কৌটা কিংবা খেলার মতো কিছু যেন হাতে না নেয় সেই নির্দেশ দিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যথাসম্ভব নিরাপত্তা রাখলে সহিংসতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু স্পটে ঘটছে ককটেল ফাটানো কিংবা গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা। এর মধ্যে-

মিরপুর এলাকায় কল্যাণপুরের দারুস সালাম বাসস্ট্যান্ড, মাজার রোড, মিরপুর-২ জনতা হাউজিং, কালশী রোড, মিরপুর-১৩ পানির টাংকি এলাকা, মিরপুর অরজিনাল-১০, মিরপুর-১০ এ আল-হেলাল হার্ট ফাউন্ডেশন, আগারগাঁও আইডিবি ভবনের কাছের এলাকাগুলোতে অবরোধকারীদের তৎপরতা বেশি।

মহাখালী-গুলশান এলাকায় মহাখালী তিতুমীর কলেজের সামনে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সাতরাস্তা, গুলশান লিংক রোড, মালিবাগ রেলগেট এলাকায় নাশকতার ঘটনা বেশি ঘটে।

এদিকে মতিঝিল পন্টন এলাকায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকি, পল্টন মোড়, বিএনপি কার্যালয়, কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর মোড়, রামপুরা টিভি গেট এলাকায় অবরোধকারীদের তৎপরতা সবচেয়ে ঘটে।

শাহবাগ- ফার্মগেট এলাকায় কাওরান বাজার আন্ডারপাসের কাছে, সার্ক ফোয়ারা, আনন্দ ছন্দ সিনামা হলের পাশে, হোটেল রূপসী বাংলার কাছে, পরীবাগ ব্রিজের কাছে নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এছড়াও ওয়ারী, ডেমরা, রায়েরবাগ, জয়কালী মন্দির, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, মালিবাগ মোড়,  লালবাগ, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধসহ বেশ কিছু এলাকা রয়েছে ।

এ এলাকালোতে যেকোনো সময় চলাফেরার ক্ষেত্রে সাবধান থাকলে এড়ানো যাবে সহিংসতা।

সূত্রঃ বাংলামেইল২৪ডটকম

Comments
Loading...