আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারের কৌশল বলে ভাবছে জামায়াত

0 ১৬

TRApঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে জামায়াতের বিচার সম্ভব না- সম্প্রতি আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সরকারের কৌশল বলে মনে করছে জামায়াত। দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন কথাই জানিয়েছেন তারা।

জামায়াত নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনায় সরকার অনেকটা বেকায়দায়। এ বিষয়গুলো ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই জামায়াতের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে সরকার। তাদের দাবি, সরকার যেকোনো মুহূর্তে আবার তার অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। আপাতত ইমেজ সংকট কাটাতে জামায়াত বিচারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আইনি দিক থেকে বাস্তবসম্মত। তিনি যা বলেছেন আইনের মধ্যে থেকে বলেছেন।  তার দাবি, আইনমন্ত্রী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে বাস্তবসম্মত।

তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী যে তিনটি ধারায় সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করা সম্ভব না বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আমরা কয়েকবার শুনানি করেছি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদন বরাবর খারিজ করে দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী যে তিন বিষয়কে সামনে এনে ট্রাইব্যুনালে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার সম্ভব না বলছেন, এটা শতভাগ যুক্তিসম্মত বলেও দাবি তার। তবে পুরো বিষয়টি আমরা সর্তকভাবে নিচ্ছি। কারণ, সরকার যেকোনো সময় তার মত পাল্টাতে পারে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, আইনি বিষয়গুলো আইনজীবীরা ভালো বলতে পারবেন। তবে আপাততদৃষ্টিতে এটাকে সরকারের একটা কৌশল মনে হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনায় সরকার কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে। বিষয়টি মিডিয়াও ফলাও করে প্রচার করছে। সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার এ বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

এছাড়া সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরকার-জামায়াত সমঝোতা হয়ে গেছে- এমন গুঞ্জন তুলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা। জামায়াতের উচ্চ পর্যায়ে সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর ১৯ দলীয় জোট প্রধান বিএনপির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না অন্যতম শরীক জামায়াতের। তার মাঝে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতার গুঞ্জন বিএনপিকে বেশ চিন্তিত করে তোলে।

এরই অংশ হিসেবে গত ২৯ মে বৃহস্পতিবার সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এবং জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে জামায়াতের মিছিলে পুলিশের হামলায় প্রতিবাদ পাঠান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যে ঘটনায় জামায়াত নিজেই পর্যন্ত প্রতিবাদ দেয়নি। জামায়াত দাবি করছে, বর্তমান আইনমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এর ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। সর্বশেষ কাদের মোল্লার শাস্তি বাড়ানোর বিষয় তৎকালীন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একমত হতে পারেননি তিনি। ট্রাইবুন্যাল আইনটি পরিপক্ক করে বিচার শুরু করার পক্ষেও মত ছিল বর্তমান আইনমন্ত্রীর। কিন্তু তার আগের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও বর্তমান প্রসিকিউশনের সঙ্গে সর্ম্পক ভালো না থাকার কারণে তাকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে সংগঠনের শাস্তির বিধান না থাকা, সংগঠনের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে নেতাদের শাস্তি দ্বিতীয়বার হলে তা সাংঘর্ষিক হবে এবং জামায়াতের নিবন্ধনের ব্যাপারে আপিল বিভাগে মামলা থাকায় ট্রাইব্যুনালের আইনে অভিযোগ আনা হলে ওই মামলায় তার প্রভাব পড়বে। এ তিনটি কারণে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান আইনে জামায়াতের বিচার করা সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চসহ প্রগতিশীল বেশ কিছু সংগঠন এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

Comments
Loading...