এই নির্বাচনে সেনা কেন? এটাকে নির্বাচন বললে দেশে আর কোনো নির্বাচনই হবে না

0 ২১

75282_1নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নির্বাচন বললে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করা হবে এবং ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো নির্বাচনই হবে না। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও প্রয়োজন নেই।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও সুশাসনের জন্যে নাগরিক- সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এমন মনোভাবই ব্যক্ত করেন।
দশম জাতীয় নির্বাচনে পাঁচ জেলায় কোনো ভোটই হবে না। আর ১৫টি জেলার একটি করে আসনে ভোট গ্রহণ হবে। তিনশ’ আসনের বেশির ভাগ (১৫৫) প্রার্থী ভোট ছাড়াই ‘নির্বাচিত’ হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে না।

যে পাঁচ জেলার কোনো আসনে ভোট গ্রহণ হবে না সেগুলো হলো- চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও জয়পুরহাট। এসব জেলার সবকটি আসনে প্রার্থীরা বিনা ভোটে ‘নির্বাচিত’ হয়েছেন।

এছাড়া ১৫টি জেলার একটি করে আসনে ভোট গ্রহণ হবে। জেলাগুলো হলো-সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও কক্সবাজার।

দশটি জেলার সবগুলো আসনে ভোটগ্রহণ হবে। আর আংশিক ভোটগ্রহণ হবে বাকি ১২টি জেলায়। এখন পর্যন্ত ১৪৬ আসনে সব মিলে প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮৬ জন যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘এই ধরনের একটা ঘটনাকে যদি আমরা নির্বাচন বলি, তাহলে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো নির্বাচনই হবে না।’

‘পরের সরকার বলবে যে, ২০০ আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। তারপরের সরকার বলবে- ঠিক আছে ২৯০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এবং এটাই ঠিক আছে, বাকি ১০ আসনে নির্বাচন হবে’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অতএব এটাকে এখন থেকে যে নির্বাচন বলবে, সে সত্যিকার অর্থেই দেশের জনগণের সঙ্গে প্রহসন করছে।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আন্তর্জাতিকভাবে পাবে না এবং আমাদের দেশীয়ভাবেও পাবে না।’

প্রায় ৯ কোটি ১৯ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৩৬ লাখ। প্রায় ৫ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে দেশের অর্ধেকেরই বেশি ভোটার ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘শুধু ভোটাররাই বঞ্চিত হলো না, সেই সঙ্গে জাতি বঞ্চিত হল। আমরা ১৬ কোটি মানুষ বঞ্চিত হলাম। একটা গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হলাম।’

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘যেখানে জনগণ ভোট দিতে পারছে না সেখানে কে জনগণের আস্থাভাজন কে আস্থাভাজন না সেটা তো নির্ধারণ করার কোনো উপায় নেই। ফলে সরকার গঠন হবে কিন্তু তারা জনগণের আস্থাভাজন সরকার এটা তারা দাবি করতে পারবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ-কাল দুনিয়ায় জনগণের আস্থাভাজন না হয়ে যে সরকার গঠিত হয় সে সরকার ফলপ্রসূ সরকার হয় না।’

দেশব্যাপী সহিংসতা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় বলে মনে করেন এই বিশ্লেষকরা। তাই এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন দেখছেন না তারা।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমি জানি না কেন এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী দরকার! কারণ এখানে তো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হচ্ছে না।’

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘এই যে সহিংসতা হচ্ছে তার প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এই সহিংতা রোধে আমার মনে হয় দেশের অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাই মূখ্য হওয়া উচিত।’

Comments
Loading...