এবার পদ্মাসেতুর জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ নিচ্ছে সরকার

0 ২৮

padma briপরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন,  ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিনিয়োগের সব দরজা খোলা। তারা চাইলে পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করতে পারে। পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইসলামী ব্যাংক হতে বিনিয়োগ নিতে প্রস্তুত। তারা যে প্রক্রিয়াতেই দিক, সেভাবেই নেওয়া হবে।

রোববার রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে ‘শরিয়া ব্যাংকিং: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের সকল ইসলামী ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।  এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুস জাহের।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,  বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের জন্য কোনো আইন নেই। খুব শিগগিরই ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য আইনের খসড়া তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে এম. আযিযুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামিক ব্যাংকিং দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি খাত রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এটি প্রচলিত ধারার অর্থ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দেশের প্রথম ইসলামিক ব্যাংকের সাফল্য শরীআহ ব্যাংকিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রগতির সন্দেহকে দূরীভূত করেছে এবং বাজারের চাহিদা পূরণে আরো ব্যাংক এগিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, গত তিন দশকে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং শিল্প বাণিজ্য, কৃষি, এসএমই, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সিএসআর ও সবুজ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশেষ অবদান রাখছে।

তিনি আরো বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি মানবসম্পদ তৈরি, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শরীআহ ব্যাংকিয়ের উপর একাডেমিক কোর্স চালু, অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রচলিত নীতি-পদ্ধতি সহায়তা চালু, শরীআহ কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক পদ্ধতি প্রবর্তন ও উদ্ভূত সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানে অভিন্ন নীতিমালা প্রবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সামর্থ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) চেয়ারম্যান আহমেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, বিশ্বের ৫৬টি দেশ আইডিবির সদস্য। ৯০টি দেশে শরিয়াহ ভিত্তিক কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা থাকার কারণে প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি কম বলে প্রচলিত ব্যাংকিং ধারার বিকল্প হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিং খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট ইসলামী ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব আযিযুল হক বলেন, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় শরীআহ ভিত্তিক  ব্যাংকগুলো ভালো করছে। বর্তমানে মোট ব্যাংকিং খাতের আমানতের ১৯ শতাংশ এবং ঋণের ২২ শতাংশ শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর তদারকির জন্য আলাদা একটা শাখা খুলেছে। শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিং শুধুমাত্র মুসলিম বিশ্বেই নয়, পৃথিবীব্যাপী অন্যতম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অর্থায়নের উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। কারণ ইহা অন্তর্নিহিতভাবে নৈতিক মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি সমূহ বিকাশে সহায়ক একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং সামগ্রিক ব্যাংকিং সেক্টরের এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ বলেন, ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৩১ বছর ধরে তারা সফলভাবে সুষ্ঠুভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৮টি শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত বিভিন্ন ব্যাংকের ১৬টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। গত বছর জিডিপি বৃদ্ধি ১৪.৪৬ বিলিয়নের মধ্যে সার্ভিস সেক্টরে ৫০ শতাংশ উৎপাদনশীল খাতে ৩০ শতাংশ এবং কৃষিতে ২০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে আমদানি-রফতানি বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মধ্যে একটা ধারণা আছে ইসলামী ব্যাংকগুলো জঙ্গিতে অর্থায়ন করে। তবে আমি বলতে চাই শুধু ইসলামী ব্যাংক নয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও জঙ্গিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। আমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

Comments
Loading...