এরশাদকে ছাড়াই সরকারি সংসারে রওশন

0 ১৪

songshaঢাকা: বিরোধীদলীয় নেতার জন্য সরকারি বাসভবন বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘ ১৩ বছর অযত্নে অবহেলায় সেটির অবস্থা বেহাল। ১৯৯১ সালের বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি ওই বাসভবনে উঠেন। এরপর ২০০১ সালের পর থেকে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতার পদচিহ্নই পড়েনি এ বাড়িটিতে। এবার দশম সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ সরকারি ওই বাসভবনে উঠছেন বলে জানা গেছে।

তবে রওশন তার সরকারি বাসভবনে উঠলেও সঙ্গে যাচ্ছেন না স্বামী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই এরশাদ একাই বসবাস করছেন বারিধারায় নিজের বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কে। সেখানেই তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘স্যার নিজের বাড়িতেই থাকবেন। তিনি অন্য কোথাও যাচ্ছেন না।’

পেছন ফিরলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মিন্টো রোডের ওই বাড়িতে উঠেন। তিনি একটানা ৫ বছর বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বাড়িটি ব্যবহার করেন। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হলেও এই বাড়িতে উঠেননি। অবশ্য বাড়িটিকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন রাজনৈতিক কাজে।

২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও বেগম জিয়া তার সরকারি বাসভবনে থাকেননি। তিনি ছিলেন ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়িতে। সেই সময় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাও মিন্টো রোড়ের বাড়িতে না উঠে থাকেন ধানমণ্ডির সুধাসদনে নিজের বাসায়। ২০০৮ সালেও  খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন ব্যবহার করেননি। তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনেই থাকেন। তবে ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাসাটি সরকার নিয়ে নেয়ার পর তিনি গিয়ে ওঠেন তার ছোটভাই সাঈদ ইস্কান্দারের গুলশানের বাসায়।

তাই দীর্ঘ ১৩ বছর এভাবেই অবহেলায় পড়ে ছিল বিরোধীদলীয় নেতার ওই বাড়িটি। তবে সবকিছু পেছনে ফেলে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মিন্টো রোডের বাড়িটিতে উঠছেন রওশন এরশাদ।

রমনা গণপূর্ত উপ বিভাগ-১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত উল্লাহ এ প্রসঙ্গে বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে ৭ দিন আগে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়ি ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি এসেছে। তাই বাড়িটি আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি চাইলেই তিনি যে কোনো সময় উঠতে পারবেন। তবে তিনি বাড়ি পরিদর্শন করে কোনো নির্দেশনা দিলেও তা বিবেচনা করা হবে।’

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা সরকারি বাড়ি ব্যবহার করবেন বলে গণপূর্ত বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। বাড়িটি ব্যবহার উপযোগী কি না তা পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা সরকারিভাবে বরাদ্দ বাড়ি ব্যবহারে আগ্রহী। তবে এই বাড়িটি তত্ত্বাবধানে রয়েছে গণপুর্ত মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে এই বাড়িটি দীর্ঘ দিন ব্যবহার না করার ফলে বেহাল অবস্থা। তাই তারা জানিয়েছে তিন-চার মাস সময় লাগবে বাড়িটি ব্যবহার উপযোগী করতে। সবকিছু ঠিক হলে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ মিন্টো রোডের বাড়িতে উঠবেন। বর্তমানে তিনি গুলশানের নিজের বাড়িতেই আছেন।’

জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলী নেতা হিসেবে শপথ নেয়ার পরই রওশন এরশাদ মিন্টো রোডের আলোচিত সেই ২৯ নম্বর বাড়িটি ব্যবহারের আগ্রহ দেখিয়েছেন। জাপার সংসদ সদস্যরাও রওশনকে এ বাড়িতে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। এই বাড়িতে উঠলে দলের কার্যক্রম সঠিকভাবে মনিটরিং করতে সুবিধা হবে এমন পরামর্শও দেয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু বাড়িটির বেহাল অবস্থা শুনে রওশন হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা বা সার্কিট হাউজ রোডের সুগন্ধায় উঠার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, মিন্টো রোডের ২৯ নম্বরে খোলামেলা জায়গায় দোতলা একটি বাড়ি রয়েছে বিরোধী দলীয় নেতার জন্য। যদিও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় একেবারেই বেহাল অবস্থা। কেউ না থাকার কারণে নিয়মিত মেরামত ও সংস্কার কাজও হয়নি। বাড়ির ভেতরটা অপরিচ্ছন্ন, ময়লার স্তূপ। পরিষ্কার না করায় ধূলাবালিতে গাছপালা, দোতলা বাড়ি, বিশাল আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাড়িটির কেয়ারটেকার, মালী ও সুইপার পরিবারই সেখানে বসবাস করে।

Comments
Loading...