ওবামার হুঁশিয়ারি পাত্তা দিলেন না পুতিন

0 ২১

1394290707.আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্রিমিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ না করতে মস্কোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেয়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ওবামার সঙ্গে এক ঘণ্টার দীর্ঘ ফোনালাপের পর গত শুক্রবার তিনি বলেন, ইউক্রেনে রুশ ভাষাভাষীদের সাহায্যের আহ্বানে মস্কো সাড়া না দিয়ে পারে না। পুতিনকে ফোন করার আগেই ওবামা ইউক্রেন সঙ্কটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। ক্রিমিয়া সঙ্কট শুরুর পর রাশিয়ার ওপর এটিই প্রথম নিষেধাজ্ঞা। এ পর্যন্ত ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বে হুমকি সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের ভিসা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ওবামা। এরপরও ওবামার সঙ্গে টেলিসংলাপের পর পুতিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউক্রেইন পরিস্থিতি নিয়ে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো অনেক ব্যবধান রয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নতুন কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ-পূর্বের ক্রিমিয়া অঞ্চলের ব্যাপারে পুরোপুরি অবৈধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সে কারণেই ওই অঞ্চলের রুশভাষীদের সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ মেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে পারে না। ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতের পট প্রস্তুত করেছে। ১৬ মার্চে বিষয়টির ওপর গণভোটও করার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের পাশাপাশি ওবামাও প্রস্তাবিত এ গণভোটকে অবৈধ বলে নিন্দা করে বলেছেন, এ ভোট করা হলে ইউক্রেনের সংবিধান লঙ্ঘিত হবে। পুতিনের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে ওবামা তাকে ইউক্রেন সঙ্কটের একটি কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি অনলাইন।
এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বায়ত্বশাসিত ক্রিমিয়া অঞ্চলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ইউরোপীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ক্রিমিয়ার সংসদ রুশ ফেডারেশনে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এবং আগামী ১৬ মার্চ এ ব্যাপারে গণভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ার পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তিমোশেঙ্কো এ গণভোট ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ক্রিমিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠেয় গণভোটে জনগণই ঠিক করবে তারা রুশ ফেডারেশনে যাবে না কি ইউক্রেনের মূল ভূখ-ের সঙ্গেই থাকবে। অবশ্য ইউক্রেন সরকার ক্রিমিয়ায় এ ধরনের গণভোটকে বেআইনি বলে মনে করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, রাশিয়ায় যোগ দেয়ার ব্যাপারে ক্রিমিয়ায় অনুষ্ঠেয় গণভোট ইউক্রেনের সংবিধানের পরিপন্থী এবং অবৈধ। ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর সেদেশে ব্যাপক নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং রাশিয়া ক্রিমিয়া অঞ্চলে সেনা পাঠায়। এখনো পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের জনগণ পদচ্যুত প্রেসিডেন্টকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে পাশ্চাত্যের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। ইউক্রেন ও ক্রিমিয়ার বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বলেছে, ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে একমত হয়েছে। ইউরোপীয় পরিষদের প্রধান হারম্যান ফান রুমপুই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনে যদি সহিংসতা ও উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য রাশিয়া কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটবে। হোয়াইট হাউজও বলেছে, ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখ-তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হলে তারা রাশিয়ার কোনো কোনো ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ইউক্রেনের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করা সংক্রান্ত একটি বিলে সই করেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াও পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সঙ্কটের প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হতে চললো। এরই মধ্যে স্বায়ত্বশাসিত ক্রিমিয়া অঞ্চল আলাদা হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যার পরিণতিতে ইউক্রেন খ-বিখ- হয়ে যেতে পারে। উল্লেখ করা যায়, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে এর গুরুত্ব অপরিসীম। রাশিয়ার পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয় ইউক্রেনের সঙ্গে। এছাড়া, ইউক্রেনের ওপর দিয়েই রাশিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস এবং ৭৫ শতাংশ তেলজাত পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি হয়। এ কারণে পাশ্চাত্যের কাছে ইউক্রেনের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং এ দেশটিতে পাশ্চাত্যপন্থীরা জোর করে ক্ষমতা দখলের পর তারা গণতান্ত্রিক আচরণ থেকে দূরে সরে গেছে।

Comments
Loading...