ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাছাইপর্বে খেলতে হবে বাংলাদেশকে

0 ১৭

Bangladesh_Musfiqঢাকা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কেন যেন তা চেপে রাখার চেষ্টা করে। দেশের জনগণ দূরের কথা, বিসিবি পরিচালকদের পর্যন্ত অনেক সময় জানানো হয় না।

২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এমনই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে প্রথম রাউন্ডের দল; ক্রিকেটাররাও তা জানতেন না।  বিষয়টি ফাঁস করার পরই না সবাই জেনেছেন। অনুরূপ ঘটনা দেখা যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়েও। আইসিসি নিয়ম করেছে, ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বাছাই টুর্নামেন্ট খেলতে হবে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের নবম ও দশম দলকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সভা শেষে পহেলা বৈশাখ দেশে ফিরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ খেলবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্ট। এরপর চার দিন হয়ে গেছে, কিন্তু বিসিবির একজন পরিচালকও এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না। যার কাছেই জানতে চাওয়া হয়েছে- প্রত্যেকেই বলেছেন, এখনও ফরম্যাট চূড়ান্ত হয়নি বা ফরম্যাট সম্পর্কে তারা জানেন না। বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানকেও সঠিক তথ্য দেয়া হয়নি। তিনিও জেনেছেন ফরম্যাট চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত না হয়ে থাকলে বিসিবি সভাপতি এ তথ্য পেলেন কোথায়? নিঃসন্দেহে তিনি জেনেশুনেই সাংবাদিকদের কথাটা বলেছেন।

বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে বলা হয়েছে, ভারত ফরম্যাট নিয়ে আপত্তি দেয়ায় আইসিসি সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তাদেরও কিছু বলা হয়নি। অথচ এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এক বছর আগে। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডে আইসিসির বার্ষিক সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল আইসিসি ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল (আইডিআই) সভায় ফরম্যাট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় বিসিবির দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের ছবিসহ তখন খবর ছাপিয়েছে ইউরোপের সংবাদ মাধ্যমগুলো। বাংলাদেশেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে খবর ছাপা হয়। কিন্তু ফরম্যাট নিয়ে তখন কিছু বলেননি বিসিবি কর্মকর্তারা। গতকাল বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আইসিসি এমন একটা প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে জানা যাবে।’

২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে ১০ দলের। আইসিসির তখনকার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও তা রয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় ১০ দল নির্বাচন করা হবে তা গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও; শেষ পর্যন্ত তা ফাঁস হয়ে যায়। প্রস্তাব ছিল- ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং হবে ১২ দলের। আইসিসি ওয়েবসাইটে এরপর থেকেই ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং দেয়া হচ্ছে ১২ দলের। পূর্ণ সদস্য ১০ দলের সঙ্গে অস্থায়ী ওয়ানডে দলের স্বীকৃতি পাওয়া দুই দল থাকবে র‌্যাঙ্কিংয়ে। প্রস্তাবনায় রয়েছে- শীর্ষ আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার অধিকার পাবে। ৯ থেকে ১২ র‌্যাঙ্কিংয়ের দল খেলবে বাছাই টুর্নামেন্ট। ওয়াল্ড ক্রিকেট লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ ছাড়াও; আরও দুটি দল বাছাই টুর্নামেন্ট খেলবে র‌্যাঙ্কিং দলের সঙ্গে। ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল র‌্যাঙ্কিং নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে একাদশ ও দ্বাদশ দল ওয়াল্ড লিগে খেলবে কিনা- প্রস্তাবনায় তা উল্লেখ নেই। সে যাই হোক, আট দলের বছাই টুর্নামেন্ট ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের ভেতরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তত একধাপ উন্নতি করতে পারলে হয়তো বাছাই টুর্নামেন্টে খেলতে হবে না। শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বাংলাদেশ।

আইসিসি যেভাবে পরিবর্তন আনছে তাতে করে ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। আইসিসি ট্রফি জিতে ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের পর বাংলাদেশ তিনটি (২০০৩, ২০০৭ ও ২০১১) বিশ্বকাপ খেলেছে সরাসরি। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপেও সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে; কিন্তু পরের বিশ্বকাপে সে সুযোগ থাকছে না তাদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তবু প্রথম রাউন্ডে খেলতে পারে। এভাবে পরিবর্তন হতে থাকলে ২০১৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাছাই টুর্নামেন্ট খেলতে হতে পারে র‌্যাঙ্কিংয়ের নবম ও দশম দলকে। সুতরাং বাংলাদেশকে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে আগামী চার বছরে র‌্যাঙ্কিংয়ে কতটা উন্নতি করতে চায় তারা। আকরাম খান অবশ্য বলেছেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করার পরিকল্পনা সবসময়ই থাকে। নতুন নিয়মের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন উন্নতিটা বেশি করতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করে খেলতে হবে পরের বছরগুলোয়।’

পরিকল্পনা করে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা সহজ কাজ নয়। কারণ অভিজাত আট দল বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বেশি ম্যাচ খেলতে চায় না। অস্ট্রেলিয়া আগামী চার বছর যতগুলো ওয়ানডে খেলবে, বাংলাদেশ খেলবে তার অর্ধেক। র‌্যাঙ্কিংয়ে একধাপ ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমান ম্যাচও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তাহলে পয়েন্ট বাড়ানোর উপায় কী?

Comments
Loading...