খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকতা চান অন্যরা

0 ১৬

saনিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ না নিলেও বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে।

এতদিন সরকারি এবং বিরোধী জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা উভয় জোটের অবস্থান ও কর্মসূচি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আসছেন। সমঝোতার প্রশ্নে তারা যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে নমনীয় হতে বলেছেন, তেমনি ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি পালন না করতে বিরোধী দলকে অনুরোধ করেছেন।

এ ধরনের আহ্বানে বিরোধী দল বিএনপিতেও হরতাল-অবরোধের বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়, যার প্রতিফলন পাওয়া গেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন।

পাঁচ দফায় টানা ২২ দিন অবরোধ পালন শেষে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি দিলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এ কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নির্বাচনের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।

এসব নেতারা দিবার্তাকে বলেছেন, ‘এ ধরনের কর্মসূচিতে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরো বিকশিত হবে। হরতাল-অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি থেকে সরে আসায় বেগম খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ।’

কর্মসূচিতে নিজেদের অংশগ্রহণ বিষয়ে এসব নেতা মনে করেন, ‘সবার উদ্দেশে বেগম জিয়ার এই আহ্বান হলেও আমরা একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করি। আন্দোলন হতে হলে সেখানে একটি স্বীকৃতির প্রশ্ন আসে। যে প্রশ্নে নব্বইয়ে আমরা সব দল মিলে যুগপথ আন্দোলন করেছিলাম।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে দলগুলোর শীর্ষনেতারা স্ব শরীরে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক বৈধতা পাবে বলেও মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী দিবার্তাকে বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি থেকে সরে আসায় বিএনপিকে সাধুবাদ জানাই। তাদের নতুন কর্মসূচি নিয়ে আরেকটু ভাবতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। বর্তমানে যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তা ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। হয়তো একদিন এজন্য বর্তমান শাসকদের জনতার আদালতে বিচার হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপির রবিবারের কর্মসূচি সম্পর্কে আমাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে চিঠি বা যোগাযোগ করা হলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিএনপির মার্চ ফর ডেমোক্রেসিসহ সরকারবিরোধী সব কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেছেন নতুন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদে।

তার বরাত দিয়ে ব্যক্তিগত সহকারী গোলাম মোস্তাফা দিবার্তাকে বলেন, ‘কর্মসূচির পরপরই স্যার (কাজী জাফর) বুধবার দলের প্রেসিডিয়ামের সভা আহ্বান করেছেন। সেখানে চূড়ান্ত হবে আমরা রবিবারের কর্মসূচিতে অংশ নিব কিনা?’

এ বিষয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার দল সূত্রে জানা গেছে, ‘হরতাল-অবরোধ থেকে বিএনপির সরে আসাকে জেএসডি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই নিজের অবস্থান জানাবেন আবদুর রব।’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান দিবার্তাকে বলেন, ‘কর্মসূচি ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ঘোষণা করেছেন। সুতরাং এরপর কাউকে নির্দিষ্ট করে আমন্ত্রণ বা এ ধরনের বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ সবাই আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে আছেন। মনে হয় না এই আহ্বানের পর কাউকে চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন আছে। তারপরও বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। আমরাও দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা করব।’

এ বিষয়ে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি দিবার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচনের বাইরে আছে, আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করে এমন দলকে চিঠি পাঠানো হবে কিনা আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দপ্তরে কোনো নির্দেশনাও পাঠানো হয়নি।’

এইচ এন

Comments
Loading...