চতুর্থ ধাপে বেশি সহিংসতার শঙ্কা

0

Upazila-Electionচতুর্থ ধাপে ৪৩ জেলার ৯১ উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে রোববার। এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

তবে এ ধাপেও অনেক উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বহাল থাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি এই নির্বাচনে গত তিন ধাপের চেয়েও বেশি সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

আদালতের নির্দেশে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় চতুর্থ ধাপে ৪৩ জেলার ৯৩ উপজেলায় হওয়ার কথা থাকলেও ৯১টিতে ভোটগ্রহণ হবে।

৯১ উপজেলায় লড়াই করবেন ১ হাজার ১৮৬ জন প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৮৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৩১২ জন প্রার্থী।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সবসময় চাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হোক। এজন্য যা যা করা দরকার, আমরা তাই করছি।”

প্রথম ধাপে নির্বাচন কিছুটা শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। প্রথম ধাপে ১৯ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১টি, ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতার কারণে নোয়াখালী সদর উপজেলাসহ ৩৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেয় ইসি।

ওইদিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে ভোটকেন্দ্রে দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন (১৮) নামে এক যুবকও নিহত হন। তৃতীয় ধাপে ১৫ মার্চের নির্বাচনে ২৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হলেও সহিংসতায় ২ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।

কিন্তু এসব থেকেও শিক্ষা নিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সিইসি মো. আবদুল মোবারক বলেন, “এতো বড় নির্বাচনে সহিংসতা হবেই। তবে সহিংসতার পরিমাণ খুবই কম হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।”

এছাড়া ইসির তালিকা করা ৪১টি হাওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুকিপূর্ণ এলাকার বেশকিছু উপজেলায় চতুর্থ ধাপে নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু তালিকা করলেও এর জন্য কোনো বিশেষ নিরাপত্তা ইসির পক্ষ থেকে নেওয়া হবে না বলে জানান উপজেলা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ইসির সহকারি সচিব মো. আশফাকুর রহমান।

তিনি পরিবর্তন‘কে বলেন, “নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি জেলায় আমাদের আইন-শৃংখলা বাহিনীর সেল আছে। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।”

এছাড়া ইসি সূত্রে আরো জানা গেছে, আইন-শৃংখলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বাড়তি সুবিধা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তারা ইচ্ছামতো ভোট কেন্দ্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনী এলাকায় সহায়তা দিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। তারা মাঠে থাকবে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত। সাথে থাকছে পর্যাপ্ত পরিমান র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

নির্বাচনী এলাকায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা। একই সঙ্গে বন্ধ হচ্ছে সব ধরণের যান্ত্রিক যান চলাচল। রোববার এসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মো. আশফাকুর রহমান জানান, নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা পূর্বে সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। অব্যাহত থাকবে নির্বাচনের পর ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। কেউ আইন ভঙ্গ করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতাও বাতিল হবে।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি উপজেলায় ১ প্লাটুন করে সেনাবাহিনীর সদস্য টহল দিবেন। বড় উপজেলায় এর সংখ্যা বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি থাকবে। সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।

প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), একজন অঙ্গীভূত আনসার (অস্ত্রসহ), ১০ জন অঙ্গীভূত আনসার (মহিলা-৪, পুরুষ-৬ জন), একজন আনসার (লাঠিসহ) ও একজন গ্রাম পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ, পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও হাওর এলাকায় এর সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। নির্বাচনে আইনশৃংখলা রক্ষার্থে ৩৬৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি টহলে থাকবে। সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৯১ উপজেলায় মোট ভোটার ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৭ হাজার ৯৫৬ জন এবং মহিলা ভোটার ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ৩২২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮২টি এবং ভোটকক্ষ ৩৭ হাজার ৩৩৮টি।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে মোট ৫ হাজার ৮৮২ জন প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতি কক্ষে একজন করে মোট ৩৭ হাজার ৩৩৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের পাশাপাশি ৭৪ হাজার ৬৭৬ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচনের উপজেলাগুলো হলো ঢাকার ধামরাই, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, ফরিদপুর; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড; নড়াইলের নড়াইল সদর; খুলনার তেরখাদা, রূপসা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ ও ফুলতলা; পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া, মঠবাড়ীয়া ও জিয়ানগর; টাঙ্গাইলের কালিহাতি, মধুপুর, নাগরপুর ও ভুয়াপুর; হবিগঞ্জের সদর, নবীগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ ও লাখাই; জয়পুরহাটের পাঁচবিবি; রাজশাহীর তানোর, বাগমারা ও পুঠিয়া।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর; পটুয়াখালীর সদর, দুমকী, বাউফল, গলাচিপা ও মির্জাগঞ্জ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, নাসিরনগর; কুমিল্লার মেঘনা ও বরুড়া; চাঁদপুরের শাহরাস্তি; ফেনীর সোনাগাজী ও ফুলগাজী; দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী; যশোরের সদর ও কেশবপুর, সাতক্ষীরার কলারোয়া, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, বাগেরহাট মোল্লারহাট ও চিতলমারী;  ভোলার তজুমুদ্দিন, দৌলতখান ও মনপুরা; বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও বানরীপাড়া; গাজীপুরের কালিয়াকৈর।

রাঙ্গামাটির জুড়াছড়ি, সিলেট সদর ও কানাইঘাট; চট্টগ্রামের বাঁশখালী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারা; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, সিরাগঞ্জের চৌহালী, মৌলভীবাজার সদর শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ, নাটোরের বড়াইগ্রাম, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও ধর্মপাশা; চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ঝালকাঠী সদর, কাঠালিয়া, নলসিটি ও রাজাপুর, বগুড়ার গাবতলী, নেত্রকোণা মদন, কিশোরগঞ্জ ভৈরব, ইটনা, মিঠামাইন, তাড়াইল ও কটিয়াদি; বরগুনার বেতাগী; কক্সবাজারের রামু ও কুতুবদিয়া; বান্দরবানের নাইখাংছড়ি।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচন হবে ৩১ মার্চ এবং ষষ্ঠ ধাপে ভোট ৩ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

Comments
Loading...