জামায়াত-হেফাজত নিয়ে উদ্বিগ্ন ১৪ দল

0 ১৯

fr56বিগত বছরগুলোতে একের পর এক নৈরাজ্যকর কর্মসূচি দিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয় জামায়াত-শিবির। বিশেষ করে যুব সমাজের সমর্থন হারিয়ে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়ে ধর্মভিত্তিক দলটি। তবে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একাধিক উপজেলায় জয়লাভের পর কৌশলে বেশ কয়েকটি ইসলামী দলকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে জামায়াত। বিশেষ করে হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে মাঠের রাজনীতি দখল করতে চায় জামায়াত। নতুন করে জামায়াতের এই মাঠে নামায় যার পর নাই উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

১৪ দলীয় জোট বলছে, প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলায় জুমার নামাজের খুতবায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সুত্রমতে, ওই বৈঠকে ১৪ দলীয় জোট নেতারা বিভিন্ন মসজিদে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন।

বৈঠকে তরিকত ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেজাউল হক চাঁদপুরী বলেন, জমার নামাজে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পরে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং এ সমস্যা দ্রুত উত্তরণে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াতের আকস্মিক উত্থান ঠেকানো, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় সরকারের অপপ্রচার বন্ধ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জোটের শরিক এক নেতা বলেন, বিএনপির ছাড়ের কারণে জামায়াত উপজেলা নির্বাচনে এত ভালো ফল করেছে। এ ফলাফলের মূল্য আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন জোট ও সাধারণ জনগণকে দিতে হবে।

বৈঠকে জামায়াতকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তের আলোকেই ১৪ দলের তিনটি টিম ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সারাদেশে গণসংযোগ ও সমাবেশ করবে বলে বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

এদিকে ‘ইসলাম রক্ষার আন্দোলনকে’ সামনে রেখে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের ইস্যু নিয়ে সরকার পতন-আন্দোলনে নামতে পারে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এমন তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী সঠিক পদক্ষেপের কারণে হেফাজতের রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা ঢাকার রাজপথ থেকে বিতাড়িত হয়। পরবর্তীতে সরকারের অনঢ় অবস্থান ও হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরবর্তীতে সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে না গিয়ে সংগঠনকে গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকে নেতাকর্মীরা। তবে আবারো হেফাজতে ইসলামের পাশাপাশি ওলামা মাশায়েখদের বেশ কয়েকটি সংগঠন বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে অচিরেই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে -এমন তথ্য রয়েছে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।

গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, জামায়াত যেকোন উপায়ে হেফাজতকে ১৩ দফা দাবি আদায়ে এই মুহূর্তেই মাঠে নামাতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ হেফাজতের নেতাকর্মীরা মাঠে নামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা হবে। এতে হেফাজতের ব্যানারে মাঠে নামবে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। ধৈর্যের বাঁধ শেষসীমায় পৌঁছে গেছে। এখন থেকে যেখানে আঘাত সেখানেই পাল্টা আঘাত করা হবে।”

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, “নৈরাজ্য-নাশকতা-হামলা বন্ধ করুন। অন্যথায় স্বাধীনতাকামী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠন নিয়ে এর দাত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।”

Comments
Loading...