ট্রাফিককে পেটালো ছাত্রলীগ, পাশেই ছিলেন সোহাগ

0 ২৭

image_96778_0ঢাকা: রাজধানীর জিরো পয়েন্টে এক ট্রাফিক কনস্টেবলকে বেদম পিটিয়েছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের কর্মী-সমর্থকরা। আহত ট্রাফিক কনস্টেবল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর পল্টন জিপিও সিগন্যাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

কনস্টেবল মামুন বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমি তাদের কিছুই বলিনি। আমাকে সিগন্যাল ওভারটেক করে তাদের গাড়িগুলো পার করে দিতে বলে। “মাত্র সিগন্যাল ছাড়ছি একটু দাঁড়ান আমি পার করে দিচ্ছি”- এ কথা বলতেই পেছন থেকে ১০-১৫ জন লোক আমার মাথায় কিল ঘুশি দিতে থাকে। আমি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে পিঠে ও কোমরে তারা লাথি মারে। সমস্ত শরীর ব্যাথা। ব্যাথার জন্য দু’দুইটা ইন্জেকশন দিছে। এখনো ব্যাথা কমেনি। আমি এখন রাজারবাগ হাসপাতালের চার তলায় ১নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিগন্যাল ওভারটেক করে একটি মাইক্রোবাস ক্রসিং পার হতে চাইলে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল গাড়িটিকে আটকায়। কিন্তু তিনি জানতেন না গাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাফিক কনস্টেবল আশিক ও নিরঞ্জন জানান, আহত ট্রাফিক কনস্টেবল মামুনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় মামুনের সঙ্গে নিরঞ্জনও সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একটি মাইক্রোবাস সিগন্যাল ওভারটেক করে যাওয়ার চেষ্টা করলে মামুন মাইক্রোবাসটি আটক করে। এর ফলে গাড়ির পেছনে থাকা ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেল আরোহী তাকে মারধর করতে থাকে। পরবর্তীতে তিনিসহ সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় জিপিও মোড়ের সিগন্যালের চার্জের দায়িত্বে ছিলেন সার্জেন্ট আশিক।’

ঘটনার ২০ মিনিট পর জিপিও সিগন্যালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ট্রাফিক পুলিশসহ পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। এ সময় এ ঘটনায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায় এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়।

ট্রাফিক পুলিশের ডিসি উত্তরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটা আমার জানা নেই। আমি মিটিংয়ে আছি। পরে ফোন করুন।’

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা বলেন, ‘সিগন্যাল ওভারটেক করে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের মাইক্রোবাসটি অতিক্রম করতে গেলে ট্রাফিক কনস্টেবল গাড়িটিকে আটকিয়ে দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই কনস্টেবলকে মারধর করতে থাকে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে ধরে পিক-আপ ভ্যানে ওঠাতে গেলে সোহাগ গাড়ি থেকে নেমে ওই কর্মীকে ছাড়িয়ে নেন।’

শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এনামুল হক শামীমের ওপর গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। সেই সমাবেশে যোগদান করেত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিকে যাচ্ছিল। সে সময় ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দিলে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

Comments
Loading...