‘তারেক রহমানের তথ্য চেয়েছিল অপহরণকারীরা’

0 ১৯

index_48262ঢাকা : যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিবকে টাকার জন্য কখনো বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করেনি অপরহণকারীরা। কিন্তু তারেক রহমানের বিষয়ে তারা তথ্য চেয়েছিল। যদিও একবার অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ১২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে অপহরণকারীরা টাকার জন্য দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করেনি। এমনকি আটক অবস্থায় টাকার জন্য মুজিবকেও কোনো চাপ দেয়নি তারা। তবে বিভিন্ন ছুতোয় তার উপর নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে অপহরণকারীরা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নির্যাতনের কালো দাগও রয়েছে তার।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সদ্য মুক্তি পাওয়া যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা মুজিবুর রহমান মুজিবের স্বজনরা এসব কথা জানান। নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় পর সোমবার গাজীপুর থেকে মুজিব ও তার গাড়িচালক সোহেলকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুজিবকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

মুজিবের শ্যালক ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের হাসপাতালে এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, অপহরণকারীরা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছিলো বলে তিনি (মুজিব) অভিযোগ করেছেন। তার সম্পদ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে অপহরণকারীরা। তবে তা কি জন্য জানতে চেয়েছে তা বুঝতে পারছি না। অপহরণকারীরা ১২ কোটি টাকা মুক্তিপণও চেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর টাকার জন্য যোগাযোগ করেনি।

তিনি আরো জানান, ‘অপহরণের পর ‘নো কলার আইডি’ থেকে মুজিবের ছেলে রিপন হাসমির কাছে ফোন দিয়ে ১২ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তোমরা টাকা দিতে রাজি হলে, কোথায় টাকা দেবে বলে দেওয়া হবে। সে রাজি না হওয়ায় কোথায় টাকা নেবে, সেটাও তারা বলেনি।’

মুক্তিপণের মাধ্যমে মুজিবকে মুক্ত করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো মুক্তিপণ দিয়ে তাদের মুক্ত করা হয়নি। অপরহরণকারীরা একবার টাকা চাইলেও তারা আর যোগাযোগ করেনি।’

তিনি জানান, সোমবার সকালে আমি বৃটেন থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করি। বাসায় যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকতেই খবর পাই মুজিব ও তার গাড়ি চালক সোহেল তার গুলশানের বাসায় পৌঁছেছেন। তখন সময় দুপুর ১২টা।’

তিনি আরো জানান, ‘বাসায় গিয়ে মুজিব ও সোহেল দু’জনকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে গুলশানস্থ ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাদের ফিরে আসার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে গুলশান জোনের একজন সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে বেশ কিছু সাদা পোশাকের পুলিশ ইউনাইটেড হাসপাতালে আসে। এ সময় ডাক্তারদের অনুমতি নিয়ে গুলশান জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা মুজিবের সঙ্গে কথাও বলেন।

মুজিবের বরাত দিয়ে অপহরণের বর্ননা দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার আনোয়ার জানান, প্রাথমিক আলাপচারিতায় মুজিব জানিয়েছেন, গত ৪ মে বিকেলে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট ফেরার পথে সিলেট শহরতলীর টুকের বাজার এলাকায় তাকে বহণকারী গাড়িটির গতিরোধ করে একটি মাইক্রোবাস। ওই গাড়িতে বসা ছিল ৮/১০ জন লোক। তারা নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দেয়। প্রথমে তারা গাড়িচালক সোহেলের লাইসেন্স দেখতে চায়। এরপর দুজনকে গাড়ি থেকে নামতে বলে। গাড়ি থেকে নামার পরপরই তারা পাশের একটি মাইক্রোতে উঠতে বলে মুজিব ও সোহেলকে। এ সময় মুজিব ও সোহেল ধস্তাধস্তির চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পাশে থাকা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর এক ধরনের স্প্রে করে। তারপর আর কিছুই বলতে পারেনি তারা।

এ ব্যাপারে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার লুৎফুর কবির শীর্ষ নিউজকে জানান, বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি সুস্থ হলে তিন মাস কোথায় ছিলেন, কারা তাকে অপহরণ করেছিল পুলিশি হেফাজতে নিয়ে  এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া সুনামগঞ্জ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউনাইডেট হাসপাতাল এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে গুলশান জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করলে তিনি পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রবাসী মুজিবুর রহমান ও তার গাড়িচালক মো. রেজাউল করিম সোহেল গত ৪ মে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ৬ মে মুজিবের ভাগ্নি জামাতা অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।  ১০ মে রবিউল ইসলামের সাধারণ ডায়েরিকে অভিযোগ হিসেবে নিয়ে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে আকবর চৌধুরী (৩০), জিহাদ (২৭) ও তারেক (২৭) নামে ৩ যুবককে আটক করে পুলিশ।

এছাড়াও ২০ মে দিবাগত রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা গ্রাম থেকে মাহমুদ নামে অপর এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

মুজিবুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার পর দেশ-বিদেশে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। তারা নিখোঁজ প্রবাসী নেতাকে উদ্ধারের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এরপর যুক্তরাজ্যের একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং মুজিবুর রহমানকে উদ্ধারের আহ্বান জানায়।

Comments
Loading...