দ্বিতীয় বৈঠকেও একচুল নড়েনি দুইদল

0 ২৫

66854_0ঢাকা: আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সঙ্কট নিরসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করলেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েনি বলে জানা গেছে। আর তাই কোনো ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি প্রধান দুইদল।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতেই বুধবার দুপুরে গুলশান-২ নম্বরে ইউএনডিপির একটি প্রকল্প অফিসে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করে দুইদলের আট প্রতিনিধি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারা। অপরদিকে বিএনপি নৈরাজ্য ও কর্মসূচি বন্ধ করলেই আলোচনার অগ্রগতি সম্ভব বলে জানায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ। তবে প্রথম বৈঠকের মতো আজকের আলোচনায়ও তারানকোর কোনো প্রস্তাব ছিল না বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় খুব তাড়াতাড়ি সঙ্কট নিরসন হচ্ছে না বলেই ধারণা।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক নেতা বাংলামেইলকে জানান, দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। কারণ সরকার পক্ষ কোনো ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না। তারা আন্দোলন কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলছে। সরকারের মনোভাব এমন অনমনীয় হলে কিংবা তারা ছাড় না দিতে চাইলে আলোচনায় কোনো ফল হবে না।

ওই নেতা আরো জানান, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয় বৈঠকে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ওইসব নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য সরকারি দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সঙ্গে অবিলম্বে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করার দাবি করা হয়। আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নির্বাচনের তফসিল পেছানোরও দাবি আসে। এছাড়া দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, তাদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে বলা হয়- হরতাল, অবরোধসহ সব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করলেই আটককৃতদের মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সরকারসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেই সঙ্গে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করারও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।

এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জামায়াতকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার কথা বলা হলে বিএনপি নেতারা জানায়, তাদের তো নিবন্ধনই নেই। তাদেরকে নির্বাচনের ভেতরে বা বাইরে রাখার কি আছে? এছাড়া নির্বাচনে কিভাবে আসবে সেটা জামায়াতের বিষয়।

তবে বৈঠকে তারানকো বলেছেন, ‘জাতিসংঘ চায় বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে এ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এ নির্বাচনে যেন প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ থাকে। আর তাই দুইদল একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যায়।’ সেই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া যে কোনো সমাধানে পৌঁছার জন্য আলোচনার বিকল্প নেই বলেও জানান তারানকো।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বিষয়ে তারানকোর বক্তব্যের প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বাংলামেইলকে বলেন, ‘জাতিসংঘ একটি আইনসম্মত অর্গানাইজেশন। তাদের একটি নিয়মনীতি আছে। তারা সংবিধানের বাইরে নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলতে পারে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা সংবিধান সংশোধনের বিপক্ষে বলেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারানকো বলেছেন- দুই দল যেন একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসতে পারে সে জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে। এ থেকেই বুঝা যায় আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তার পক্ষে মত দেননি তিনি।’

আলোচনার একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে প্রস্তাব দেয়, নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রধান থাকবেন। কিন্তু তার ক্ষমতা খর্ব করা হবে। তবে বিএনপি এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তারা নিজেদের দাবিতেই অনড় বলে জানায়।

বুধবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। আর বিএনপির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবারও জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নীল ওয়াকারের গুলশান-১ নম্বরের বাসায় বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। ওই বৈঠকেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই ৮ নেতাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে হোটেলে ফিরে জাতিসংঘ দূত ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান।

Comments
Loading...