নারীতেও জামায়াতের চমক, অবাগ সরকারী দল

0 ১০

 Jamayat-femailর্তমানে সবচেয়ে কোণঠাসা থাকা দল হলেও উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে জামায়াতে ইসলামী। চেয়ারম্যান পদে ধারাবাহিকতার পাশপাশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির চমক অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে দলটির নারী ভাইস চেয়ারম্যানে তিন ধাপে ২৪ উপজেলায় বিজয়। যা সারাদেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ জামায়াতে ইসলাম অনেকটাই ‘নারীবিদ্বেষী’। তবে জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘২০০৮ সালে জামায়াত নীতিনির্ধারণী ফোরামে নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে। ৫২ সদস্যবিশিষ্ট জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে বর্তমানে ১১ নারী সদস্য রয়েছেন।’ শনিবার ৮১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে তিনটির ফলাফল স্থগিত রয়েছে। বাকি ৭৮টি উপজেলার বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত (বিদ্রোহীসহ) ৪০ জন, বিএনপি ২৭ (বিদ্রোহীসহ), জামায়াত ৮ এবং অন্যান্য সংগঠনের সমর্থনে ৩ জন চেয়ারম্যান হয়েছেন। তবে এ ধাপের নির্বাচনে জামায়াত ২৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আটটিতে জয় পায়। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ২৪টি আর নারী পাঁচটিতে জয় নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষে ২৯ আর নারী পদে ২৭টিতে জয় পেয়েছে। বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে ১৯টি আর নারীতে ৩৯টি উপজেলায় জয় পেয়েছে। এর আগে জামায়াত দ্বিতীয় ধাপে ভাইস চেয়ারম্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের শরিক বিএনপিকেও ছাড়িয়ে যায়। পুরুষ পদে তাদের ৩৫ প্রার্থী বিজয়ী হন, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ২৮টি করে উপজেলায় জয় পেয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে অন্তত ৯টিতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থীরা জয়ী হন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ৪৪, আওয়ামী লীগ ২৬, জাতীয় পার্টি ২ এবং অন্যরা ৪টিতে জয়ী হয়। প্রথম দফায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত জিতেছিল ১০টি উপজেলায়। এক্ষেত্রে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জিতেছিল ৩৪টি করে উপজেলায়।

এর আগে প্রথম দফায় ভাইস চেয়ারম্যানে জামায়াতের ২৩ জন জয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ২৪ এবং বিএনপি জয় পেয়েছিল ৩২টি উপজেলায়। জামায়াতের উপজেলা নির্বাচন মনিটরিং কমিটির সদস্য গাজী আব্দুল হামিদ আকন্দ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে জামায়াতের জনসমর্থন ছিল। আর জামায়াতের এ জনপ্রিয়তা দেখে আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখল করে এবং হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলার মুখে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। অবাধ নির্বাচন হলে জামায়াত জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে যেতো।’

download (2)

 

 তৃতীয় ধাপে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান: আবদুর রশীদ (মান্দা, নওগাঁ), নূরে আলম সিদ্দিকী (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর), আজিজুর রহমান (দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা), আকরাম হোসেন (সদর, গাইবান্ধা), মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন (ধামুরহাট, নওগাঁ), কেরামত আলী (শিবগঞ্জ, চাঁপাই), মোখলেসুর রহমান (সদর, চাঁপাই) ও সাইদুর রহমান (সাদুল্লাহপুর, গাইবান্ধা)। জামায়াত সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ): আবদুল মালেক (সেনবাগ, নোয়াখালী), মোজাম্মেল হোসেন (হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর), মাওলানা মিজানুর রহমান (ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা), মুহা. সাইফুল ইসলাম (বুড়িচং, কুমিল্লা), মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন (ভাঙ্গা

, ফরিদপুর), মুহাম্মদ ফজলুল হক (ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ)। আজিজুর রহমান অলিদ (বাবুগঞ্জ, বরিশাল), অধ্যক্ষ আবদুর রউফ (কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা), মো. কামাল হোসেন (পাইকগাছা, খুলনা), মো. আবদুল কাদের (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা), আবদুস সালাম (পোরশা, নওগাঁ), রাশেদুল আলম সবুজ (আক্কেলপুর, জয়পুরহাট), মুহা. হাবিবুর রহমান (সদর, কুড়িগ্রাম), অধ্যক্ষ আবুল হাশেম (রৌমারী, কুড়িগ্রাম), মুহা. রফিকুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও, হরিপুর)। মো. মোখলেসুর রহমান (মংলা, বাগেরহাট), শাহীনুর ইসলাম, (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর), মাওলানা হুমায়ুন কবির (কমলনগর, লক্ষ্মীপুর), নাজমুল ইসলাম (চারঘাট, রাজশাহী), ফজলুল হক (মণিরামপুর, যশোর), ডা. লোকমান আলী (ভোলারহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মাওলানা সোহারাব আলী (সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ), অধ্যাপক কামারুজ্জামান (গোদাগাড়ী, রাজশাহী), ফিরোজ হায়দার লাভলু (আদিতমারী, লালমনিরহাট)। জামায়াত সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান (নারী): জয়নব পারভীন (কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা), শামিম আরা পান্না (দক্ষিণ সুরমা, সিলেট), আসমা খাতুন (মধুখালী, ফরিদপুর), ইয়াসমিন আরা বেগম (সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও রেজিনা আক্তার সম্পা (আদিতমারী, লালমনিরহাট)।

Comments
Loading...