নিষিদ্ধ হলে নতুন নাম ও কৌশলে আসবে জামায়াত

0 ২২

Jamayatনিষিদ্ধ হলে দলের নাম পরিবর্তন করে ফেলতে পারে জামায়াত। দলটি দুটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে একীভূত হওয়া। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভিন্ন নামে নতুন দল গঠন।

নিষিদ্ধ হলে দ্বিতীয় পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নিধনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তাসহ সাতটি অপরাধে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করা হবে।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত নেতৃত্বকে নিষিদ্ধের বিষয়টিও আবেদনে থাকছে। আদালতের রায় জামায়াতের বিপক্ষে গেলে দল নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও রাজনীতিথেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন। জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নিষিদ্ধের বিষয়টিও আবেদনে রয়েছে। যদিও স্বাধীনতার পরপরই ছাত্রসংঘ বিলুপ্ত হয়ে যায়। জামায়াতের সমর্থক সংগঠন হিসেবে ১৯৭৭ সালে যাত্রা করে ইসলামী ছাত্রশিবির, যার আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি ছাত্রসংঘের মতো। তাই শিবিরও নিষিদ্ধ হতে পারে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এরই মধ্যে জামায়াতের পাঁচ সাবেক ও বর্তমান নেতা দণ্ডিত হয়েছেন। রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতকে দলগতভাবে দায়ী করা হয়েছে। গোলাম আযমের রায়ে জামায়াতকে অপরাধী দল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জামায়াত এখনও একাত্তরের নীতিতে বহাল রয়েছে বলেও রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়।

একাত্তরের দায় এড়াতে নতুন নামে দল গঠনের বিষয়টি জামায়াতের অভ্যন্তরে ছয় বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে। নিষিদ্ধের আবেদনে তা আরও গতি পেয়েছে। শিবিরের সাবেক এক সভাপতি বলেন, ‘নতুন নামে একটি নয়, ১০টি দল গঠনের ক্ষমতা জামায়াতের আছে।’ নিষিদ্ধ হলে জামায়াত সে পথেই এগোবে বলে জানান এই নেতা।

জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন দল গঠন করলে তার প্রকাশ্য লক্ষ্যে ধর্মভিত্তিক উদ্দেশ্য থাকবে না; বরং কাগজে-কলমে গণমুখী গণতান্ত্রিক লক্ষ্যযুক্ত দল গঠন করা হবে। গঠনতন্ত্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য দলীয় পদ উন্মুক্ত থাকবে। তবে অভ্যন্তরে পুরনো নীতিই থাকবে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে শরিয়া আইন কায়েম ও ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথেই থাকবে তারা।সাধারণ মানুষের অধিকাংশই জামায়াতবিরোধী। সাধারণ মানুষের আবেগ-অনুভূতি বিবেচনায় রেখে ভিন্ন নামে গণতান্ত্রিক দল গঠন প্রক্রিয়া ২০০৮ সালে জামায়াতের অভ্যন্তরে শুরু হয়। ২০১০ সালের ১১ জানুয়ারি আল-রাজী কমপ্লেক্সে শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের তরুণ নেতারা বৈঠক করেন।

এতে বিভিন্ন দেশের ধর্মভিত্তিক দলের নাম বদল করে নতুন নামে দল গঠনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে জামায়াতকে বদলের পক্ষে মত দেওয়া হয়। তবে দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এর বিরোধী ছিলেন। তাদের হস্তক্ষেপেই এ তৎপরতা আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ভূমিকার জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পক্ষপাতী জামায়াতের উদারপন্থি অংশ। উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি নিজের কলামে লেখেন, ‘অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই। মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-মুসিবত বাড়ানোর জন্য আল্লাহ পবিত্র কোরআন নাজিল করেননি।’জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন দল করার পক্ষপাতী তরুণ নেতারা।

বিতর্ক এড়াতে, একাত্তরে যারা প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন_ এমন কাউকেই নেতৃত্বে রাখা হবে না। নেতৃত্ব বদলের মতো বর্তমান কার্যালয় ও জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও নতুন দলকে দূরে রাখার পক্ষপাতী তারা। জামায়াতের ঢাকা মহানগরের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হাকিম সমকালকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ করলেও জনগণের দল হিসেবে জামায়াত যে কোনো পন্থায় জনগণের সঙ্গেই থাকবে।’

আরেকটি বিকল্প হলো, নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে একীভূত হওয়া। শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য জানান, ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে দুটি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

জামায়াতের আইন বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘আমার পক্ষে বিশুদ্ধ মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। সৎ উদ্দেশ্য ও সময়ের প্রয়োজনে যে কোনো সংস্কারকে স্বাগত জানানো উচিত।’

Comments
Loading...