পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ বেড়েছে শতগুণ

0 ২৬

Ceragঢাকা: নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদের পরিমাণ যা ছিল তা বহুগুণে বেড়েছে বিগত পাঁচ বছরে। কারো কারো সম্পদ বেড়েছে শতগুণেরও বেশি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে তাদের দেয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা যায়। গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশিগুণে সম্পদ বেড়েছে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান এবং তার স্ত্রীর। তাদের সম্পদের পরিমান বেড়েছে ১০৭ গুণ।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামা অনুযায়ী, আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রীর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বচানের আগে কমিশনকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি তিন লাখ টাকা। তবে কমিশনকে দেয়া হলফনামায় তাদের সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়নি।

তিনি কিভাবে সম্পদ ১০৭ গুণ বৃদ্ধি করলেন, এ ব্যাপারে জানার জন্য ১০ বারের অধিক ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

গত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এই নেতা ও তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার স্ত্রীর ছিল দুই লাখ টাকা। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের বাৎসরিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার স্ত্রীর আয় ছিল এক কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা এক বছরের মধ্যেই বেড়েছে একশ’ গুণ।

সম্প্রতি দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবিধ উৎস থেকে আবদুল মান্নান আয় করেছেন এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা আর তার স্ত্রী আয় করেছেন এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু কোন কোন খাত থেকে কত আয় করেছেন তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি তিনি।

ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রীর ২০০৮ সালে অস্থাবর সম্পত্তি ছিল প্রায় ছয় লাখ ৪৭ হাজার টাকার। এর মধ্যে ছিল নগদ অর্থ, শেয়ার, ব্যাংক আমানত, গাড়ি, স্বর্ণ ও আসবাবপত্র।

বর্তমানে এই দম্পতির অস্থাবর সম্পত্তির দাম দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা। যা বেড়েছে ২০৮ গুণ। মজার বিষয় হলো, আবদুল মান্নানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কোনো ব্যাংকে তাদের টাকা নাই।

২০০৮ সালে তাদের কোনো সঞ্চয়ী হফলনামা বা এফডিআর ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেটা ৫০ লাখ টাকা।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আবদুল মান্নান এবং তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ছিলো যথাক্রমে ৫১ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে এই টাকা বেড়েছে হয়েছে ৪০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা।

এই আওয়ামী লীগ নেতার আগের হলফনামা অনুযায়ী অনাবাদী ভূমির অর্থমূল্য ছিল দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা। যা বেড়ে বর্তমানে এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

২০০৮ সালের সম্পদের বিবরণী অনুযায়ী তার কোনো অ্যাপার্টমেন্ট ও বিল্ডিং নেই। বর্তমানে আবদুল মান্নানের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি বিল্ডিং রয়েছে- যার মূল্য তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

গত নির্বাচনের আগে তাদের কোনো মৎস খামার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে তাদের ১০টি মৎস খামার রয়েছে। যা উত্তারাধিকার হিসেবে পেয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রথম বছর আাবদুল মান্নান ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বলে জানা যায়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি নমনীয় আচারণ করতে থাকেন।

এছাড়া, গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য নূর-এ-আলম চৌধুরী লিটন ও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৬ দশমিক ৪৯ গুণ। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী, তাদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বর্তমানে এই দম্পতির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের সম্পদের পরিমাণ ছিলো ৩৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার। কিন্তু পাঁচ বছরে তার সম্পদ ৪০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকায়।

২০০৮ সালে ঢাকাতে সাড়ে পাঁচ একর জমিসহ এক কোটি ৪৪ লাখ টাকার মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আসলামুল হক। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে জমিদারে পরিণত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে ১৪৫ দশমিক ছয় একর জমির সঙ্গে চার কোটি ৯৪ লাখ টাকার মালিক তিনি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও বিবিএ’র সার্টিফিকেট আছে ৫২ বছর বয়সী এই নেতার।

আওয়ামী লীগের আরেক আইন প্রণেতা নজরুল ইসলাম বাবু ২০০৮ সালের আগে ২১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিক ছিলেন। বর্তমানে তা ২৪ দশমিক ৭৮ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়।

সাবেক এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার স্ত্রীর ২০০৮ সালে সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকার। কিন্তু বর্তমানে আট গুণ বেড়ে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ আট কোটি ২৮ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবদুস শহীদ ২০০৮ সালের আগে ৮৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদের মালিক ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ৩ দশমিক ০২ গুণ বেড়ে তার সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিগুণ বাড়িয়েছেন। ২০০৮ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল দুই কোটি নয় লাখ টাকা। এখন তার মোট সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৩১ লাখ টাকা। সূত্র: ডেইলি স্টার।

Comments
Loading...