পাকিস্তানে হিট ‘ধুম থ্রি’

0 ১৪

image_75747লাহোর: ‘ধুম থ্রি’-র ধুম জ্বরে আক্রান্ত পাকিস্তানও৷ আইনের ফাঁস এড়িয়ে ভারতের সীমান্তপারের শহরেও শুক্রবার মুক্তি পেল বলিউডের বিগ বাজেটের এই ছবি৷ আর প্রথম ক’দিনেই উৎসাহী দর্শকে হাউসফুল লাহোরের মাল্টিপ্লেক্সগুলি৷

আমির খানের অভিনয়ের জাদু পাকিস্তান আদৌ দেখতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মিডিয়া গ্রুপের লড়াই৷ ভারতীয় সিনেমার কারণেই মার খাচ্ছে পাকিস্তানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, তাই পাক চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে সেখানে ভারতীয় সিনেমার সম্প্রচার বন্ধ করা হোক, এই মর্মে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন পাকিস্তানের একটি মিডিয়া গ্রুপ৷ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত শুক্রবারই পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল ‘ধুম থ্রি’৷

দু’পক্ষের চুক্তিতে স্থির হয়েছে, পাকিস্তানে মুক্তি পাওয়া বলিউডি সিনেমা থেকে যে টাকা উঠবে তার একটা নির্দিষ্ট অংশ খরচ করা হবে পাকিস্তানি সিনেমার উন্নতিতে৷ দু’পক্ষের এই চুক্তিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন প্রযোজক সারা তারিন৷ তার কথায়, ‘এতে দু’পক্ষেরই জয় হলো৷ শুক্রবার থেকেই শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলিতে ধুম থ্রি দেখতে পাবেন এখানকার মানুষ৷ একই সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, বলিউডি সিনেমার মাঝের এক একটি শোয়ে দেখানো হবে পাকিস্তানি সিনেমাও৷’

লাহোরের এমএম আলম রোডের ‘সুপার সিনেমা’য় ‘ধুম থ্রি’-র প্রিমিয়ারে হাজির ছিলেন তারিন৷ দর্শকদের উত্সাহ ও উচ্ছ্বাস তাকে মুগ্ধ করেছে৷ হাড়হিম করা ঠাণ্ডা ও কুয়াশার মধ্যেই টিকিট কাউন্টারের সামনে উপচে পড়ছে ভিড়৷ হাইপ্রোফাইল দর্শকের গাড়ির লাইনে সে দিন প্রেক্ষাগৃহের সামনে রীতিমত ট্রাফিক জ্যাম হয়ে যায়৷

বেশ কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্সের মালিক ও নামজাদা ডিস্ট্রিবিউটর নাদিম মান্ডভিওয়ালের কথায়, ‘প্রথম দিনেই ১.৯০ কোটি রুপির ব্যবসা করেছে ধুম থ্রি৷ আশা করি লাভের অঙ্ক ১৫ কোটিতে গিয়ে পৌঁছবে৷ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাকিস্তানি সিনেমা ‘ওয়ার’ও প্রথম দিনে ১.১০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করতে পারেনি৷ লাহোরের মাল্টিপ্লেক্সে ধুম থ্রি-র একটা শোয়ের জন্যই হাজারেরও বেশি টিকিটের অগ্রিম বুকিং হয়েছে৷ অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, সোমবার পর্যন্ত মাল্টিপ্লেক্সগুলির সব শোয়ের সব টিকিট বুকড৷’

‘ধুম থ্রি’-র এই সাফল্য নাদিমের মুখে হাসি ফোটালেও পাকিস্তানে এই সিনেমার মুক্তির ব্যাপারে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাদের৷ তিনি নিজেই জানান, বলিউডি সিনেমাই পাকিস্তানের মাল্টিপ্লেক্স ও থ্রিডি সিনেমা হলগুলিকে বাঁচিয়ে রেখেছে৷ পাক সাংবাদিক উসমান গফুরের বক্তব্য, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সরকারি উদ্যোগেই ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় সিনেমা দেখানো শুরু হয়৷ আর তার হাত ধরেই মাল্টিপ্লেক্সগুলোর রমরমা৷ শুধু তাই নয়, ভারতীয় সিনেমাই পাক দর্শকের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে৷’

বলিউডি সিনেমা এখন জড়িয়ে গিয়েছে পাকিস্তানি অর্থনীতির সঙ্গে৷ বলিউডি সুপারহিটের হাত ধরেই মোটা অঙ্কের টাকা আসে পাক সরকারের ঘরে৷ তাই এত সহজে যে কাঁটাতারের বেড়া বলিউডি সিনেমাকে আটকাতে পারবে না, তা স্পষ্ট ভাষাতেই জানালেন উসমান৷ সূত্র: ওয়েবসাইট।

Comments
Loading...