বিএনপিকে মাঠে চায় ক্ষমতাসীনরা!

0 ১০

BNP ALE৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর তিনমাসের টানা সরকারবিরোধী আন্দোলন শেষে কার্যত রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরে যায় বিএনপি। দলটির রাজপথে না থাকার বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা। তাদের ধারণা, বিএনপি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে অন্তরালে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। তাই, এই মুহূর্তে বিএনপিকে রাজনৈতিক মাঠে ফেরাতে হবে। তাদের ধারণা, দলটিকে রাজনৈতিক মাঠে ফেরানো গেলে চলমান ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতি’ স্বাভাবিক করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকারি দল নানামুখী উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টিকে বিএনপিকে মাঠে ফেরানোর কৌশলের ইঙ্গিত বলে ধারণা করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বিএনপিকে মাঠে ফেরানো গেলে ষড়যন্ত্র হয়ত বন্ধ হতে পারে। তাদের মতে,  রাজনীতির মাঠে না থেকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলটির নেতারা । তাই, দলটিকে রাজনীতির মাঠে ব্যস্ত করা গেলে ষড়যন্ত্র করার সময় ও সুযোগ কোনওটাই পাবে না বিএনপি। আর সভা-সমাবেশ নিয়ে বিএনপি মাঠে ফিরলে বন্ধ হতে পারে  তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বোনা।

সরকারি দল মনে করে, বিদেশি হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হত্যাকাণ্ড ও তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলাসহ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে বিএনপি ও এর দেশি-বিদেশি বন্ধুদের হাত রয়েছে। রাজনৈতিক মাঠে ‘ব্যর্থ’ বিএনপি এখন ঘরে বসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সরকারকে চাপে ফেলতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ দিয়ে ঘটিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিএনপিকে রাজনীতিতে সক্রিয় করা গেলে ষড়যন্ত্র থেকে সরিয়ে আসবে চলটি।

আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা বলেন, বিএনপি মাঠে ফিরে আসুক তা চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে মাঠমুখী করতে বেশ কিছু পরিকল্পনাও আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে বলে জানান ওই সব নেতারা। পরিকল্পনার মধ্যে রাজনৈতিক কোনও কর্মসূচি পালন করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কর্মসূচিতে আগের মতো কড়াকড়ি আরোপ না করা। রাজনৈতিক মাঠে ফিরে এলে বিএনপিকে ‘স্পেস’ও দেওয়া হবে। তবে তা হতে হবে গঠনমুলক। আপাতত বিএনপির রাজনৈতিক কোনও কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না—এমন পরিকল্পনাও রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে অনায়াসে বিএনপিকে তা করতে দেওয়া হবে। সম্প্রতি বিএনপির নেতা এমকে আনোয়ার, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সামসুজ্জামান দুদুসহ বেশ কয়েকজন নেতার জামিন লাভ ও জামিনের সময়সীমা বাড়ানোকে বিএনপিকে মাঠে ফেরানোর কৌশলের ইঙ্গিত বলে ধারণা করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

জানা গেছে, সরাসরি অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলাও আগামীতে শিথিল থাকবে।

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা তো চাই বিএনপি রাজনৈতিক মাঠে ফিরে আসুক। কিন্তু বিএনপির জন্ম ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়ে। তাই রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করে না। ষড়যন্ত্রই তাদের অন্যতম রাজনীতি। তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার বিষয়টি  নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে চলমান ‘অস্বাভাবিক ঘটনাগুলো’কে মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগ আরও কিছু পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বলে জানা গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোকে সক্রিয় করে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের সরকারের কাছাকাছি নিয়ে আসা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করে তাদের কর্মতৎপরতা বাড়ানো। এ সব বিকল্প বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, বিএনপি জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতি মানে জনগণের কল্যাণের কথা ভাবা। আর বিএনপি জনগণের কল্যাণের কথা ভাবে না বলেই মাঠের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা অন্ধকার পথে ক্ষমতায় আসতে চায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক মাঠে ফিরে আসুক, তা চায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ষড়যন্ত্র। তাই মাঠের রাজনীতি তাদের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি বলেন, আমরা মনে করি ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি মাঠে ফিরে আসবে। তাহলে দেশ ও জনগণের কল্যাণ হবে।

Comments
Loading...