বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের আশঙ্কা

0 ৭৩

BNPসিলেট: সিলেট মহানগর বিএনপির দুই গ্রুপ রাজপথে মুখোমুখি অবস্থান নিতে যাচ্ছে। কেন্দ্র্রীয় কর্মসূচি পালনের জন্য তারা মঙ্গলবার নগরীর কোর্ট পয়েন্টে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছে। সমাবেশ সফল করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীরে পক্ষের নেতাকর্মীরা গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দুই পক্ষের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাবে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে যাতে অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা না ঘটে এজন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।

জানা যায়, সিলেট মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শমসের মবিন চৌধুরী ও ইলিয়াস আলীর অনুসারীদের মাঝে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। নগরীতে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ করছে। এর আগে একই ইস্যুতে তারা পৃথক কর্মসূচি পালন করলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় উভয়পক্ষ নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ ডেকেছে। ওই সমাবেশ সফল ও নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা নগরীতে শোডাউন করছেন। উভয় পক্ষই সমাবেশের অনুমতি চেয়ে মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। হঠাৎ করে রাজপথে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় নগরীজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষের নেতা সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বাংলামেইলকে বলেন, ‘মহানগর বিএনপির নির্ধারিত কর্মসূচি বানচাল করতে যারা পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে তারা নিশ্চয়ই দলের ভালো চান না। দলের দুঃসময়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি বাঞ্ছনীয় নয়। রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙা করার পরিবর্তে যারা নিজেদের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তারা জিয়ার আদর্শের প্রকৃত সৈনিক কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।’

এম. ইলিয়াস আলীর পক্ষের নেতা ও মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ চৌধুরী শামীম বাংলামেইলকে বলেন, ‘মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলকে সংগঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দুই বছরের কমিটি দিয়ে তিনবছর পার করলেও তারা এখন পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসতে পারেননি। বিগত আন্দোলনেও তাদের অবস্থান ছিল বিতর্কিত। তাই স্বার্থান্বেষীদের বাদ দিয়ে রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে মহানগর বিএনপি দলীয় কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাংলামেইলকে জানান, বিএনপির দুটি পক্ষ একই স্থানে ও একই সময়ে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে। এখনো কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে উভয় পক্ষকে আলাদা সময়ে সমাবেশ করতে বলা হবে। তারা তা না মানলে পুলিশ নগরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Comments
Loading...