বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আবারও ইইউ’র উদ্বেগ

0 ১৮

1394386156.কূটনৈতিক সংবাদদাতা : বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আবারো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ)। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হকের সাথে সাক্ষাৎকালে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তার সাথে ইইউভুক্ত দেশসমূহের রাষ্ট্রদূতদের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গতকাল সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে উইলিয়াম হানা জানান, পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকার ইস্যুতে যেসব অগ্রগতি হয়েছে তাতেও ইইউ সন্তুষ্ট নয়।
গতকাল সচিবালয়ে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ইইউ বাংলাদেশে বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি তার জবাবে বলেছি যে, আমরা প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত করছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ইইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সেবা খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ যাতে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ যাতে ব্যাহত না হয় সরকার সে ব্যাপারে সজাগ থাকবে।
এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী দিবস উপলক্ষে পোশাক কর্মীদের নিয়ে কেয়ার আয়োজিত ‘লাইভস বিয়ন্ড মেশিন্স- এ রিফ্লেকশন অন প্রায়রিটিস ফর ওমেন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর’ শীর্ষক  অনুষ্ঠানে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেন, পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকার ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় ইইউ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, সন্তুষ্ট না। আমি সন্তুষ্ট নই, কেন আমরা সন্তুষ্ট হব।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএন উইমেন কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস্টিন হান্টার, কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমি টারজি এবং প্রায় একশ জন পোশাক শ্রমিক।
উইলিয়াম হানা জানান, পোশাক কারখানায় অব্যাহত মূল্যায়ন কার্যক্রমের জন্য কয়েকজন আইরিশ পরিদর্শক বাংলাদেশে এসেছেন। এ ছাড়া এ মাসেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। তারা নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকারের বিষয়গুলো দেখবে। প্রথম প্রশ্নই আসবে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে কি না সে বিষয়টি তার কাছে ‘স্পষ্ট নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোশাক খাতের একটি ‘আশাব্যঞ্জক’ চিত্র তুলে ধরতে আগামী কয়েক সপ্তাহ মালিকদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উইলয়াম হানা বলেন, এ খাতে আরো অনেক কিছুই করতে হবে। পোশাক কারখানা পরিদর্শন, শ্রম আইন সংস্কার এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ইস্যুতে অগ্রগতি হলেও এই পরিবর্তনগুলো হচ্ছে ধীরে।
তিনি বলেন, পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কারখানার ফ্লোরে যাতে কোনো ধরনের দাহ্য বস্তু রাখা না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুধু নিরাপদ ভবন হলেই চলবে না। কারখানার ভিতরেও সব কিছু ‘যথাযথ’ হতে হবে।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলেও তা সব কারখানায় এখনো কার্যকর করা হয়নি। এছাড়া কোনো কোনো কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি মানা হচ্ছে না দাবি করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ন্যূনতম মজুরি কার্যকর এবং ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে কারখানা মালিকদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই হবে।
উইলিয়াম হানা বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। আর তৈরি পোশাক খাতের ৬০ শতাংশ পণ্যই রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের বাজারে।
উল্লেখ্য, ইতিহাসের ভয়াবহতম সাভারের ওই ভবন ধসে এক হাজার ১৩১ জন নিহত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ২৪ এপ্রিল। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, যেখানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে বাংলাদেশি পোশাকের। রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার নিরাপত্তা ও পোশাক কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রূপরেখা দেয় ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে পোশাক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ছিল না। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাক খাতের উন্নয়নে যে ১৬টি শর্ত দেয়া হয়েছিল ইতোমধ্যে তার ১৩টিই পূরণ করা হয়েছে। বাকিগুলোও শীঘ্রই পূরণ করা হচ্ছে।

Comments
Loading...