ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণায় বেকায়দায় সৌদি সরকার

0 ১৪

79395_1দুবাই:  বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামপন্থি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে বেকায়দায় পড়েছে সৌদি সরকার। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। খবর দা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’র।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্রাদারহুডের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দৈনন্দিন রাজনীতিতে মিশরভিত্তিক এই দলটি বড় ফ্যাক্টর।

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। কাতার সৌদির সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। একারণে দোহা থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সৌদি সরকার।

মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গত জুলাইয়ে বন্দুকের নলের মাথায় সরিয়ে দেয়ার পর থেকেই মিশরের সেনাবাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার ।

মিশরের সেনা সমর্থিত সরকারকে কয়েকশ’ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে সৌদি আরব।

কাতার ব্রাদারহুডের পক্ষ নেয়ার সৌদি আরব ৬ জাতির উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে (জিসিসি) দোহাকে একঘরে করে ফেলতে চাইছে।

সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও বেকায়দায় পড়েছে। এই তিনটি দেশেই বংশানক্রমিক শাসন চলছে এবং সেখানে জনমতকে থোরাই কেয়ার করা হয়।

স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর প্রতিটি নির্বাচনে ব্রাদারহুড জয়ী হলেও আরবের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে এই দলটি।

তবে সৌদি আরবের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেও ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে পারছে না বাহরাইন। কারণ দেশটির সুন্নী ক্ষমতাসীনদের সহযোগীদের অনেকেই ব্রাদারহুডের  প্রতি দুর্বল। তাছাড়া এই ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে সরকার বিরোধী শিয়া সংগঠনগুলো।

আমিরাত সরকারও ব্রাদারহুডকে নিজেদের বংশানুক্রমিক শাসনের ক্ষেত্রে হুমকি মনে করে। তবে দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে ঘোষণা করেনি।

কুয়েতের অবস্থানও আমিরাতের কাছাকাছি।

বাহরাইনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ওয়াফা আল সাঈদ বলেন, ‘কাতারের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই ঘোষণায় দেশটির সাথে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করা হলে যে কাউকে এই সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা যাবে।

সৌদি আরবের আশঙ্কা দেশটি সাহওয়া মুভমেট ব্রাদারহুড প্রভাবিত এবং তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছে।

উল্লেখ্য, ‘কাস্টডিয়ান অফ দা টু হলি মস্কস’ উপাধি খ্যাত সৌদি সরকার ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করলেও বিশ্বের কোনো মুসলিম রাষ্ট্রই তাদের ঘোষণাকে স্বাগত জানায়নি।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নও কখনো ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মন্তব্য করেনি।

মুসলিম বিশ্বের ‘মুরব্বি’ রাষ্ট্রটি এমন একটি সংগঠনকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা দিয়েছে যাদের কর্মীরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন।

গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত নিরস্ত্র ৬,০০০ মুরসি সমর্থককে হত্যা করেছে মিশর সরকার।

Comments
Loading...