মসলার দাম খুচরা বাজারে ডাবল

0 ৫৯

moslaঢাকা: এক কেজি দারচিনি পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩৫ টাকায়। ওই পণ্যই খুচরা বাজারে ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। এ হিসাবে খুচরা বাজারে এককেজি দারচিনির দাম পরছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

প্রতিকেজি কিছমিছ পাইকারি দামে কেনা যাচ্ছে ২৩৫ থেকে ৩৭০ টাকায়। কিন্তু তারা ১০০ গ্রাম বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এ হিসাবে খুচরা বাজারে এক কেজি কিছমিছের দাম দাঁড়ায় ৪০০ থেকে সাড়ে চারশ টাকা।

শুধু দারচিনি, কিছমিছ নয়, প্রায় প্রতিটি মসলা পাইকারি দামের চেয়ে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাইকারি বাজারের দূরত্ব ভেদে ১০০ গ্রাম মসলার দামের পার্থক্য রয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কাওরান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার, গুলিস্থানসহ কয়েকটি মসলার পাইকারি ও খুচরা বাজার সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদুল আজহা এলেই পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা নানা অজুহাতে মসলার দাম বাড়ায়। তবে এবার ঈদের অনেক আগ থেকে তারা এ কৌশল অবলম্বন করেছে।

মৌলভীবাজারের পাইকারি মসলা বিক্রেতা মো. নাসির বাংলানিউজকে জানান, প্রায় প্রতিটি মসলার পাইকারি দাম এখন অনেক কম। তবে দুই একটি মসলার দাম বেড়েছে।

আর মহাখালী মসলা বাজারের খুচরা বিক্রেতা মহসিন জানান, ১০০ গ্রাম করে মসলা বিক্রি করতে হয়। এককেজির মধ্য মানের দিক দিয়েও কিছু মসলা খারাপ হয়। সেগুলো অল্প দামে বিক্রি করেন। অনেক সময়ে ১০ থেকে ২০ টাকারও মসলা চান ক্রেতারা।

তিনি বলেন, পাইকারি দামের সঙ্গে মসলার খুচরা দাম কখনো মিলবে না। বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এক কেজি গোলমরিচের পাইকারি দাম ৮৫০ থেকে একহাজার ৮০ টাকা। ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে এককেজির দাম পড়ছে ১৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়।

বাজারে চীনাবাদাম  পাইকারি দামে এক কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় আর খুচরা ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার পাইকারি দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। ১০০ গ্রাম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

কাঠবাদামের এককেজি পাইকারি দাম ৮৯০ থেকে ৯০০ টাকা। ১০০ গ্রাম খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

পোস্তদানা এককেজি পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১হাজার ৬৫০ টাকায়। খুচরা ১০০ গ্রামের দাম ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা।
জায়ফল ৫৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি পাইকারি বাজারে। প্রতিটি জায়ফল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়।

লবঙ্গ পাইকারি এককেজি ১ হাজার ১৮০ থেকে ১হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এলাকা ভেদে কারওয়ান বাজারে খুচরা ১০০ গ্রাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং মহাখালিতে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

এলাচ ৯৩০ থেকে ১হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি করছেন পাইকারি বিক্রেতারা। খুচরা বাজার ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

তেজপাতা ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় পাইকারি দরে পাওয়া যাবে। ১০০ গ্রাম কিনতে লাগছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

এছাড়া পাইকারি দরে প্রতিকেজি আলু বোখরা ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, কালো এলাচ ১হাজার ৯৫০ টাকা, কাজু বাদাম ৬৫০ টাকা, মেথি ১০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, রাধুনী ১৬০ থেকে ১৭০, চাঁদামরিচ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুচরা বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, চায়না আদা ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, দেশি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শুকনা গুঁড়া মরিচ ২৪০ থেকে ২৭০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের দাবি, সঠিক দামে পণ্য পাওয়ার জন্য বাজারে সঠিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো খুবই জরুরি। মিরপুর দুই নম্বর সেক্টরের মসলা ক্রেতা আজিজুর রহমান জানান, বাজারগুলোতে সঠিক পর্যবেক্ষণ থাকলে অনেক অল্প দামেই মসলা পাওয়া সম্ভব।

তবে এবার মসলার বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় নি। বিক্রেতাদের দাবি ক্রেতার সমাগম খুবই কম। আর অনেক ক্রেতাই বলছেন শারদীয় দূর্গোৎসব ও ঈদুল আযহা এক সাথে হওয়ায় অনেক আগ থেকেই বাজার শুরু করেছেন অনেকেই।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ঘুরে কোনো দোকানেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে পণ্যের মূল্য তালিকা দেখা যায় নি।

বাজারের সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন বাংলানিউজকে জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বাজার তদারকির টিম কাজ করছে। এছাড়া এরকম অভিযোগ পেলেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

Comments
Loading...