মা-ছেলের দেখা পড়ন্ত বেলায়!

0 ২১

image_82816_0পঞ্চগড়: মৃত ভেবে কেটে গেছে ৪০টি বছর। কেঁদে-কেঁদে কতবার বুক ভিজে গেছে, কতবার কত জায়গা ঘুরে ফিরেছেন, কিন্তু খোঁজ পাননি কোথাও। অবশেষে পড়ন্ত বেলায় এসে এক রকম অলৌকিকভাবেই দেখা মিলল মা ও ছেলের। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপরে পঞ্চগড় শহরে।

সেই ১৯৭৪ সালে হারিয়ে যাওয়া মা রেখা পাগলিকে (৭৫) খুঁজে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদের চেয়েও বড় কিছু পেলেন ছেলে দুলাল (৫৫)। মানসিক ভারসাম্যহীন মা রেখা পাগলি নাটোর থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। ৪০ বছর পর মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন দুলাল।  পরে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশের। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদেই ফেলেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুরের আড়োল গ্রামে।

পঞ্চগড় শহরের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, রেখা পাগলি ১৯৭৪ সালে পঞ্চগড়ে আসেন। তিনি শহরের আরেক ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের বাড়িতে থাকতেন। তবে বাজারের সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গেই তার ভাল সম্পর্ক ছিল। রেখা পাগলি তার বাড়ির ঠিকানাও সবার কাছেই বলতেন।

তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে জেলার আটোয়ারী উপজেলা সদরে রাজশাহীর দুর্গাপুর থেকে আসা পান ব্যবসায়ী কাশেম আলীর সঙ্গে পরিচয় হয় ব্যবসায়ী রহমানের। তিনি তার কাছে রেখা পাগলির কথা বলেন। কাশেম রেখার নাম ঠিকানা নিয়ে ছেলে দুলালকে দেন। দুলাল শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর থেকে পঞ্চগড় বাজারে রহমানের প্রতিষ্ঠানে আসেন। খোঁজ পান হারিয়ে যাওয়া মাকে। এসময় তার সঙ্গে জামাই বাবুলও ছিলেন।

দুলাল জানান, তার যখন ১০/১২ বছর বয়স সেসময় তার নানির সঙ্গে তার মা রেখা হারিয়ে যান। অনেক খোঁজ করেও মাকে পাননি। এভাবে একে একে ৪০ বছর কেটে যায়।

তিনি জানান, তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। দুই ভাই দুই বোনের সংসার তাদের। বড় ভাই মারা গেছেন। তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তার নাতিও হয়েছে। এতদিন পর মাকে পেয়ে ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে। তিনি আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও স্থানীয় লোকজনদের প্রতি তার ভালবাসা জানান।

বিকেলে গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার আড়োল গ্রামে মাকে নিয়ে যান দুলাল।

Comments
Loading...