মুক্তারের ১৬ ছক্কার বিশ্ব রেকর্ড !

0

Muktarআগের দিন ১৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন ফরহাদ রেজা। তখনই হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির। কাল প্রথম সেসনেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। ডাবল সেঞ্চুরির পর বাড়তে থাকে বিস্তৃত হতে থাকে স্বপ্নের পরিধি। রকিবুল হাসানের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান হতে চেয়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। কিন্তু পারেননি। থেমে যান ২৫৯ রানে। ফলে আফসোসেই শেষ হয় দিনটি। ফরহাদ না পারলেও দিনটিকে নিজের করে নেন সতীর্থ মুক্তার আলী। রাজশাহীর ইনিংসে ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে খেলেন ১৬৮ রানের টর্নেডো ইনিংস। ইনিংসটি বড় নয়, বড় হচ্ছে তিনি ১৬টি ছক্কা মেরে স্পর্শ করেছেন বিশ্বরেকর্ড। বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬টি ছক্কা মেরেছেন মুক্তার। আগের রেকর্ডটি জাতীয় দলের আরেক অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানের। দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষে ১৫টি ছক্কা মেরেছিলেন জিয়া। এক ইনিংসে ১৬টি করে ছক্কার রেকর্ড রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এন্ড্রুু সাইমণ্ডস, ইংল্যান্ডের জি আর নেপিয়ার ও নিউজিল্যাণ্ডের জে ডি রাইডারের। বিকেএসপিতে আগেরদিন সপ্তম উইকেট জুটিতে ৩৪৭ রান যোগ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ফরহাদ-সাঞ্জামুল ইসলাম। কাল তার চেয়ে একধাপ এগিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন মুক্তার। যার পরিচয় মূলত একজন পেসার হিসেবে। মুক্তার কাল যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন রাজশাহীর স্কোর ৭ উইকেটে ৪২৪। সেখান থেকে তিনি ও ফরহাদ অষ্টম উইকেট জুটিতে যোগ করেন আরও ২২৪ রান। ফরহাদ ব্যক্তিগত ২৫৯ রান করে সাজঘরে ফেরার পরও ব্যাটিং চালিয়ে যান মুক্তার। দলীয় ৬৭৫ রানে আরও একটি ওভার বাউন্ডারি মারতে যেয়ে আলী আকবরের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন। তার বিদায়ের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন রাজশাহীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। মুক্তার যে ১৬টি ছক্কা মারেন, তার ৫টি ছিল বাঁ হাতি স্পিনার ইউনুস, ৪টি তামিম ইকবাল ও ৫টি মুমিনুল হকের ওভারে। পর্বত সমান স্কোরের বিপক্ষে খেলতে নেমে ১৬৫ রান তুলতেই ৭ উইকেট খুঁইয়ে বসে চট্টগ্রাম। ফলে ফলোঅন এড়াতে এখনো চট্টগ্রামের দরকার ৩১১ রান। ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের অন্য ম্যাচগুলোর মধ্যে শিরোপা প্রত্যাশী ঢাকা ১৩ রানে এগিয়ে রয়েছে বরিশালের বিপক্ষে। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসের সেঞ্চুরিতে ৩২৩ রান করে বরিশাল। জবাবে খেলতে নেমে তাইবুর রহমান পারভেজের সেঞ্চুরি (১০২), ওপেনার আব্দুল মজিদের ৮৬ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ৩৩৬ রান তুলে দিন পার করে ঢাকা বিভাগ। কক্সবাজার স্টেডিয়ামে খুলনার বিপক্ষে ৬৩ রানে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন। প্রথম ইনিংসে ঢাকা মেট্রো গুটিয়ে গিয়েছিল ১৭২ রানে। জবাবে খুলনার সংগ্রহ ২১৩ রান। ৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১০৪ রান তুলে দ্বিতীয় দিন পার করে মেট্রো। এগিয়ে যায় ৬৩ রানে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ ব্যাট করছেন ৬১ রানে। ফতুল্লা স্টেডিয়ামে রংপুরের পক্ষে প্রথম দিন সেঞ্চুরি করেছিলেন নাঈম ইসলাম। কাল দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি করেছেন তানভীর হায়দার। দুই সেঞ্চুরিতে সিলেটের বিপক্ষে রংপুরের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৯১ রানে। সিলেটের নাসুম আহমেদ ৯৭ রানে নেন ৭ উইকেট। সিলেট ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পরে। ৭ উইকেটে ১৩২ রান তুলে দিন পার করে সিলেট। দলের পক্ষে সঞ্জয় সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেটের ষষ্ঠ রাউণ্ডের প্রথম দিন সেঞ্চুরি হয়েছিল ৪টি। কাল হয়েছে আরও তিনটি। সব মিলিয়ে দুদিনে সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭টি। তবে বোলিং পাঁচ বা ততোধিক উইকেট সংগ্রহ মাত্র একটি।

Comments
Loading...