রক্তাক্ত বাংলাদেশ ৭৫‘পূর্ব পরিস্থিতি তৈরীর নকশা নয়তো?

0 ১৬

10991চারদিকে হত্যা, গুমের আতঙ্ক মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৭৩ থেকে ৭৫`র ১৫ আগষ্টের মধ্যবর্তী পরিস্থিতি। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশ পূণর্গঠনের প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্যায়ে অদৃশ্য শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয় ভয়ংকর তৎপরতা। থানা লুণ্ঠন, ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ, পাটের গুদামে আগুন, বিদেশি দুতাবাসে সশস্ত্র হানা ইত্যাদি সবই হচ্ছিল দেশবাসীকে ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে। আমেরিকা থেকে আসা গমের জাহাজ বাংলাদেশর জেটিতে নোঙর হওয়ার আগেই পরিকল্পিত উপায়ে ডুবিয়ে দেয়া বা রংপুরের হত দরিদ্র বাসন্তির গায়ে জাল পড়িয়ে হাতে ভিক্ষার পাত্র ধরিয়ে দুর্ভিক্ষের ছবি দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায় প্রচার করার উদ্দেশ্য কি ছিল এ জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু সে সময় মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর মতো পরীক্ষিত সৈনিকদের কথা কানে দেন নি। বিশ্বাস করেছিলেন খন্দকার মুশতাকের মতো দুর্বৃত্তদদের। বঙ্গবন্ধু বিভীষণদের চিনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নবগঠিত রক্ষীবাহিনীর কতিপয় সদস্য অপরাধী ধরার নামে অগণিত নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, হাটে-বাজারে সন্তানের সামনে অনেক নিরীহ বাবা-চাচাকে মাটিতে শুইয়ে বুটের লাথিতে আধমরা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কানে এসব মর্মান্তিক তথ্য সঠিক সময়ে হয়তো পৌছেনি। সে সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষের শক্তি ছিল বঙ্গবন্ধুরই সৃষ্টি চার তারকা যুবলীগ নেতা আ স ম আঃ রব, শাহজাহান সিরাজ, নুরে আলম সিদ্দিকি ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন গং। এ জনপ্রিয় চার নেতার ডাকে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ রীতিমতো জিহাদের সামিল হয়েছিলেন। তরতাজা যুবশক্তিকে হাওয়া দিয়েছিলেন কিসিঞ্জারের সমর্থক দেশি-বিদেশি অপশক্তি। সে সময়েরই সৃষ্টি সর্বহারা পার্টি ও গণবাহিনী নামে আন্ডার গ্রাউন্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অতি বিপ্লবী দল ও গোষ্ঠী। এরা সবাই একযোগ হয়ে তৎকালীন সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুর ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন। দিশেহারা রাষ্ট্রপ্রধানের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ব্যর্থতার সুযোগ নেয় বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মুশতাকের নেতৃত্বে কর্ণেল রশিদ, কর্ণেল ফারুক, মেজর ডালিম ও মেজর হুদার মতো হাতেগোনা কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য। ফলে সৃষ্টি হয় ১৫ আগষ্টের রক্তাক্ত বাংলাদেশ। স্বপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একই পরিস্থিতি তৈরীর মহড়া!

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে স্বাধীনতার পক্ষের সৃজনশীল মানুষ স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার শেষ ভরসা মনে করে। ভয় হয়, বিভীষণদের মায়াজাল ছিন্ন করতে পারবেন কিনা তিনি! নিজ ঘরের শত্রু – মিত্র চিহ্নিত করতে আরো বিলম্ব করলে না জানি নতুন কোন অঘটনের সুযোগ নেয় শকুনের দল! এ আশংকায় জাতি আজ কুয়াশাচ্ছন্ন। একের পর এক অপহরন, হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতায় দেশবাসী আতঙ্কের শেষ কিনারায় এসে পৌছেছে। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেব গ্রহণ করে দল-মতের বাইরে উঠে এবং একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যে কোন পর্যায়ের দোষী সদস্যের বিরুদ্ধে কার্যকর সর্বোচ্চ শাস্তির নজির সৃষ্টি করতে পারলে দেশবাসী অবশ্যই বাহবা দেবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য এ বিভৎস ঘটনাটি অগ্নিপরীক্ষা হয়ে অবতীর্ণ হয়েছে কিনা সময়ই বলে দেবে। ক্ষমারও একটা সীমারেখা থাকে। এ বাক্যটি অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ কঠিন নজির স্থাপন করবেন এটাই শেষ কথা বলে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা।

Comments
Loading...