রমজানের আগেই বিএনপির ‘কঠোর কর্মসূচি’

0

image_94388_0ঢাকা: সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট। রমজানের আগেই তারা সরকার পতনের কর্মসূচি দেবে। তবে কর্মসূচি কি হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বুধবার রাত সোয়া ৯টার পরে জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তী আন্দোলন, জোট সম্প্রসারণ, সমসাময়িক ইস্যু নিয়েই মূলত আলোচনা হয় বৈঠকে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক চলে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রমজানের আগেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকে কঠোর কর্মসূচির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে জোটের শীর্ষ নেতারা আসন্ন আন্দোলনের ধরণ ঠিক করতে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার ওপরই আস্থা রেখেছেন।

এছাড়াও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে সাম্যবাদী দলের যুক্ত হওয়া নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ‘যারাই সরকারের ফ্যাসিবাদী আচারণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তারাই জোটে যুক্ত হতে পারবে। এটা একটা ইতিবাচক দিক।’

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত থাকা খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক জানান, খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গুম, হত্যা, বাজার দর, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, র‌্যাবের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, প্রতিবেশী ভারতের নতুন সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি জানান, জোটের সব শরিকরা নেত্রীকে আন্দোলনের কথা বলেছেন। এখন দেশের মানুষ আন্দোলন চায়। এ সরকারের পতন চায়। তাই কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। তবে আন্দোলনের বিষয় কী হবে তা নির্ধারণের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে দাযিত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অবশ্য এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কি একটি অগণতান্ত্রিক সরকারকে পদত্যাগ করানো যায়? আন্দোলন মানেই হরতাল, অবরোধ। তবে এটি বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনাদের (সাংবাদিক) জানাবেন।’

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেয়া জামায়াতের মহানগরী নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম সরকারের সঙ্গে তার দলের যোগাযোগ-সমঝোতার বিষয়ে সবাইকে ব্যখ্যা দেন। তিনি জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি পত্রপত্রিকায় আলোচনা হলেও এটির কোনো ভিত্তি নেই। জোটের যে কোনো আন্দোলনে জামায়াত আগে যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

বৈঠকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ, বাংলাদেশ বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট  নুরুল হক মজুমদার, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) শওকত হোসেন নীলু, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি আজহারুল হক, এনডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্তজা, জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টি (একাংশের) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments
Loading...