শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা জানতেন

0 ১১

TR-4লন্ডন: শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা জানতেন দাবি করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন, মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছিলেন, মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন শেখ মুজিব ছিলেন স্বৈরাচারী, যারা মুশতাক মন্ত্রিসভার শপথে গিয়েছিলেন, শপথ পরিচালনা করেছিলেন সেইসব লোকেরাই এখন শেখ হাসিনার নেতা মন্ত্রী। ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনা ক্ষমতা আকড়ে রাখতে তার পিতা হত্যাকারী কিংবা হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে রেখেছেন। কাউকে দোষারোপ করার আগে মুজিব হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য সেই সময় ইনু বাহিনীর ভূমিকা কি ছিল সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন।’

রোববার লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজি ফর এ প্রসপারাস বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘মুজিব হত্যাকাণ্ডের সময়কার ঘটনা দেখা এবং জানা মানুষের সংখ্যা এখনও অনেক।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে শেখ মুজিবের জ্ঞাতসারেই তিনটি ট্যাংক ক্যান্টনমেন্ট থেকে রাজপথে বেরিয়ে এসেছিল। ইনু বাহিনীর হাত থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতেই এইসব ট্যাংক নামাতে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ মুজিব। কারণ ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’

তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘রাজপথে ট্যাংক নামানোর মতো এই পরিস্থিতি তৈরি করলো কারা? কোন দল? কোন বাহিনী?’

তারেক রহমান বলেন, ‘মুজিব হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতা মুশতাক রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন, মুশতাক আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার। কিন্তু সেই সময় শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট যারা তৈরি করেছিলেন তারাই এখন হাসিনার দলে ও অবৈধ সরকারে। তাহলে তো বলাই যায়, আওয়ামী লীগ আসলে কুলাঙ্গারদেরই দল। এই কুলাঙ্গাররাই এখন নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে জিয়া পরিবারকে টার্গেট করেছে। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবার সম্পর্কে  মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।’

দুই পর্বে দেয়া প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় তারেক রহমান প্রথম পর্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর পরিস্থিতি এবং ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা নিয়ে কথা বলেন। বক্তৃতার দ্বিতীয় পর্বে তিনি একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর কে এম এ মালিক।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এম আব্দুল মুমিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কলামিস্ট জগলুল হুসাইন, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন আহমেদ অসীম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, পরিষদের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ব্যারিস্টার তারেক বিন আজিজ এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং তারেক রহমানের নবনিযুক্ত শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমীন। উপস্থাপনা করেন পরিষদের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ছাত্রদলের সাবেক অন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ।

সেমিনারে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ মুজিবের পরিবার খুনি পরিবার। শেখ মুজিব পাকিস্তান আমলে সংসদের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে সংসদ কক্ষে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার পর ৩০ হাজার মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী শেখ মুজিব। ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগই বিচারবহির্ভূত হত্যা ‘ক্রসফায়ার’ চালু করেছিল। ক্রসফায়ারে ভিন্নমতাবলম্বী সিরাজ সিকদারকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে আইন আদালতের তোয়াক্কা না করেই বলেছিলেন ‘কোথায় আজ সেই সিরাজ সিকদার?’

শেখ মুজিব সম্পর্কে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক রিডার্স ডাইজেস্ট ১৯৭৫-এর মে মাসের একটি প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘পত্রিকটি লিখেছিল, শেখ মুজিব দু’টি বেসামরিক সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। একটি হচ্ছে তার ভাগ্নে শেখ মনির এক লাখ সশস্ত্র একগুঁয়ে যুবকের সংগঠন যুবলীগ, আর একটি হলো নিষ্ঠুর রক্ষীবাহিনী।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলের সামনে ৭ খুনের জন্য দায়ী শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায়ও শেখ কামালের নাম ইতিহাসে লেখা।’

তিনি বলেন, ‘পিতার মতো শেখ হাসিনাও মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছে। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সামরিক বাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী অফিসারসহ ৫৪ জনের হত্যার পেছনে শেখ হাসিনা জড়িত। পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের সময় শেখ হাসিনা হাসাহাসি করতে করতে চা-বিস্কুট খাচ্ছিলেন, এ কথা জানিয়েছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার প্রিয় মঈন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং চৌধুরী আলমসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম খুন অপহরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে শেখ হাসিনার নির্দেশে। মতিঝিলে পুলিশের অনুমতি নিয়ে সমবেত হওয়া হাজার হাজার হেফাজত কর্মীকে রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে করা হয়েছে হাসিনার নির্দেশে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবের পরিবার শুধু খুনিই নয়, বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি একটি অভিশপ্ত পরিবার। কারণ এই পরিবারের প্রধান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে। তার আমলে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে বটমলেস বাস্কেট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের কলঙ্কজনক তালিকায় প্রথম হয়েছিল। দ্বিতীয়বার পদ্মাসেতু প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা চুরি করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের হাতে ধরা পড়ে বাংলাদেশের ইমেজ বিশ্বে কলঙ্কিত করেছে। আর এখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে এরই মধ্যে বিদেশে অবৈধভাবে টাকা পাচারকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন, তাদের জানা উচিত, মুজিব হত্যাকাণ্ডের সময় বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও রাজনীতিতে ছিলেন না। শেখ মুজিব হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেননি। ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ নেতা মুশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই। এরপর মুশতাকের পতন ঘটে সেটিও ছিল আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখলের লড়াই। এই অবস্থায় দেশ বাঁচাতে ৭ নভেম্বর সংগঠিত সিপাহী জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে সিপাহী জনতা সেনানিবাসে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে আনে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ৭৫ এর ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সকল ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমানই সাহসিকতার সঙ্গে দেশ ও জনগণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে হামলার ব্যপারে তারেক রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ না করে দেড় ঘণ্টার নোটিশে কি উদ্দেশ্যে দলীয় সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করেছিল? এটি প্রমাণ করে শেখ হাসিনা ওইদিনের হামলার ঘটনা সম্পর্কে জানতেন। তিনি ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

Comments
Loading...