সবার দৃষ্টি সাঈদীর এলাকা জিয়ানগরে

0 ১৫

Masud_saideeজিয়ানগর: চতুর্থ দফায় ৯১টি উপজেলায় নির্বাচন হলেও সবার দৃষ্টি পিরোজপুর জেলায় জিয়ানগরে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সেজো ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী। তার প্রতীক হচ্ছে দোয়াত-কলম।

 সারাদেশের সব ধরণের মানুষের মধ্যেও জিয়ানগরকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তারা জানতে চায় জিয়ানগরে কার অবস্থান কেমন। তাদের মতো দেশের সব ধরণের গণমাধ্যমেরও আগ্রহের কমতি নেই। পিরোজপুরে এসে দেখা গেছে ঢাকা থেকে শুধু মাত্র জিয়া নগরের উপজেলা নির্বাচন কভার করতে এসেছে অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মী। এর মধ্যে কোনো কোনো পত্রিকা ও টেলিভিশনের দুই-তিনটি টিম পিরোজপুরে এসেছে। তারা সবাই পিরোজপুরের ছোট উপজেলা জিয়ানগরে থাকবেন।

সাধারণ ভোটারদের জিয়ানগরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, “সাঈদী পরপর দুবার পিরোজপুরের এমপি হয়ে আমাদের এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাই তার ছেলেকে আমাদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী পেয়ে আমরা গর্বিত। মাসুদ সাঈদী তার বাবার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চালিয়েছেন প্রচার-প্রচারণা। বিভিন্ন জায়গায় করেছে উঠান বৈঠক।

১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আঃ খালেক গাজী (আনারস) সরকার বা দলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। দীর্ঘদিন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হিসেবে রয়েছে তার ব্যাপক সুনাম। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে তার অনেক অবদান। আঃ খালেক গাজী গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কিছু দিন পর আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

জাতীয় পার্টি (জেপি) সমর্থিত বালিপাড়া ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু (মোটরসাইকেল) জেলে থেকে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণা।

জিয়ানগর উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৩টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ১৫৫টি। মোট ভোটার ৪৮ হাজার ৮৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ হাজার ৫৫৫, মহিলা ভোটার ২৪ হাজার ৩৪২ জন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নলবুনিয়া, বউ ডোগীয়া, লক্ষিদিয়া ও কালীবাড়ি বাগান।

চতুর্থ ধাপের এ উপজেলায় তিনটি ছাড়া ১২টিতে ১৯-দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিকের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। ১৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জনকে সমর্থন দিয়েছে দলটি।

এর মধ্যে কেবল তিনটি উপজেলায় স্থানীয়ভাবে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই তিনটি উপজেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিএনপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেয়নি। নাইক্ষ্যংছড়ি ও পাঁচবিবিতে বর্তমান চেয়ারম্যানরা জামায়াত-সমর্থিত। আর জিয়ানগরে জামায়াত প্রার্থী করেছে মাসুদ সাঈদীকে।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের নির্বাচনে যথাক্রমে ২৬, ২৮ ও ২৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেয় জামায়াত। তৃতীয় পর্বে এসে এ টানাপোড়েন অনেক বেড়ে যায়। ১৫ মার্চ তৃতীয় পর্বে যে ৮১টি উপজেলার ভোটগ্রহণ হয়, তাতে ২২ উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জিয়ানগরে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় একধরনের দলীয় কর্মীরা পড়েছে বিপাকে। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় তাদের মধ্যে দলীয় কোন্দল তুঙ্গে। ১৯ দল সমর্থিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ লতিফের স্ত্রী ও উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদ বেগম হাঁস মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পিরোজপুর জেলা সদর, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডরিয়াও নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে সদর ও মঠবাড়িয়া উপজেলায় নির্বাচনে আগের দুই দিনের অবস্থা দেখে অনেকেই ধারণ করছেন, এই উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতা ঘটতে পারে। মঠবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ, বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। এখানে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৭ ভোট রয়েছে। ৭৭টি কেন্দ্র, ৪৯৬টি ভোটক্ষ এবং অস্থায়ী রয়েছে ৩৯ টি।

মঠবাড়িয়া উপজেলার অনেক স্থানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলা-ভাঙচুর ও হুমকিধামকিতে বাড়িছাড়া হয়েছেন অনেক বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী, এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকরা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সেক্রেটারি সিদ্দিকী নাজমুল মঠবাড়িয়ায় উপস্থিত রয়েছেন।

সদর শহরে রয়েছে ৫৪টি ভোটকেন্দ্র, ভোটার সংখ্যা ২৭১, মোট ভোটার এক লাখ ৭ জাহার ১৮০ জন।

Comments
Loading...