হাসিনা গদি ছাড়লে সমঝোতা সম্ভব

0 ১৪
image_66042_0ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা সফররত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বলেছেন, ‘বিরোধী জোট বর্তমান সংকট সমাধানে আগ্রহী। আর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে গেলেই সমঝোতা সম্ভব।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তারানকো। খালেদার গুলশানের বাসভবনে দুই ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক চলে।
জানা গেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একান্তে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন তারানকো। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।
বৈঠক শেষে শমশের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কীভাবে চলমান সঙ্কট নিরসন করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে তারা একান্তেও কথা বলেছেন। অনেক বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে পুনরায় বৈঠক হবে।’
বৈঠক উপস্থিত চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে তারানকো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়বস্তু বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে খালেদা জিয়া জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে সাফ বলে দিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, তাতে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। চলমান সঙ্কটের সমাধান চাইলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
বিরোধী দলীয় নেতা সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলন দমনে সরকারের দমন-পীড়ন, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও একের পর এক মামলা দায়েরের ঘটনা তুলে ধরেন।
জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে সরকারের নীল নকশার ব্যাপারে খালেদা জিয়া জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে অবহিত করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রশাসন, অনুগত নির্বাচনী কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।
চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা জানান, সঙ্কট নিরসনে জাতিসংঘের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে খালেদা জিয়া বান কি মুনের প্রশংসা করেছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। চলমান সঙ্কট উত্তরণে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাও কামনা করেন তিনি।
বর্তমান সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা সম্ভব কিনা, বিরোধী দলীয় নেতার কাছে জানতে চান জাতিসংঘের বিশেষ দূত তারানকো। জবাবে খালেদা জিয়া বলেছেন, সমঝোতা চাইলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। ঘোষিত তফসিলও বাতিল করতে হবে। এরপর সব রাজনৈতিক দল আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন একটি গ্রহণযোগ্য সরকার ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠন করা যেতে পারে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকরা নির্বাচনকালীন সরকারের নানা রূপরেখা তুলে ধরেছেন। খালেদা জিয়া বলেন, এরপরও আমরা সংলাপের মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের সমাধান চাই।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ সর্ম্পকে তারানকো জানতে চাইলে বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, আমরা সঙ্কট সমাধানে আলোচনার জন্য বারবার আহবান জানিয়েছি। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিব ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠির জবাব দেয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদককে সংলাপের উদ্যোগ নিতে লিখিত চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন যা করার সরকারকেই করতে হবে।’
বৈঠকে আগামী নির্বাচন নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান ও সর্বশেষ দেশটির পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নির্বাচন বর্জন ও দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাম্প্রতিক অবস্থানও আলোচনায় স্থান পায়।
চলমান আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনার কথা আলোচনায় উঠলে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের আন্দোলন জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ। সারাদেশে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। তারা এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে নাশকতার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা পেলে আমাদের আন্দোলন করার প্রয়োজন হবে না।
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাব ও বক্তব্য ক্ষমতাসীনদের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান তারানকো। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আবারও বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও তিনি জানান। জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, জাতিসংঘ সবদলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচন চায়। সমঝোতার মাধ্যমে সেই পথ সুগম করতে জাতিসংঘ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নিল ওয়াকার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।
এর আগে আগামী নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন তারানকো।
Comments
Loading...