ফ্যাসিবাদের কী নগ্ন বহিঃপ্রকাশ!! ডিবি নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারের আসল পরিচয় প্রকাশ

0

দেশনেত্রী, আমাদের  বেগম খালেদা জিয়াকে তথাকথিত ভুয়া মামলার রায়ে কারাগারে বন্দি করে রাখার পর থেকেই বিএনপি মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচী করে যাচ্ছে। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর জনজোয়ারে ভীত হয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞাবহ, অনুপ্রবেশকারী গুপ্ত অস্ত্রধারী পোশাকী গুন্ডারা জনপ্রিয় নেতৃবৃন্দকে নরকীয় ও বর্বরোচিত কায়দায় গ্রেফতার করছে। গতকালের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বললেন তাতে গণতন্ত্র যেন বাংলাদেশে উপচে পড়ছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিবিয়ে চিবিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আমরা তো বাধা দিচ্ছি না।’ তাহলে এগুলো কী? বিএনপি কেন সহিংসতা করছে না, সেজন্য আপনাদের গাত্রদাহ হচ্ছে? আপনারা কি শান্তিকামী জনতাকে সহিংসতায় যেতে বাধ্য করতে চান? মনে রাখবেন মুক্তিকামী জনতার মরণকামড় কিন্তু ভয়াবহ, তার বিষ কালগোখরার চেয়েও বিষাক্ত!

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচীটি পণ্ড হলো সরকারের এই অস্ত্রধারীদের অপতৎপরতায়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, যুবদলের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ভাইকে গলা চেপে ধরে রাখা, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ভাইয়ের মাথায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ফিল্মি কায়দায় তুলে নেওয়া এবং ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি, স্নেহাস্পদ এস এম মিজানুর রহমান রাজকে বর্বরোচিতভাবে ছিন্নবস্ত্রে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ছিন্নবস্ত্রে প্রাণের আকুতি নিয়ে রাজ বিএনপি মহাসচিবের বুকে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের অস্ত্রবাহীরা মহাসচিবকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে রাজকে বেগুনঝোলা করে তুলে নিয়ে যায়।

প্রতিটি ঘটনায় একটি ছবিই ঘুরেফিরে আসে। কে এই যুবক? কেন সে হায়েনার ভূমিকায়? মাঠ পর্যায়ে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ পণ্ড করা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পেছনে থাকা এই অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও এবার বেরিয়ে এসেছে তার বিস্তারিত পরিচয়।

আলাল ভাইকে গলা চেপে রাখা ও রাজকে গলা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া সেই জানোয়ারের পরিচয় নিম্নে দেওয়া হলো:

নাম: আতিকুর রহমান মুরাদ (যাকে অনেকে ‘ফরহাদ’ নামেও চেনে) / এডিসি আতিক মুরাদ।
পদবী: বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পূর্ব জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হিসেবে কর্মরত।
গ্রামের বাড়ি: ত্রিমোহনী,
ইউনিয়ন: তরগাঁও,
থানা: কাপাসিয়া,

জেলা: গাজীপুর।
শিক্ষাজীবন: সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস.এম) হল শাখা ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী, সক্রিয় সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পদধারী নেতা ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের পারিবারিক প্রেক্ষাপট কট্টর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বলয়ের সাথে জড়িত। তারা ৩ ভাই, ১ বোন। সবই এই সরকারের অনুকম্পায় পাওয়া: বড় ভাই: মাসুদ রানা রুবেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রাইফেলসহ আটক হয়েছিল, পরে তার ছাত্রত্ব চলে যায়। মেজো ভাই: আজিজুর রহমান মামুন (ডাক নাম মাসুদ, যাকে ঢাবিতে সবাই ‘পাশা’ নামে চেনে)। সে ছাত্রলীগের বদিউজ্জামান সোহাগ-সিদ্দিকী নাজমুল আলম কমিটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (সহ-সভাপতি) ছিল। এই আজিজুর রহমান মামুন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণিত বিভাগের এক কুখ্যাত অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসী শিক্ষক। সময়টা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ইবি’র গাছে ঘেরা মফিজ লেকের কাছে তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমানের সাথে এই মামুনকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম সজিব। পরবর্তীতে এই মামুন নিজেই ইবি’র বাগানে তার ছাত্রনামধারী ছাত্রলীগের শিষ্যদের গোপনে অস্ত্রের ট্রেনিং দিত, যা তৎকালীন সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। এই অস্ত্রবাজ মামুনেরই ছোট ভাই হলো পুলিশের এই ক্যাডার মুরাদ/ফরহাদ।

পরবর্তীতে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান মামুন ৩১তম বিসিএসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া প্রশাসন ক্যাডারে চাকরিতে যোগদান করে এবং রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিল। রাষ্ট্রপতির এডিসি হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় তার স্ত্রী (৩৩তম বিসিএস পুলিশের কর্মকর্তা সানজিদা)-এর সাথে অবৈধ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে তৎকালীন এডিসি রমনা হারুনুর রশিদকে বার্ডেম হাসপাতালের ভেতরে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে সে।

একমাত্র বোন: আরোবিয়া খানম ইতি। কুখ্যাত এই ভাইদের একমাত্র বোনও বাংলাদেশ বিচার বিভাগে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করে। সর্বশেষ ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে সাক্ষী-জেরা পরিচালনা করে রায় লেখার মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের ফরমায়েশি রায় দিয়ে সাজা প্রদান করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যখন পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে এমন দলীয় ক্যাডারের মতো আচরণ করেন, তখন তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। মানবাধিকার কর্মীরাও এদের উদ্ধত আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই জাতীয় কুলাঙ্গারদের অবিলম্বে সরকারি চাকরি হতে বরখাস্ত করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাই সবাই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More