ছাত্রদল নেই শিবিরই ভরসা

0 ১৩

sontosh-mondol--সন্তোষ মন্ডল
ঢাকা: ক’দিন আগে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন শুধূমাত্র গোপনে দু’চারটি গাড়ি ভাঙলেই হবেনা।

ছাত্রদলকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। তার নির্দেশণা ছিল, হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীতে ছাত্রদলকেই পালন করতে হবে মূখ্য ভূমিকা। অথচ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ১৮ দলীয় জোটের টানা ৪৮ ঘণ্টার রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচীর প্রথমদিনে রাজধানীর কোথাও ছাত্রদলের দেখা মেলেনি।

তবে রাজধানীর বাইরে বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরাসহ যে কয়েকটি জেলায় ছোটখাট সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে তার পেছনে ছিল জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা। সকাল ১০টারদিকে গাবতলী ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয়া অবরোধকারীদের বেশীর ভাগই জামায়াত-শিবিরের সদস্য।

রাজধানীতে রাজপথ অবরোধের মূল পয়েন্ট ছিল প্রবেশদ্বারগুলো। সরেজমিন দেখা যায়, একমাত্র আমিন বাজার ছাড়া আর কোনো প্রবেশদ্বারে অবরোধকারিরা নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধ কর্মসূচী শুরু হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর সকাল ১০টারদিকে শিবিরকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গাবতলীর পশ্চিম পাশে আমিনবাজারে অবস্থান নিতে শুরু করে।

এসময়ে সাভার থেকে আসা বেশ কয়েকটি বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেন তারা। একই সময়ে অবরোধকারীরা মিছিল গাবতলীর দিকে যেতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল সাভার থেকে আমিনবাজার এলাকায় এসে মহাসড়কের ওপর সমাবেশ করলে মিছিলকারীদের চলে যেতে বলেন বিজিবি’র সদস্যরা। বিজিবি’র হুমকি পেয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মিছিলকারীরা আমিনবাজার এলাকার রাস্তা ছেড়ে পাশে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পরে অবরোধকারিরা আবার রাস্তায় অবস্থান নিলে পুলিশ এ্যাকশনে যায়। এসময়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

এছাড়া, রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার বাবুবাজার ব্রিজ, পোস্তগোলার চীন মৈত্রী সেতু, কাঁচপুর এবং টঙ্গী ব্রিজ এলাকায় বিএনপি এবং ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে মিরপুর, মহাখালী, ফার্মগেট, নয়াপল্টন, দিলকুশা এলাকা ঘুরেও রাজপথে অবরোধকারীদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। তবে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

প্রায় একই সময়ে রাজধানীর পুরান ঢাকায় শিবিরের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। ১৮ দলীয় জোটের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের সমর্থনে ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে এ সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে ৪/৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় আহত অবস্থায় দৃই শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আহতরা হলো, রাসেল (২৫) ও আতিকুর রহমান (২২)। .তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় হাজতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া, বিজিবি’র ১নং গেট সংলগ্ন এলাকায় শিবির মিছিল থেকে প্রাইভেট কার, লেগুনাসহ ৮টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং ১টিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানেও শিবিরের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরে যাত্রাবাড়ির ধলপুর এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে র‌্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর দু’টি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।

১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচীতে ছাত্রদলের ভূমিকা গৌণ কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আজগর আলী বলেন, বরাবরের মতো শিবির তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এখানে কে এলো আর এলোনা তানিয়ে শিবিরের মাথা ব্যাথা নেই। তবে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচী পালনের সময়ে সরকারের পেটোয়া বাহিনী এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শিবিরের উপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য,একতরফা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ তুলে গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টানা ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঐ সময়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করায় ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন নতুন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে আরো কর্মসূচি দিয়ে দেশ একবারে অচল করে দেয়া হবে। মির্জা ফখরুলের ঐ ঘোষণার পরপরই সোমবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই সহিংসতায় প্রধান ভূমিকা রাখছে শিবির।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি.কম

Comments
Loading...