স্বতন্ত্র কৌশলে বিএনপি! বিভ্রান্ত আওয়ামী লীগ!

0 ১১

AWAmi vs BNPগোলাম মাওলা রনি সাবেক সংসদ সদস্য

আওয়ামী লীগের নেতারা বুঝতেই পারছেন না, বিএনপির মতলবটা কী! আগামী দিনে তারা কী করবে বা কিভাবে করবে অথবা কখন করবেÑ এসব বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীনেরা নিত্যনতুন হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ এ কথাও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে না যে, বিএনপি নামক দলটি আসলে কে চালাচ্ছেন! তিনি কি বেগম জিয়া; নাকি তারেক জিয়া! নাকি মা- ছেলে যুগপৎভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন? এ দিকে বিএনপির কাছ থেকে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পেয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভারি অসন্তুষ্ট বিএনপির প্রতি। তারা নানা বর্ণে-নানা শব্দে বারবার বিএনপিকে উসকানি দিচ্ছেন আন্দোলনে নামার জন্য; কিন্তু বিএনপি যেন একেবারেই নিরুত্তাপ। তারা বলতে গেলে, চুপচাপ থেকে সাদামাটা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। আর এতেই ক্ষমতাসীনেরা অস্থির হয়ে পড়েছেন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি; কিন্তু কেন? বিএনপির সহিংস আন্দোলনের সাথে আওয়ামী লীগের কি-ই বা এমন স্বার্থ থাকতে পারে যার কারণে তারা বার বার চাইছেন তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠে নামানোর জন্য!
আসল ঘটনা বুঝতে হলে আপনাকে গত ৫ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া ইলেকশন ইলেকশন খেলা এবং সেই খেলার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে যে সহিংসতা, অরাজকতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল তা স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে আগে কোনো দিন ঘটেনি। স্বাধীনতার পরপর জাসদ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা চালাতে পারলেও তাদের আন্দোলনের সাথে গণমানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। তারা সারা বাংলাদেশের ছোট্ট একটি থানা বা ইউনিয়নেও নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল অবধি জাসদের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বঙ্গবন্ধুর সরকারে জাসদ ছাড়া অন্য যেসব বিরোধী দল ছিল, তাদের অনেকে সরকারের তাঁবেদার বা গৃহপালিত বলেই অভিহিত হতো। তবে মতিয়া চৌধুরীর একটা বিরাট ভূমিকা ছিল। এই মহিয়সী নারী জাতির জনককে দু’চোখে দেখতে পারতেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুকে একদম পাত্তা দিতেন না। বরং প্রকাশ্য জনসভায় বঙ্গবন্ধুর গায়ের চামড়া তুলে সেই চামড়া দিয়ে জুতা বানানো বা ডুগডুগি বাজানোর হুঙ্কার ছাড়তেন।
পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিরোধী দল প্রায় সবই ছিল সরকারের তল্পিবাহক। খয়ের খা এবং ধামাধরা প্রকৃতির। এ কথা নির্মম হলেও সত্য যে, জেনারেল জিয়ার সাথে ভাবসাব এবং খায়খাতির রেখেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল। এরপর এলো এরশাদ জমানা। প্রথম দিকে বিএনপি ভেঙে খান খান হয়ে গেল। সুবিধাবাদীরা সব এরশাদের দলে ভিড়ল। বাকিরা হয় পালাল নয়তো নিশ্চুপ রইল। বেগম জিয়া তখনো গৃহিণী। জিয়াপরিবার যেন রাজনীতিতে না আসে, সে জন্য এরশাদের ছলাকলার অন্ত ছিল না। নানা রকম রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনুদান, গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতি দেয়ার পরও যখন বেগম জিয়ার রাজনীতিতে আগমন ঠেকাতে পারলেন না, তখন তিনি কৌশলে আওয়ামী লীগের সাথে মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। আজকের জাতীয় পার্টি যেমন করে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করছে, ঠিক তেমনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ কিছু দিনের জন্য জাতীয় পার্টির সাথে অধীনতামূলক মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেল। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার আমলে যেমন গৃহপালিত বিরোধী দল ছিল, তেমনি এরশাদও সেই ঐতিহ্যের অংশীদার হলেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির বনিবনা না হলে এরশাদ শতভাগ মেরুদণ্ডহীন ও পুরোপুরি গৃহপালিত, বাঘের মাসি প্রকৃতির একটি বিরোধী দল খুঁজতে থাকলেন এবং পেলেনও। ফলে বাঘ ও বাঘের মাসি তাদের পতনের শেষদিন পর্যন্ত বিপুল বিক্রমে জাতিকে নানা রঙের তামশা উপহার দিতে থাকলেন।
’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন হলে দেশে সংসদীয় ধারার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক মর্যাদায় দাঁড়াতে পারল না এবং আজ অবধি তা দাঁড়াতেও পারেনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ অর্থাৎ ১৮ বছর আমরা যেমন সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম, সেই ধারায় ১৯৯১ থেকে ২০০৪ অর্থাৎ ২৩ বছরে আমাদের মনমানসিকতার একটুও পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতাসীনেরা সব সময়ই চেয়েছে একটি গৃহপালিত এবং অনুগত বিরোধী দল। ফলে গণতন্ত্র সঠিক পথে এগোতে পারেনি। বরং আঁকাবাঁকা পথে চলতে গিয়ে পথের দু’পাশের অনেক কিছুর যেমন সর্বনাশ ঘটিয়েছে, তেমনি নিজের যাত্রাপথকেও করেছে গন্তব্যহীন।
আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি যেনতেন নির্বাচন যেমন করিয়ে নিয়েছে, তেমনি তার চেয়েও সফলতার সাথে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে একটি ডিজিটাল গৃহপালিত বিরোধী দল জোগাড় করে ফেলেছে। এই বিরোধী দল আর আগের বাঘের মাসির মতো নয়Ñ অনেকটা ‘চুহা কি তারা’ অর্থাৎ মূষিক প্রবরের মতো। ফলে ক্ষমতাসীনদের উচিত, খুশিতে বগল বাজানো এবং কম করে হলেও আগামী দশটি বছর ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে বিভোর হওয়া; কিন্তু তারা তা পারছে না ৫ জানুয়ারির আগেকার ঘটনাপ্রবাহের কারণে। অতীতে গৃহপালিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে যেসব রাজনৈতিক শক্তি রাজপথে ছিল, তাদের সাথে বর্তমান বিএনপি এবং তাদের জোটের শরীকদের শক্তি, গণভিত্তি, জনপ্রিয়তা, আর্থিক সঙ্গতি এবং আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতাকে এক পাল্লায় মাপা যাচ্ছে না। অর্থাৎ এখন যারা রাজপথে আছে, তারা অতীতের রাজপথের যাত্রীদের তুলনায় সব দিক থেকেই অনেক অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, ভারবাহী এবং ক্ষমতার আধিকারী।
অন্য দিকে, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে একটি শক্তিশালী সরকার, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা এবং দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় সংগঠনের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দল যে সাহস ও শক্তি দেখিয়েছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশ তো দূরের কথা গত ১০০ বছরে অর্থাৎ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলেও ঘটেনি এই বঙ্গে। প্রায় দুই মাসের রাজনৈতিক হানাহানি, অবরোধ ও হরতালে রাজধানী ছিল সমগ্র দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ঢাকা মহানগরী মূলত রক্ষা পেয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল পুলিশের কয়েকজন বড় কর্তার অতিরিক্ত সাহস, দৃঢ় মনোভাব এবং মরণপণ প্রচারণার কারণে। বিরোধী দলের প্রচণ্ড আন্দোলনে সে দিন রাষ্ট্রের মৌল ভিত্তিগুলো কেঁপে উঠেছিল এবং প্রতিটি মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরেছিল। স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘এটা হলো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন।’
কাজেই অতীতের মতো গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে সরকার স্বপ্নবাসর রচনা করতে পারছে না। তেমনি অতীতের মতো রাজপথের রাজনৈতিক দলগুলোকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারছে না। ফলে একরকম ভয়াবহ অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও ঘোর অমানিশার আশঙ্কার মধ্যে থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষের প্রতি কারণে অকারণে হঙ্কার ছেড়ে বিএনপির শক্তিমত্তা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে ধারণা পেতে চাচ্ছে। অন্য দিকে বিএনপির নিরুত্তাপ অবস্থান এবং অহিংস আন্দোলনের কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীনেরা খুশি হতে পারছে না। কারণ যেকোনো মূল্যে এখন তাদের দরকার একটি উত্তপ্ত রাজপথ। আর তা না হলে ক্ষমতাসীনেরা নিজেরাই নিজেদের ভারে নুয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে পড়বে, যার কিছুটা নমুনা দেশবাসী দেখেছে নারায়ণগঞ্জের নির্মম সাতটি খুন এবং ফেনীর এক উপজেলা চেয়ারম্যানের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা পড়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
বিএনপিকে এখন মনে হচ্ছে একটা ভ্যাদা মাছের মতো। ভ্যাদা মাছ নীরবে নিভৃতে পুকুর কিংবা নদীর তলদেশে গিয়ে কাদার মধ্যে বসতি স্থাপন করে। কাদার মধ্যে শরীর ঢুকিয়ে হাঁ করে বসে থাকে। ওই হাঁ করা মুখের মধ্যে যদি দয়া করে দু-একটা ছোট মাছ ঢুকে পড়ে তবে সে মনের আনন্দে তা গলাধকরণ করে দেহের প্রোটিনের অভাব মেটায়। কোনো দিন যদি হাঁ করা মুখে খাবার না জোটে সে দিন ভ্যাদারা কাদামাটি খেয়ে দিন কাটায়। এ জন্য গ্রামবাংলায় লোকজন উপহাস করে বলে, ভ্যাদা মাছে ক্যাদা খায়। তা লোকজন যত ঠাট্টাই করুক ভ্যাদারা কিন্তু সঠিক কাজই করে। কারণ তারা জানে, তাদের দুর্বল শরীর নদীর স্রোত এবং পানির উপরিভাগের উত্তাপ সহ্য করতে পারবে না। অন্যান্য মাছের মতো স্রোতের অনুকূলে কিংবা প্রতিকূলে সাঁতার কেটে শিকারের মাধ্যমে আহারের সংস্থানও সম্ভব নয়। এ ছাড়া অন্য মাছের সাথে মারামারি করার মতো শক্তিও তাদের নেই এবং প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় বিচরণ করার জন্য যেভাবে বিরাট দলবল নিয়ে অন্যান্য মাছেরা গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে থাকে, তেমনি ভ্যাদা জাতি কোনো দিন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না। তারা একাকী থাকতে পছন্দ করে। ফলে ক্যাদাই ভ্যাদাদের নিরাপদ স্থান।
আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপিকে মাঠে নামাতে চাচ্ছে, সেটা করা বিএনপির জন্য সম্ভব নয়। অন্য সময় হলে ক্ষমতাসীনেরা হয়তো বিএনপির এই চুপচাপ থাকার নীতিতে স্বস্তি পেত; কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে যা হয়েছে তা আওয়ামী লীগের চেয়ে অন্য কেউ ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবে না। কারণ তারাই ছিল কর্মের বিধায়ক এবং কর্মপরিচালক। অন্য দিকে যেসব সরকারি কর্মকর্তা ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তার চেয়ে এই দুনিয়ায় কে আর উত্তম সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হবে বা হতে পারবে? অন্য দিকে যারা ওই নির্বাচনের সুবিধাভোগী মন্ত্রী বা এমপি পরিচয়ে হাঁটাচলা করছেন তারাতো দুনিয়ার
সবার চেয়ে ভালো জানবেন তারা কী রূপে মন্ত্রী-এমপি হলেন! কাজেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাকা চৌধুরীর ল্যাজনাড়া তথ্য আবার সগৌরবে ফিরে এসেছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা মনে মনে ভাবছে, আমরাই হলাম সব কিছুর মালিক। আর মালিক পরিচয়ে যারা চলাফেরা করছেন ওরা মূলত আমাদের দয়া ও প্রচেষ্টার ফলÑ পাপেট কিংবা প্রাণহীন মূর্তি। ফলে কোনো একটি বদ্ধ ঘরে মালিক ও কর্মচারীরা যদি একত্র হন এবং মুখোমুখি দাঁড়ান তবে আমি নিশ্চিতÑ উভয়েই ভাষা হারিয়ে ফেলেন। তারা একজন অপরজনকে ভয় পেতে শুরু করেন এবং অপরজন অন্যজনকে তাচ্ছিল্য করতে আরম্ভ করেন।
পৃথিবীর রাজনীতির গড়পড়তা প্রাচীনত্ব প্রায় পাঁচ হাজার বছরের। এই সুদীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার জনপদের অসংখ্য রাজ্য, রাজা, রাজধানীতে আজকের বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বহুবার সৃষ্টি হয়েছিল; কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা সেগুলোর পরিণতি সম্পর্কে খুব অল্পই জানি। আর যদি দু-একটি ঘটনা জেনেও ফেলি তবে তা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলে উঠিÑ ‘আমার কী দোষ! আমি কেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবো? কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষাই হলোÑ ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।’ কিন্তু এবারের আওয়ামী লীগ সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করছে। তারা ডিজিটাল উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনেক তথ্য ওলটপালট করে দিতে চাচ্ছে। তারা আন্দোলনে অনীহা প্রকাশকারী বিরোধী দলকে আন্দোলনে নামাতে চাচ্ছেÑ গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন এবং তারও আগে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে! কিন্তু কেন? কারণ একটাইÑ তারা বুঝতে পেরেছে, তারা আসলেই কী করেছে!
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি দলের ফাঁদে বিএনপি পা দিতে যাচ্ছে না। তারা জানে যে, আগামী অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বিএনপি যদি চোখমুখ বুজে থাকতে পারে তবে আওয়ামী লীগের গৃহদাহ, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিশৃঙ্খলা, আর্থিক সেক্টরের অনিয়ম এবং জনরোষÑ সব কিছু মিলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আর তখনকার একফোঁড় অন্য সময়ের লাখ ফোঁড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে। আর যদি সেই পরিস্থিতির উদ্ভব না নয় তবে অযথা মাঠ গরমের ঝুঁকি নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ফলে বিএনপি খুব কৌশলে পা ফেলার চেষ্টা করছে। তারা চাচ্ছে প্রতি পদে সরকারকে বিভ্রান্ত, উত্তেজিত করতে। অন্য দিকে সরকার চাচ্ছে বিএনপিকে মাঠে নামিয়ে পুলিশ, বিজিবি, ভ্রাম্যমাণ আদালত, মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদির মাধ্যমে দলটিকে দৌড়ের ওপর রাখতে। অন্য দিকে দলের লোকজন, দলবাজ সরকারি কর্মকর্তা এবং দালালদের পারস্পরিক হানাহানি বা অন্তঃবিরোধের সুযোগ না দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা। এখন দেখা যাক, রাজনীতির এই কূটকৌশলে শেষমেশ কারা জয়লাভ করে?

Comments
Loading...