আদালত অবমাননার রুল, নয়া দিগন্ত ও সমকালের সম্পাদক প্রকাশকসহ ১১ সাংবাদিকের অব্যাহতি

0 ১৬
NAYAআদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক ও প্রকাশকসহ ১১ সাংবাদিক। তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন।
অব্যাহতি পাওয়া সাংবাদিকেরা হলেনÑ নয়া দিগন্ত স¤পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ও প্রকাশক শামসুল হুদা, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও প্রকাশক এ কে আজাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শাহেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এম জসিম ও সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাজী মোবারক হোসেন ও এম সুজাউল ইসলাম এবং বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান ও সম্পাদক ইলিয়াস খান।
নয়া দিগন্তের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম। দৈনিক সমকাল ও চারটি সংগঠনের পক্ষে শুনানি করেন ড. শাহদীন মালিক।
আগাম জামিন নিয়ে প্রকাশিত দু’টি নিবন্ধের জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। একই সাথে মিজানুর রহমান খানকে তলবও করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে ‘মিনিটে একটি আগাম জামিন কিভাবে?’ এবং ১ মার্চ ‘ছয় থেকে আট সপ্তাহের স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধের জন্য এ রুল জারি করা হয়। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারির পাশাপাশি এ নিয়ে আইনজীবী আবু তালেবের দায়ের করা আবেদনেও আদেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে শুনানির সময় গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে কথা বলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তার বক্তব্যের কিছু অংশ প্রত্যাহারের দাবিতে গত শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতি আলাদা বিবৃতি দেয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিবৃতি পর দিন রোকন উদ্দিন মাহমুদ আদালতের নজরে আনেন। পরে আদালত বিবৃতি প্রকাশকারী নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিবৃতিদাতাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। পাশাপাশি বিবৃতিদাতাদের তলবও করেন। সে মতে তারা গতকাল আদালতে হাজির হন এবং নিজেদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বিবৃতিদাতা আটজনের মধ্যে ইলিয়াস খান দু’টি পদে আছেন এবং আবদুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অর্থাৎ মোট ছয়জন গতকাল সকাল ১০টার দিকে আদালত অবমাননার বিষয়ে হাজিরা দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা : এদিকে আদালত অবমাননার রুলের ওপর শুনানি চলাকালে আদালত কক্ষের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে আইনজীবীদের একটি উচ্ছৃঙ্খল অংশ। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ সময় উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সাংবাদিকেরা ওই আদালত কক্ষে যেতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা সাত সাংবাদিকের হাজিরার দিন থাকায় গতকাল সকালেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা আদালতে হাজির হন। সকাল সাড়ে ১০টার পর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চের কার্যক্রম শুরুর সময় আদালতে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব নামে এক আইনজীবী। এতে বিুব্ধ সাংবাদিকেরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুইপক্ষে শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় আইনজীবীদের হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নÑ বিএফইউজে দুই অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সালেহ উদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা এ সময় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও হট্টগোল চলতে থাকে। এরপর বিচারকেরাও এজলাস থেকে নেমে যান। উভয়পরে মধ্যে বেশ কিছু সময় বাগি¦তণ্ডার পর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের হস্তেেপ পরিস্থিতি শান্ত হয়। সাংবাদিক নেতারা সেখান থেকে সংবাদকর্মীদের নিয়ে অ্যানেক্স ভবনের খোলা চত্বরের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে আদালতে আসেন দুই বিচারক। আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা সাত সাংবাদিকের বিষয়ে আংশিক শুনানিও করেন তারা। দুপুরের পর আবার শুনানি করে বেলা ৪টার দিকে রায় দেন আদালত।
এ দিকে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত বিভিন্ন দৈনিকের সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, আদালতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে প্রায়ই কিছু আইনজীবী তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তারা আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতি পছন্দ করেন না। অনেক সময় তাদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। আদালত কক্ষ থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তারা এমন আচরণ করেন। অনেক সময় এসব আইনজীবী হাস্যকর প্রশ্ন করেন- আমরা তো প্রেস কাবে গিয়ে বসে থাকি না, তবে সাংবাদিকেরা কেন এখানে এসে বসে থাকবে?

Comments
Loading...