আল-কায়েদার ‘জিহাদের ডাক’ নিয়ে কে কী বলেছেন

0 ২৬

al-kayeda-video_edthumbnail1.thumbnailসন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বর্তমান প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির কথিত জিহাদের ডাক দিয়ে বার্তা প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পায়। বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন মাত্রা যোগ করে সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সেসব সংবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।

বিভিন্ন মিডিয়ার প্রকাশিত সংবাদ এবং মন্তব্য নিয়ে পাঠকদের জন্য একটি প্রতিবেদন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম

প্রথম আলো

‘প্রধান সংবাদ’ হিসেবে বিশেষ প্রতিবেদকের সূত্রে ‘প্রথম আলো’ তিন কলামে “আয়মান আল-জাওয়াহিরির বার্তা: বাংলাদেশে প্রতিরোধের ডাক আল-কায়েদার” শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

সংবাদের বিশেষ অংশ-

বাংলাদেশে ‘ইসলামবিরোধী’দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের (ইন্তিফাদা) ডাক দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি। একটি কথিত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। ‘বাংলাদেশ: ম্যাসাকার বিহাইন্ড এ ওয়াল অব সাইলেন্স’ শীর্ষক এ ভিডিও বার্তার ব্যাপ্তি প্রায় ২৯ মিনিট। বার্তার শুরুতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর হামলার স্থিরচিত্র দেখানো হয়।

গতকাল শনিবার ইউটিউব, ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে আল-জাওয়াহিরির বক্তব্যটি নজরে আসে। তবে বাংলাদেশে এ বার্তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আল-কায়েদার প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত আস্-সাহাব মিডিয়া ফাউন্ডেশন গত নভেম্বরে বার্তাটি তৈরি করেছে। আস্-সাহাবের ওয়েবসাইটে এটি অবশ্য নেই। বিভিন্ন ব্লগে আল-জাওয়াহিরির পুরো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আর ভিডিও বার্তাটি রয়েছে জিহাদোলজি ডটনেট নামের একটি ওয়েবসাইটে।

ভিডিও বার্তায় দেখা গেছে, আরবিতে জাওয়াহিরি বক্তব্য দিচ্ছেন। আর নেপথ্যে তাঁর স্থিরচিত্র। পর্দার নিচে ভেসে উঠছে বক্তব্যের ইংরেজি অনুবাদ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের নিয়মিত প্রকাশনা টেররিজম মনিটর-এর ২৪ জানুয়ারির সংখ্যায় আল-জাওয়াহিরির এই বক্তৃতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কবে, কোথায় বার্তাটি প্রচার করা হয়েছে, সেটি বলা হয়নি। ভিডিও বার্তাটি সঠিক কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংবাদের সাথে হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক অাবদুর রব খান এর মন্তব্য প্রকাশ করেছে।

যুগান্তর

যুগান্তর তাদের প্রথম সংস্করণে সংবাদটি প্রকাশ না করলেও দ্বিতীয় সংস্করণে প্রথম পাতায় একদম নীচে ডেস্ক রিপোর্ট হিসেবে দেড় কলাম জুড়ে “বাংলাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক ‘আল কায়দার’ ” শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করেছে। পুরো সংবাদ জুড়ে আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি ওই বার্তায় কী বলেছেন তার বর্ণনা করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত তাদের দ্বিতীয় সংস্করণে শেষের পাতায় এক কলাম জুড়ে “আলকায়েদার কথিত অডিও বার্তায় বাংলাদেশে জিহাদের ডাক” শিরোনামে সাংবাদটি প্রকাশ পায়। বিবিসি’কে সংবাদ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো সংবাদ জুড়ে আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি ওই বার্তায় কী বলেছেন তার বর্ণনা করা হয়েছে।

সমকাল

‘প্রধান সংবাদ’ হিসেবে নিজস্ব প্রতিবেদকের সূত্রে ‘সমকাল’ লাল রঙে চার কলাম জুড়ে “বাংলাদেশে ‘জিহাদের ডাক’ : আল কায়দার অডিও বার্তা নিয়ে তোলপাড়” শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

সংবাদের বিশেষ অংশ-

ইন্টারনেটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আল কায়দার জিহাদের ডাক নিয়ে প্রচারিত একটি অডিওবার্তা বা তথ্যচিত্র নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। বার্তাটি আসলে আল কায়দার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির কি-না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বার্তাটিতে যার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, তা সত্যিই আল কায়দার প্রধানের কি-না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

অনলাইন অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি সার্ভারে ((http://triceratops.brynmawr.edu/dspace/bitstream/handle/10066/12705/ZAW2…) পিডিএফ ফরম্যাটে অডিওবার্তাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি নির্মিত হয় ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর। এটি আপলোড করা হয় গত ১৪ জানুয়ারি। তবে অডিওটি গতকাল শনিবার দেশীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ইউটিউবে তাদের নিজস্ব চ্যানেলে আপলোড করে। একই সঙ্গে তাদের অনলাইনেও এ-সংক্রান্ত একটি খবর প্রচার করা হয়। মূলত ওই খবর প্রচারের পর থেকেই দেশজুড়ে এ বিষয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তারা সমকালকে গতকাল জানান, বার্তাটি সত্যিই আল কায়দার প্রধান জাওয়াহিরির কি-না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

সংবাদের সাথে বিটিআরসির বক্তব্য, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক অাবদুর রব খান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি ছানোয়ার হোসেন এর মন্তব্য প্রকাশ করেছে।

ইত্তেফাক

ইত্তেফাক প্রথম পাতায় মাঝখানে বক্স করে “বাংলাদেশে আল-কায়েদার জিহাদের ডাক: সংগঠন প্রধান জাওয়াহিরির অডিও বার্তা” শিরোনামে দুই কলাম জুড়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে। পুরো সংবাদ জুড়ে আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি ওই বার্তায় কী বলেছেন তার বর্ণনা করা হয়েছে।

জনকণ্ঠ

জনকন্ঠ ‘প্রধান সংবাদ’ হিসেবে লাল রঙে “এবার আল কায়েদা” শিরোনামে চার কলাম জুড়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

সংবাদের বিশেষ অংশ-

জামায়াত, হেফাজতসহ উগ্রবাদী জঙ্গী সংগঠনের অপতৎপরতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এবার বাংলাদেশে জেহাদের ডাক দিয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদা। জামায়াত-হেফাজতসহ বাংলাদেশে তৎপর সব উগ্রবাদী সংগঠন এমনকি বিএনপি ও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতোই আল কায়েদা সরকারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার আলেম-ওলামাকে হত্যার অভিযোগ এনেছে। ইন্টারনেটে প্রচারিত আল কায়েদার বর্তমান শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির অডিওবার্তায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের পর রাজনৈতিক ফাঁয়দা লুটতে হেফাজত ছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের নেয়া অবস্থানের সূত্র ধরেই আল কায়েদা বলেছে, বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও পশ্চিমাদের ইসলামবিরোধী যুদ্ধের বিরুদ্ধে জেহাদে নেমে পড়ুন। বার্তার শুরুতে আছে ভিডিও ক্লিপ, যার সঙ্গে রয়েছে জামায়াত-হেফাজতের কর্মকাণ্ডের মিল। বার্তায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার নিয়েও জঙ্গী সংগঠনটির ক্ষোভ স্পষ্ট।

সংবাদে লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং নাম প্রকাশ না করে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশে করেছে। এছাড়া সংবাদের সম্পূরক হিসেবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার এর বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

কালের কন্ঠ

‘প্রধান সংবাদ’ হিসেবে কালের কন্ঠ “আল-কায়েদার মিথ্যাচার মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ! গণহত্যার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে জিহাদের ডাক” শিরোনামে লাল রঙে চার কলাম জুড়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

সংবাদের বিশেষ অংশ-

‘বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে’; ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনা করা হচ্ছে’- এমন সব মিথ্যাচার করে বাংলাদেশে জিহাদের ডাক দিয়েছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ-সংক্রান্ত একটি অডিওবার্তা সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বর্তমান প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির কথিত ওই বার্তায় যে জিহাদি বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা মূলত জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। বার্তার সঙ্গে যে ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গত বছরের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে নাশকতা ও পুলিশি অ্যাকশনের ছবি। অথচ বার্তায় ছবিগুলো এমনভাবে সাজিয়ে ক্যাপশন লেখা হয়েছে যেন এ দেশে মুসলমানদের ওপর নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চলছে। বার্তায় এসব কারসাজি করে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারীদের প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই বার্তায় বাংলাদেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহান মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তান ভাঙার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করা এবং উপমহাদেশে তাদের দুর্বল করে দেওয়া। বার্তায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ আখ্যায়িত করে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ওই বক্তব্যটি সত্যিই আল-কায়েদার প্রধান জাওয়াহিরির কি না কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই বার্তার সত্যাসত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনলাইনে বাংলাদেশে জিহাদের পক্ষে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।

জিহাদি ফোরামে জাওয়াহিরির নামে প্রচারিত বার্তাটি প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। ইউটিউবে জনৈক মুহিন সেন প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ : নীরবতার প্রাচীরের পেছনে গণহত্যা’ শীর্ষক ওই অডিওবার্তার সঙ্গে বাংলায় সাব-টাইটেল যোগ করা হয়েছে।

মুহিন সেন প্রকাশিত ভিডিও বার্তা ধরে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, দাওয়াহ্ইলাল্লাহ্‌র ব্লগে প্রকাশিত জাওয়াহিরির কথিত ওই বিবৃতির তারিখ লেখা হয়েছে ২৯ জানুয়ারি। ওই ব্লগে জিহাদের ব্যাপারে আরো অনেক প্রচারণা রয়েছে।

সংবাদে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর এক নেতা, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, বিএনপি নেতা লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম শাখার প্রধান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুর রব খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এর মন্তব্য প্রকাশ করেছে।

রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন সংগঠন যা বললেন

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

‘আল-কায়েদা তাদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলমানদের বিপদে ফেলছে। তাদের হুমকি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। কথিত জিহাদের নামে তাদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনো দিন সমর্থন দেবে না।’

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী

‘বাংলাদেশে লেডি লাদেন আছে। আল-কায়েদা এ ধরনের বার্তা পাঠাবে তাদের চাঙ্গা করার জন্য- এটা বিচিত্র কিছু নয়। এসব হুমকি, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও মৃত্যুভয় মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, যাব।’

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

‘আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির বক্তব্য সত্য, অসত্য যাই হোক না কেন তাতে আমরা বিস্মিত নই। বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই আর্ন্তজাতিক ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের লীলাক্ষেত্র হিসেবে তৈরির চেষ্টা চলছে। জাওয়াহিরির বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে এ চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। জাওয়াহিরির হুমকির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতের চক্রান্তের বিষয়টি উন্মোচিত হল। আল কায়েদার নেতা জাওয়াহিরির বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে ওই জঙ্গীবাদী তৎপরতার সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক আছে। জাওয়াহিরির আহ্বান এবং জামায়াত ও হেফাজতের বক্তব্য এক ও অভিন্ন। দেশে বিভিন্ন সময়ে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে মূলত বিএনপির নেত্রীও যুক্ত আছেন।’

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

‘২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও জঙ্গিবাদের ঘাঁটি ও খুঁটি নির্মূল হয়নি। এই সকল জঙ্গীবাদী ও জামাতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আলকায়দা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের সংযোগ খালেদা জিয়ার শাসনকালেই ঘটে। বহু আফগান ফেরত জঙ্গী বর্তমানে কারাগারে।

জাওয়াহারির সাম্প্রতিক বক্তব্য উস্বানিমূলক। বেগম খালেদাকেই প্রমান করতে হবে যে, তার সাথে আলকায়দার কোনো সম্পর্ক নেই।’

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

‘এ ধরনের ভিডিও বার্তাকে আমরা কোনো ধরনের হুমকি বলে মনে করি না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, শিগগিরই তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

‘আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তার সঙ্গে জড়িত সব বিষয় আমাদের নজরে আছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ

‘বাংলাদেশে আল-কায়েদার সাংগঠনিক বিস্তৃতি আছে- সেটা প্রমাণ করেছে এ হুমকি। বিএনপি-জামায়াত এ শক্তিকে মদদ দিচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার সরকার সব জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেরতে বদ্ধপরিকর।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান

‘বার্তায় আল-কায়েদার নেতা কী বলেছেন, জানি না। আমি শুনিনি। তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’


লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর

‘১৫ বছর ধরে আমরা তথ্যপ্রমাণসহ বলে আসছি, দেশে আল কায়েদার হয়ে কাজ করছে জামায়াতসহ তার সমমনা উগ্রবাদী দলগুলো। কাজেই ঘৃণ্য এই অপশক্তি দেশকে আর একটি আফগানিস্তান বা পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করার আগেই দেশ থেকে তাদের নির্মূল করতে হবে। আজ তথ্যপ্রমাণসহ কর্মকা- পরিষ্কার করে দিয়েছে আল কায়েদা নেতা। এখন সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে জামায়াত-হেফাজতসহ সব উগ্রবাদী জঙ্গী সংগঠন নিষিদ্ধ করা। তা না হলে দ্রুতই বাংলাদেশ আল কায়েদার ঘাঁটিতে পরিণত হবে।’

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন

‘অবিলস্বে জামায়াত-শিবিরসহ সব জঙ্গী সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে। সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আল কায়েদা নেতা যে বার্তা দিয়েছে তা নতুন কোন বিষয় নয়। আমরা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছি জামায়াত আল কায়েদার সংগঠন। রাষ্ট্রকে এখন এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কেবল সরকার নয়, রাজনৈতিকভাবে এদের দমন করতে হবে।’


নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রব খান

‘আল-কায়েদা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলল। যেখানে তাদের বড় কার্যক্রম চলছে, সেসব জায়গা নিয়েই তারা এর আগে কথা বলেছে। বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে।’

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান

‘আমরা প্রথমে দেখব এটা আল কায়দাপ্রধানের অডিওবার্তা কি-না। র‌্যাব জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এর আগেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। যারা উগ্র পন্থায় বিশ্বাসী, তাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান

‘আল কায়দাপ্রধানের নাম ও ছবি দিয়ে প্রচারিত এ বার্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে।’

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম শাখার প্রধান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান

‘হুমকির (সোর্স) সূত্র আমরা অবশ্যই বের করতে পারব। আর বাংলাদেশের মধ্যে থেকে হলে আমরা এ হুমকিদাতাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সাইবার ক্রাইমের সূত্র খুঁজতে গিয়ে মেশিন বা কম্পিউটার ডিভাইস শনাক্ত করি। এ ক্ষেত্রে দেশের বাইরে কোনো স্থান থেকে আল-কায়েদার নামে এ হুমকি দেওয়া হলে আমরা তা শনাক্ত করতে পারব। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার সীমাবদ্ধতার কারণে অপরাধীকে সেখানে গিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি ছানোয়ার হোসেন

‘উগ্র মৌলবাদে বিশ্বাসী যেসব তরুণ ইতিমধ্যে বিদেশে কারাভোগ করে দেশে ফিরেছেন, তাদের ওপর নজরদারি রয়েছে।’

হেফাজতে ইসলাম এর বিবৃতি

‘কে বা কারা কোন উদ্দেশ্যে এই অডিওবার্তা প্রচার করছে আমাদের জানা নেই। আমাদের সন্দেহ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বসহ এ দেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এটা নতুন আরেক ষড়যন্ত্র হতে পারে। হেফাজতে ইসলাম ইমান-আকিদার সুরক্ষা, ইসলাম অবমাননা রোধ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অরাজনৈতিক অবস্থানে থেকেই এ দেশের তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ১৩ দফার আন্দোলন করে যাচ্ছে। অথচ হেফাজতে ইসলামকে অরাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে লক্ষ্যচুত করার জন্য নানা অপবাদ ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে উসকানিমূলক ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন সময় সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গিবাদের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা ও আলেম সমাজকে জড়িয়ে নানা মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে এ দেশ থেকে ইসলামী শিক্ষা ও মুসলিম চেতনাবোধ ধ্বংস করে দিতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ তৌহিদি জনতার ধর্মীয় বিশ্বাস, মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত নানা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইহুদি লবির পাশাপাশি প্রতিবেশী বৃহৎ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ ইসলামবিদ্বেষী আরো অনেকেই জড়িত। দীর্ঘদিন থেকেই কট্টর ইসলামবিদ্বেষী এ চক্রটি শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের ওপর একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে। ইসলামবিদ্বেষী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজশে অভ্যন্তরীণ ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদীরা ওলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসাকে সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গিবাদের জড়ানোর মতো চরম মিথ্যাচার চালিয়ে এ দেশে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চাচ্ছে।’

জামায়াত ইসলামীর বিবৃতি

‘আল-কায়েদার সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোন ধরনের সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না। আমরা যে কোন ধরনের জঙ্গিবাদকে আন্তরিকভাবে ঘৃণা করি। কোন ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডের সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বাংলাদেশের আলেম সমাজ ও মূলধারার ইসলামী দলগুলোর সাথে আল-কায়েদার কোন সম্পর্ক আছে বলে আমাদের জানা নেই। দু’একটি সংবাদ মাধ্যমে আল-কায়েদার সাথে জামায়াতের সম্পর্ক সংক্রান্ত যে সব আজব তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে তা মিথ্যা।

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলাম ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে এটি একটি নতুন ষড়যন্ত্র কিনা তা নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। বাংলাদেশ যে কোন ধরনের উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত। মূলত বাংলাদেশকে বিশ্বসম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আল-কায়েদার কথিত বার্তার অবতারণা করে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরুদ্ধে একটি নতুন ষড়যন্ত্রের ছক অঙ্কন করা হয়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা।’

ওয়ার্কার্স পার্টি এর বিবৃতি

ওয়ার্কার্স পার্টি ২০০৪ সাল থেকে অভিযোগ করে আসছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী শক্তির অপতত্পরতা শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ গোষ্ঠীকে লালন পালন করছে বিগত দিনের জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার। সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী শক্তির আসল লক্ষ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে হটিয়ে বাংলাদেশকে ধর্মভিত্তিক চরম সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করা।

আল-কায়েদার কথিত ভিডিও বার্তার শুরুতে ২০১৩ সালে ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশের ওপর হামলার স্থিরচিত্র দেখানো হয়। আল-কায়েদার নেতা আল-জাওয়াহিরি তাঁর বক্তব্যে সরাসরি হেফাজতে ইসলাম বা জামায়াতে ইসলামের নাম উচ্চারণ করেননি। তবে বার্তাটির শুরুতে হেফাজতের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের স্থিরচিত্র দেখানো হয়। একই সঙ্গে বক্তৃতার একটি অংশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। আল-কায়েদার নেতা বাংলাদেশকে একটি জেলখানা অভিহিত করে বাংলাদেশ সরকারকে ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয়, আল-কায়েদা সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদী শক্তি জামায়াত, হেফাজত ও বিএনপি এক হয়ে আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিবৃতি

জাওয়াহিরির এ ধরনের বক্তব্য জামায়াতী পরিকল্পনারই অংশ। আমরা আগে থেকেই বলেছি হেফাজত একটি জঙ্গী সংগঠন। জামায়াতী পরিকল্পনায় হেফাজত ইসলামের ব্যানারে দেশে জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। জাওয়াহিরির নামে যে বক্তব্য শনিবার প্রচার হয়েছে এটি জামায়াতী নীলনক্সার একটি অংশ। এ ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত।

ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তব্য

ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ

‘দেশীয় ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিদেশি জঙ্গিদের সহায়তায় খালেদা জিয়া ও তাঁর সন্তান তারেক রহমান দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আল-কায়েদাকে ভাড়া করে ভিডিও বার্তা দেওয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম

‘নাটের গুরু তারেক রহমান লন্ডনে থেকে এসব পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মুসলমানদের জন্য ‘জেলখানা’ দাবি করে এর থেকে উত্তরণে বাংলাদেশিদের জেহাদের ডাক দিয়েছে দুনিয়ার শীর্ষ জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা বলে শনিবার এক সংবাদ প্রকাশ করে বার্তাসংস্থা বিডিনিউজ। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে সার্চ করে দেখা যায় ‘আশ শাহাব’ মিডিয়ার তৈরি এই ভিডিও বার্তা ১৪ জানুয়ারি ২০১৪ এ ‘জিহাদোলজি ডট নেট’ সাইটে প্রথম প্রকাশিত হয়।

ভিডিও বার্তায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামির সমাবেশ এবং সেই রাতে পুলিশের অভিযানের কিছু ছবি দেখানোর পর আল কায়েদার বর্তমান নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির নাম ও স্থিরচিত্রসহ এক ভিডিও বার্তা প্রচারিত হচ্ছে ইন্টারনেটে। জাওয়াহিরিকে সরাসরি কোন কথা বলতে শোনা না গেলেও ইংরেজি সাবটাইটেল এ এই বার্তা প্রচারিত হয়েছে।

Comments
Loading...