ইশতেহারে গরজ নেই আ. লীগের

0 ২৭

image_55905_0ভোটের সময় এগিয়ে এলেও এগোচ্ছে না আওয়ামী লীগের ইশতেহার তৈরির কাজ। ইশতেহার নিয়ে ‘আজ-কাল-পরশু’ করেই কেবল সময় পার করছে দলটি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানা বিষয়ে নেতিবাচক নজির সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে এসেও নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা না করাটাও সে রকমই একটি নজির। এর আগে কোনো নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা নিয়ে এমন অনাগ্রহ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ‘কন্যাকে সাজানো হচ্ছে। বধূবেশ ধারণ করলেই বরযাত্রী দেখতে পাবে।’

দলের নেতারা বলছেন, এ নির্বাচনে জনগণের কাছে যাওয়া লাগছে না, তাই ইশতেহারের গুরুত্বও নেই। দলের মধ্যম সারির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, নির্বাচনী সফর-প্রচার, ইশতেহার এসব নিয়ে কোনো গরজ নেই আওয়ামী লীগের। তার ওপর সমন্বয় নেই প্রার্থীদের সঙ্গে কেন্দ্রের। যাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন তাঁরা ঢাকায়। যাঁরা নির্বাচিত হননি তাঁরাও ঢাকায় অবস্থান করছেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দু-এক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। গত শুক্রবার ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এরই মধ্যে সেই ‘দু-এক দিন’ পার হয়ে গেছে, কিন্তু ইশতেহারের দেখা নেই।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে দেশ ও জনগণের উন্নয়নের জন্য কিভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে কোনো অঙ্গীকার এখনো জনগণের সামনে হাজির করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। কখন কোথায় কিভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে, তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না দলের কেউ। তবে ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মসিউর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, খুব শিগগির ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। নির্বাচন নিয়ে এক রকম জটলার ফলে ইশতেহার প্রণয়নের কাজে দেরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন ড. মসিউর। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, কাজ চলছে, দলের সভাপতি সর্বশেষ দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই জনগণের সামনে তা তুলে ধরা হবে।
ড. মসিউর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ইশতেহার খসড়াভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই তা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় কাটছাঁট করে তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। ইশতেহার ঘোষণায় দেরি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হওয়ায় দেরি হয়েছে। ইশতেহারে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি, পানি ও জনশক্তি ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণও গুরুত্ব পেয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন, এবার নির্বাচন গুরুত্বহীন, তাই ইশতেহারও গুরুত্বহীন। দলীয়ভাবে কোনো ওয়াদা না করেই এরই মধ্যে সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন প্রার্থীরা।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ইশতেহার কী হবে, কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরা হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়নি এখনো। ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম, আবুল মাল আবদুল মুহিত, ড. মসিউর রহমান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতসহ বিভিন্ন পেশার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘শান্তি উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ’- এমন স্লোগান নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া নবম সংসদ নির্বাচনের অসমাপ্ত প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন এবং রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা।
Comments
Loading...