ব্যাংক খাতের বিনিয়োগকারীরা বিপাকে

0 ২২

bank_0_12_3মাসব্যাপী ব্যাংকিং খাতের অর্ধেক কোম্পানির শেয়ার দর কমছে। ধারাবাহিক দরপতনের ফলে এসব ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করা বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন বিপাকে। বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা এমনই মনোভাব প্রকাশ করেন শেয়ারনিউজ২৪.কমের কাছে। 

তারা জানান, শেয়ারবাজার উন্নয়নের স্বাভাবিক গতি বাড়াতে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এ খাতের শেয়ার এখনো বিনিয়োগের জন্য অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। তাই সবার কাছে ব্যাংকের শেয়ার আস্থাভাজন হিসেবে রয়েছে। 

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা জানান, ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন এবং শেয়ার সংখ্যা বেশি। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এ খাতকে বিনিয়োগ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন ও দর ওঠানামা অনেকটাই স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। অন্যান্য কোম্পানির মতো ঢালাওভাবে এ খাতের শেয়ার দর উত্থান-পতন হয় না। তারপরও মাসব্যাপী ১৫টি ব্যাংকের শেয়ার দরপতনে রয়েছে। এর মধ্যে একটি কোম্পানি শেয়ার দর কমে ফেস ভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে। 

তারা জানান, দর কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তারপরও দর কমায় এসব ব্যাংকের শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন বিপাকে। দর কমা ব্যাংকগুলো হলো- সিটি, যমুনা, ইউসিবিএল, সাউথইস্ট, এসআইবিএল, প্রিমিয়ার, এনসিসিবিএল, আইএফআইসি, আল-আরাফাহ্, এবি, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন, ইসলামী ব্যাংক, এমটিবি ও শাহজালাল ব্যাংক। 

বেশ কিছু সিকিউরিটিজ হাউজ কর্তৃপক্ষ জানান, শেয়ারবাজার পতনে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে এ খাতের শেয়ারে সেলপ্রেসার বেশি। বর্তমানে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তারপরও বেশকিছু ব্যাংকের শেয়ার দরপতন রয়েছে। অবশ্য দর কমার কোনো কারণ নেই। তাই এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যাংক খাতে শেয়ার দর কমার কারণ বের করতে হবে নিয়ন্ত্রকদের। তা না হলে শেয়ার ধারণকারী বিনিয়োগকারীরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি ব্যাংকের এক পরিচালক শেয়ারনিউজ২৪কে জানান, ব্যাংকিং খাতের শেয়ার সংখ্যা বেশি। তাই সব ব্যাংকে শেয়ার দর সামান্য বাড়লে পুরো বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। আবার সামান্য কমলে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। তাই ব্যাংকের শেয়ার দর খুব বেশি উত্থান-পতন হয় না। কিন্তু বিগত কয়েক বছরেও এ খাতের শেয়ার দর খুব একটা ঊর্ধ্বমুখী হয়নি। কারণ ব্যবসায়িক মন্দা ও শেয়ারবাজার পাহাড়সম পতনে ছিল। সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর কমার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

দর কমার বিষয়ে অন্য কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, আলামতবিহীন শেয়ার দরপতন হচ্ছে। দর কমার পেছনে কোম্পানির কেউ জড়িত নয়। মন্দা ও পতনে এ খাতে বিনিয়োগ ঝিমিয়ে পড়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ আগের চেয়ে কমেছে। বর্তমানে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের আরো বিনিয়োগ বাড়লে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় স্থায়ীভাবে এগোবে বলে আশা করেন তারা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসে এবি ব্যাংকের শেয়ার দর ২৩.২০ টাকা থেকে ২৫.২০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ২৩.২০ টাকা। এদিন দর কমেছে ২০ পয়সা। আল-আরাফাহর শেয়ার দর ১৪.১০ টাকা থেকে ১৪.৮০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১৪.১০ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর ১৫.৩০ টাকা থেকে ১৬ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১৫.৩০ টাকা। এদিন দর কমেছে ২০ পয়সা। যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর ১১.৬ টাকা থেকে ১২.৬০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১১.৮০ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। ইউসিবিএল ব্যাংকের শেয়ার দর ২৪.৭০ টাকা থেকে ২৬.৮০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ২৪.৭০ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ১৭.৪০ টাকা থেকে ১৯ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১৭.৪০ টাকা। এদিন দর কমেছে ২০ পয়সা। এসআইবিএল ব্যাংকের শেয়ার দর ১১ টাকা থেকে ১১.৫ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার দর ৯.৯ টাকা থেকে ১০.৩০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ৯.৯ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। এনসিসিবিএল ব্যাংকের শেয়ার দর ১০.২০ টাকা থেকে ১১ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ১০.২০ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর ২৩.২০ টাকা থেকে ২৪.২০ টাকায় ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ২৩.২০ টাকা। এদিন দর কমেছে ১০ পয়সা। 

এছাড়া মাসব্যাপী শেয়ার দর কমায় ছিল ব্যাংক এশিয়া, ইস্টানর্ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এমটিবি ব্যাংক ও শাহজালাল ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ ৫ ব্যাংকের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল।

Comments
Loading...