সংলাপে সমর্থন জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিবৃতি : বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কে ‘মানবাধিকার-গণতন্ত্র’ অত্যাবশ্যকীয়

0

eu_69705-copyঢাকা : সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধীদলকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মহল ও সুশীল সমাজের পরামর্শ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র অত্যাবশ্যকীয় উপদান বলে মনে করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)। ঢাকা সফররত ইপির মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিটির প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

প্রতিনিধিদল গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে পার্লামেন্টের অব্যাহত উদ্বেগের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২০০১ সালের দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র অত্যাবশ্যকীয় উপদান বলে মনে করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।’ প্রতিনিধিদলের এই সফরের উদ্দেশ্য দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেয়া এবং শ্রম অধিকার, নারী-শিশু ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়া। আলোচনার সময় চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় সৃষ্ট সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন। প্রতিনিধিদল সরকার এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের (সংলাপের) আহ্বানের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত ২০১৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নেয়া রেজ্যুলেশন অনুযায়ী প্রতিনিধিদল গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে পার্লামেন্টের অব্যাহত উদ্বেগের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও উদ্বেগের বিষয় তা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অর্জন উচিত হবে না। বহুদলীয় এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি ভিত্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এবং দুঃস্থ মানুষের অবস্থার উন্নয়নে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো যাতে পর্যাপ্ত সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করে ‘বিদেশি অনুদান আইন’ প্রণয়ন করা হয় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এটি ইইউ বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন বৈঠকের সময় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ইইউ’র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যে কেনো পরিস্থিতি মৃত্যদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতা করেন। সফরকালে প্রতিনিধিদল ট্রেড ইউনিয়ন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পরিবেশ কর্মী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, সংসদের স্পিকার এবং সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধিদল পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রেখে সরকার রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে। প্রতিনিধিদলের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান দান প্রেদা বলেন, ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে আমরা এখানে এসেছি। আমরা বাংলাদেশকে শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে চাই। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ঘোষিত মধ্যম-আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রই অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হবে।’
Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More