অবিলম্বে পদত্যাগ করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন : মেজর হাফিজ

0

mejor hafijকলঙ্কের বোঝা আর ভারি না করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুধাবন করে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার এক সভায় তিনি বলেন, দেরিতে হলেও বিবেকের দংশনে প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিনি সত্য কথা বলেছেন। মহামান্য প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকার একটি অবৈধ সরকার। বর্তমান পার্লামেন্টও অবৈধ। আধুনিক কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে ওই সরকার পদত্যাগ করত।

আজ বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ সভার আয়োজন করে।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ভালো কাজটি দেরিতে হয়। এ ধরনের অবৈধ সরকারের গায়ে লাগে না। তাদের একটা কথা, তোরা যে যা বলিস ভাই, ক্ষমতার মসনদ চাই। তাই সরকারকে বলব, দলবাজি করে দেশকে ধ্বংস করবেন না। প্রধান বিচারপতি এজলাস অথবা এজলাসের বাইরে যেখানেই ব্যাখ্যা দিন, তিনি প্রধান বিচারপতি হিসাবেই দিয়েছেন। তাই প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুধাবন করে পদত্যাগ করুন। সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।

তিনি বলেন, দেশে নাকি অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাহলে আপনাদের ভয় কিসের? বিনা ভোটে অবৈধভাবে অনেকদিন ক্ষমতায় আছেন। নির্বাচন দিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া রাজপথে মোকাবিলার জন্য আসুন। দেখা যাবে কার শক্তি বেশি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপির নাকি আন্দোলনের ক্ষমতা নাই। তাই ক্ষমতাসীনদের বলব- পুলিশ বাদে রাজপথে আসুন, তখন দেখবেন জনগণ কার সাথে আছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চাই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে মূর্খ বানাচ্ছে এবং মিথ্যাচার করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিউজ্জামান খোকন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রাশেদা বেগম হীরা প্রমুখ।

কৃষকদলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট ও সাবেক ছাত্রনেতা সর্দার মো: নূরুজ্জামানসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ জিয়ার স্মৃতিচারণ করে মেজর হাফিজ বলেন, সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্টাফ অফিসার ছিলাম। আমি তাকে কাছ থেকে দেখেছি, তার কোনো উচ্চাকাঙ্খা ছিলো না। সাদা মাটা একজন মানুষ ছিলেন। জিয়াউর রহমানের মত চরিত্রবান কোনো লোক আমি দেখিনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও তিনি কোনোদিন দুর্নীতি করেননি। এটা খোদ তার চরম শত্রুরাও বলতে পারবে না। কেউ প্রমাণও দিতে পারবেনা।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওই সময়ে পাকিস্তান আর্মিরাতো বাড়ি বাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদেরই খুঁজেছে। আর তাকে আওয়ামী কিছু বুদ্ধিজীবী, যারা মুক্তিযুদ্ধেই যাননি তারা বলে বেড়ায় তিনি নাকি পাকিস্তানের বন্ধু। আমি বলব, বিএনপিতে যত রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা আছে, তা আওয়ামী লীগে নেই। বিএনপি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের দল, আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে শরণার্থীদের দল।

শেরেবাংলা নগর থেকে জিয়ার মাজার সরানো হলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তা কলঙ্কজনক হবে এবং সারাবিশ্ব ধিক্কার দিবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যখন পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ে স্বাক্ষর করেন, তখন তার শপথ ছিলো না। কারণ অবসরের সাথে সাথে শপথের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বর্তমান মহামান্য প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এর ওপর একটি বক্তব্য দিয়েছেন। এটা রায় নয়। তবে তিনি সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়ার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। এটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে শহীদ জিয়ার আদর্শকে অনুসরণের কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ বলেন, শহীদদের তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে আমরা তার অবসান চাই। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঠিক তালিকা জানতে চাই, চাই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা। চাই রাজাকারেরও তালিকা। তিনি বলেন, আমরা বেঁচে থাকতে ক্ষমতাসীনরা যতই ষড়যন্ত্র করুক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধি কেউ সরাতে পারবে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More