প্রার্থী ছিলাম আছি থাকবো

0

ঢাকা: ঢাকা সিটি করপোরেশনের দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খোকনকে। সাঈদ খোকনের তার বিরুদ্ধে প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম। এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের এই নেতাকে যদিও দল থেকে সমর্থন দেয়া হয়নি, তবুও তার প্রার্থীতা ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন বাংলামেইলের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আদিত্য রিমন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরাhazi-selim2 হলো।

বাংলামেইল২৪ডটকম: নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটুকু এবং কেন নির্বাচন করতে চাচ্ছেন?
হাজী সেলিম: ঢাকাকে ভাগ করে যখন দুই সিটি করপোরেশন করা হলো তখন থেকেই সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছি। অন্যরা এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমি ২ বছর আগে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। মাঝখানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিধায় জনগণ চাওয়ায় এমপি নির্বাচন করেছি। এখন জনগণ চাচ্ছে, তাই সিটি নির্বাচন করবো।

বাংলামেইল২৪ডটকম: অন্যদলগুলোর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার বিষয়ে কী ভাবছেন।
হাজী সেলিম: আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট কিংবা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে সব দলের প্রার্থী থাকা উচিৎ এ নির্বাচনে। তাহলে নির্বাচন জমবে। দলগুলোর উচিৎ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা।

বাংলামেইল২৪ডটকম: দল থেকে তো আপনাকে সমর্থন দেয়া হয়নি। তাহলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ…
হাজী সেলিম: স্থানীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ের বিষয় থাকে না। এখানে জনগণের চাওয়ার প্রেক্ষিতে মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী হয়। নেত্রী শেখ হাসিনা দুইজনকে ডেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তিনি চাইলেও তো অনেককে ডেকে নির্বাচনে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলতে পারেন না। তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আর আমি প্রস্তুতি নিয়েই বসে আছি। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সমর্থন দেয়ার আগে নিশ্চয়ই নেত্রী যাচাই-বাছাই করবেন জনগণের কাছে কার কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচন সঠিকভাবে চান তাহলে অন্য সবাইকে এ নির্বাচনে অংশ নিতে বলবেন। আর আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের কর্মী নেত্রী যখন যে কর্মসূচি দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে ১৩৫ টি মামলা হয়েছে, জেলে গিয়েছি কয়েকবার। নিশ্চয়ই নেত্রী সেগুলো বিবেচনায় নেবেন। আমার বিশ্বাস দল আমাকে সমর্থন দেবে। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

বাংলামেইল২৪ডটকম: মেয়র হলে নগর নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে আপনার?
হাজী সেলিম: প্রথমে নগরের সমস্ত রাস্তা-ঘাট, মার্কেটকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো। এটা করা হলে নগরের ছিনতাই, খুন, গাড়িতে আগুন দিয়ে বোমা মেরে মানুষ খুনসহ সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ মানুষ যখন জানবে তার মাথার ওপরে থেকে তাকে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে, তখন আর অপরাধ করতে সাহস পাবে না। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য কাজগুলো করতে চাই।

বাংলামেইল২৪ডটকম: ভোটাররা কী আপনাকে ভোট দেবে বলে মনে করেন? জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী আপনি?
হাজী সেলিম: এর আগে আমি নগরের দুটি ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলাম। এমপি ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলাম। আমার এই অভিজ্ঞতার জন্যই লোকে আমাকে ভোট
দেবে। মানুষ কোনো চাকরিতে স্টাফ নিয়োগ দিতে চাইলে সেখানে ৩ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চায়। আর আমার এসব অভিজ্ঞাতার কথা জনগণ জানেন। তারা জানেন আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করলে তাদের সঠিকভাবে চালাতে পারবো। মানুষ সব সময় যোগ্যলোককেই খোজে। সে হিসেবে যোগ্যপ্রার্থী আমি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত আমি। ঢাকা দক্ষিণের জনগণ আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলছেন। জনগণই আমার প্রচার-প্রচারণা চা
লাচ্ছেন।

বাংলামেইল২৪ডটকম: এক দলের দুই প্রার্থী থাকলে ভোট ভাগ হওয়া বা পরাজয়ের কারণ দেখেন কি না?
হাজী সেলিম: স্থানীয় নির্বাচনে মানুষ দলের লোক দেখে ভোট দেয় না। এখানে মানুষ ব্যক্তি দেখে, তার অভিজ্ঞতা দেখে ভোট দেয়। সুতরাং এখানে কোনো সমস্যা নেই।

বাংলামেইল২৪ডটকম: ছোট বেলা থেকে কী রাজনীতিবিদ হওয়ার ইচ্ছা ছিল?
হাজী সেলিম: না, ডাক্তার অথবা উকিল কিংবা অন্য কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু হয়ে গেলাম ব্যবসায়ী। তারপর সমাজ সেবক, এরপর রাজনীতিবিদ।

বাংলামেইল২৪ডটকম

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More