মেট্রোরেল প্রকল্পে হুমকির মুখে ৭৫ স্থাপনা

0

dhakaরাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে কম্পনজনিত কারণে রেল পরিধির মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ভবন হুমকির মধ্যে পড়বে। ঢাকার ৭৫টি নিদর্শনের উপর মেট্রোরেলের কম্পন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে ্পারে এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শনগুলোকে সুরক্ষা করেই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায় করার আগে সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক যাচাই করতে সরকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএম হকের নেতৃত্বে একটি জরিপকারী দল নিয়োগ করেছিল। এ দল দুই/এক দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে।

বর্তমান পরিকল্পনা পরিবর্তন না করে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে কমপক্ষে ঢাকা গেইট ভাঙ্গতে হবে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সংসদ ভবন, পুরান ঢাকার বিমানবন্দর, দোয়েল চত্বর, কদম ফোয়ারাসহ মতিঝিলের শাপলা চত্তর মেট্রোরেলের কম্পনে আক্রান্ত হবে। এছাড়া শব্দ ও বায়ূ দূষণের প্রভাব তো পড়বেই।

মেট্রোরেল প্রকল্পে ঐতিহাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ, মোগল আমলে নির্মিত মুসা খান মসজিদ ও এর সমাধি। শের-ই- বাংলা একে ফজলুল হক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিম উদ্দিন এ তিন নেতার সমাধিসৌধ, পুরোনো হাইকোর্ট ভবনের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, খাজা আম্বর মসজিদ, টিএসসির গ্রিক স্মৃতিসৌধ, ক্যামেরি হাউজের সিরডাপ, বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের মতো ৭৫ টি স্থাপনা ও ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে। এছাড়া বর্তমান মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সংসদ ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পসের স্থাপনা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

এ সম্পর্কে মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোফাজ্জাল বলেন, ‘সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার আগে পরামর্শদাতা নিয়োগ দিয়েছে জরিপ করার জন্য। জরিপকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতির প্রভাব নিরুপন করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জরিপকারীদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে দরপত্র আহবান করা হবে।’

উল্লেখ্য, উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘপথের কর্মমুখী মানুষের সময় বাঁচানোর জন্যই মেট্রোরেল প্রকল্প করা হয়েছে। পল্লবী, ফার্মগেট, শাহাবাগ, দোয়েল চত্ত্বর ও তোপখানা রোডসহ মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০২৪ সালে শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউএজ থেকে মোহাম্মদ রবিউল্লাহ

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More